পেঁয়াজের ঝাঁঝ
jugantor
পেঁয়াজের ঝাঁঝ

  মুহাম্মদ ইয়াকুব  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৫৪:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

পেঁয়াজের দোকানে যাচ্ছি না তিন সপ্তাহ হল। আজ সকাল থেকেই গিন্নী কানের কাছে ঘ্যানরঘ্যানর করছে, পেঁয়াজ লাগবে। রাগের সুরে বললাম, ‘পেঁয়াজ বাদ দাও- আপেল খাও।’
দ্বিগুণ রেগে গিয়ে গিন্নী উত্তরে বলল, ‘মাথার স্ক্রু ঠিক আছে? পেঁয়াজের কাজ কি আপেল দিয়ে সারা যায়!’ আমি বললাম, ‘এ কথা এখানে বলেছ ঠিক আছে, খবরদার বাইরে বলবা না!’
এদিকে আমার ত্রাহি অবস্থা! বাইরে পেঁয়াজের ঝাঁঝ, ঘরে বউয়ের ঝাঁঝ।

সারা দিন ঝাড়ি খেতে খেতে একটি স্বস্তির সংবাদ পড়লাম। সংসদে দায়িত্বশীল একজন মন্ত্রী বলেছেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল আছে। ফেসবুকে আবার মন্ত্রী মহোদয়কে নিয়ে ট্রল করা হচ্ছে। ট্রল দেখেও বিশ্বাস করলাম না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কেউ মিথ্যা বলতে পারেন না। আমাদের নেতা-নেত্রীদের প্রতি বরাবরই আমি আস্থাশীল।

সন্ধ্যায় বাজারে গেলাম। তিন সপ্তাহ আগের অভিজ্ঞতা ছিল- ৭০, ৮০, ৯০, ১০০ ও ১২০। দেখা যাক, আজকের অভিজ্ঞতা কেমন হয়। পেঁয়াজের দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘পেঁয়াজ কত?’
পরিচিত দোকানদার একগাল হেসে জবাব দিলেন, ‘সকালে ৩০ টাকায় বিক্রি করেছি স্যার, এখন ২০!’
শুনে ফুরফুরে মেজাজে বললাম, ‘পাঁচ কেজি দিন।’

দোকানদার অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার ভাব দেখে মনে হল, পৃথিবীর অষ্টমাশ্চর্য দেখছেন! আমি কিছুটা বিস্মিত। বললাম, ‘কী হল ভাই? এভাবে তাকিয়ে আছেন ক্যান?’
দোকানদার বললেন, ‘স্যার, এত পেঁয়াজ কী করবেন? সবাই বলছে দাম নাকি কমে যাবে। গত এক মাসের মধ্যে পাঁচ কেজি তো দূরের কথা- কেউ এক লগে দু’কেজি পেঁয়াজও কিনেনি।’
আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, ‘২০ টাকার চেয়েও কমে যাবে?’

এবার দোকানদার ভদ্রলোক একগাল হেসে জবাব দিলেন, ‘স্যার, ২০ টাকা মানে ১২০ টাকার কথা বলেছি। সকালে ১৩০ টাকায় বিক্রি করেছি!’
আমি তো আর নেই। অনেক কষ্টে উচ্চারণ করলাম, ‘তাহলে ২৫০ গ্রাম দিন।’
মেরেকেটে তবু ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ কিনতে পারার তৃপ্তিতে মনে মনে মন্ত্রী মহোদয়কে কৃতজ্ঞতা জানাতে লাগলাম। জয় হোক পেঁয়াজের!

পেঁয়াজের ঝাঁঝ

 মুহাম্মদ ইয়াকুব 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পেঁয়াজের দোকানে যাচ্ছি না তিন সপ্তাহ হল। আজ সকাল থেকেই গিন্নী কানের কাছে ঘ্যানরঘ্যানর করছে, পেঁয়াজ লাগবে। রাগের সুরে বললাম, ‘পেঁয়াজ বাদ দাও- আপেল খাও।’
দ্বিগুণ রেগে গিয়ে গিন্নী উত্তরে বলল, ‘মাথার স্ক্রু ঠিক আছে? পেঁয়াজের কাজ কি আপেল দিয়ে সারা যায়!’ আমি বললাম, ‘এ কথা এখানে বলেছ ঠিক আছে, খবরদার বাইরে বলবা না!’
এদিকে আমার ত্রাহি অবস্থা! বাইরে পেঁয়াজের ঝাঁঝ, ঘরে বউয়ের ঝাঁঝ।

সারা দিন ঝাড়ি খেতে খেতে একটি স্বস্তির সংবাদ পড়লাম। সংসদে দায়িত্বশীল একজন মন্ত্রী বলেছেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল আছে। ফেসবুকে আবার মন্ত্রী মহোদয়কে নিয়ে ট্রল করা হচ্ছে। ট্রল দেখেও বিশ্বাস করলাম না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কেউ মিথ্যা বলতে পারেন না। আমাদের নেতা-নেত্রীদের প্রতি বরাবরই আমি আস্থাশীল।

সন্ধ্যায় বাজারে গেলাম। তিন সপ্তাহ আগের অভিজ্ঞতা ছিল- ৭০, ৮০, ৯০, ১০০ ও ১২০। দেখা যাক, আজকের অভিজ্ঞতা কেমন হয়। পেঁয়াজের দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘পেঁয়াজ কত?’
পরিচিত দোকানদার একগাল হেসে জবাব দিলেন, ‘সকালে ৩০ টাকায় বিক্রি করেছি স্যার, এখন ২০!’
শুনে ফুরফুরে মেজাজে বললাম, ‘পাঁচ কেজি দিন।’

দোকানদার অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার ভাব দেখে মনে হল, পৃথিবীর অষ্টমাশ্চর্য দেখছেন! আমি কিছুটা বিস্মিত। বললাম, ‘কী হল ভাই? এভাবে তাকিয়ে আছেন ক্যান?’
দোকানদার বললেন, ‘স্যার, এত পেঁয়াজ কী করবেন? সবাই বলছে দাম নাকি কমে যাবে। গত এক মাসের মধ্যে পাঁচ কেজি তো দূরের কথা- কেউ এক লগে দু’কেজি পেঁয়াজও কিনেনি।’
আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, ‘২০ টাকার চেয়েও কমে যাবে?’

এবার দোকানদার ভদ্রলোক একগাল হেসে জবাব দিলেন, ‘স্যার, ২০ টাকা মানে ১২০ টাকার কথা বলেছি। সকালে ১৩০ টাকায় বিক্রি করেছি!’
আমি তো আর নেই। অনেক কষ্টে উচ্চারণ করলাম, ‘তাহলে ২৫০ গ্রাম দিন।’
মেরেকেটে তবু ২৫০ গ্রাম পেঁয়াজ কিনতে পারার তৃপ্তিতে মনে মনে মন্ত্রী মহোদয়কে কৃতজ্ঞতা জানাতে লাগলাম। জয় হোক পেঁয়াজের!