পড়ার টেবিলে একদিন
jugantor
পড়ার টেবিলে একদিন

  মো. ফেরদৌস আহাদি  

০৬ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫০:৫৩  |  অনলাইন সংস্করণ

জিসান পড়ার টেবিলে বসে আছে। লাস্ট সে কবে পড়ার টেবিলে বসেছে সেটা তার মেমোরিতে নাই। পড়তে বসে সে প্রথমে বাংলা বইয়ে হাত দিল। দু’একটা পাতা উল্টেপাল্টে এরপর ইংরেজি বই হাতে নিল। ইংরেজি তার মাথায় ঢুকে না। তাই সেটা রেখে এবার হাতে নিল অর্থনীতির বই।

অর্থনীতি তার কাছে ইংরেজির চেয়েও কঠিন লাগে। তারপর হাতে নিল আইসিটি বই। আইসিটি বই হাতে নেয়ার পর পড়তে শুরু করল। ফেসবুকের জনক মার্ক জাকারবার্গ। ফেসবুকের প্রসঙ্গ আসতেই তার হৃদয়ে একটা ধাক্কা খেল। কতক্ষণ যাবৎ সে ফেসবুক থেকে দূরে রয়েছে! পড়তে বসার আগে শপথ করেছিল, রাত এগারোটার আগে সে ফোন হাতে নিবে না।

মনকে অনেকভাবে বোঝাল। কিন্তু মন বুঝল না। আবার শপথ করল। দশ মিনিট। শুধু দশ মিনিট ফেসবুক চালাবে। দশ মিনিট শেষ হওয়ার পূর্বেই আবার পড়ায় ফিরে আসবে। ফেসবুকে লগ ইন করার পর দেখে তাকে ‘অবুঝ মেয়ে’ নামক একটি আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে। এ্যাকসেপ্ট করার জন্য ম্যাসেজও দিয়ে রেখেছে, প্লিজ এ্যাকসেপ্ট মাই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট।

জিসানের আইডিতে সপ্তাহে দুইটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টও আসে কি-না সন্দেহ। কেউ মেসেজ দেয়া তো পরের কথা। ‘অবুঝ মেয়ে’র মেসেজ দেখে জিসান আনন্দে আÍহারা। জিসান তৎক্ষণাৎ রিকোয়েস্ট এ্যাকসেপ্ট করে রিপ্লাই দিল। ধন্যবাদ, ধন্যবাদ, অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর জন্য। ‘অবুঝ মেয়ে’ উত্তর দিল, আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই।

জিসান ‘ভাই’ ডাক শুনে অবুঝ মেয়েকে সঙ্গে সঙ্গে আনফ্রেন্ড করে দিল। শুধু আনফ্রেন্ড নয়, সঙ্গে ব্লকও। কারণ জিসান সব শুনতে পারে; কিন্তু কোনো মেয়ের মুখে ‘ভাই’ ডাক শুনতে রাজি না। কারণ সে সিঙ্গেল। মনের দুঃখে জিসান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিল,
জীবনটা তেজপাতা
অভিশাপ দিলাম; যে মেয়েরা ডাকে আমাকে ভাই
চল্লিশোর্ধ্ব জামাই তাদের কপালে জুটুক!

স্ট্যাটাসে অবুঝ বালক কমেন্ট করেছে, সহমত ভাই!
বুঝ বালক কমেন্ট করেছে, সেরা ভাই সেরা!

সেরা ভাই সেরা কমেন্ট দেখে জিসান তাকেও ব্লক করে দিল। কারণ সে কবিও না লেখকও না যে তার স্ট্যাটাসে সেরা ভাই সেরা কমেন্ট করতে হবে। জিসান মনের দুঃখে ফেসবুক লগ আউট করে চলে গেল গুগলে। সার্চ করা শুরু করল। মেয়েরা কেন ছেলেদের ভাই বলে ডাকে? কিন্তু গুগল জিসানকে হতাশ করল। গুগল কোনো জবাব দিল না। জিসান দুঃখভরা মনকে খানিকটা সতেজ করতে চলে গেল ইউটিউবে।

কয়েকটা ফানি ভিডিও দেখার পরও তার মন ভালো হলো না। রাগের মাথায় চ্যানেলগুলোকে আনসাবস্ক্রাইব করে দিল। এবার শুরু করল মোটিভেশনাল ভিডিও দেখা। কয়েকটা মোটিভেশনাল ভিডিও দেখে জিসানের মনে কিছুটা শান্তি আসতে শুরু করল।

হঠাৎ জিসান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত বারোটা। আবারও হতাশ হয়ে পড়ল সে। কথা ছিল দশ মিনিট। কিন্তু এত রাত হলো কী করে! হিসাব মিলাতে পারছে না। আবার জিসান শপথ করল। আগামীকাল থেকে বারোটার আগে ফোন হাতে নিবো না। নিবো না। নিবো না।

নিকলী, কিশোরগঞ্জ।

পড়ার টেবিলে একদিন

 মো. ফেরদৌস আহাদি 
০৬ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জিসান পড়ার টেবিলে বসে আছে। লাস্ট সে কবে পড়ার টেবিলে বসেছে সেটা তার মেমোরিতে নাই। পড়তে বসে সে প্রথমে বাংলা বইয়ে হাত দিল। দু’একটা পাতা উল্টেপাল্টে এরপর ইংরেজি বই হাতে নিল। ইংরেজি তার মাথায় ঢুকে না। তাই সেটা রেখে এবার হাতে নিল অর্থনীতির বই।

অর্থনীতি তার কাছে ইংরেজির চেয়েও কঠিন লাগে। তারপর হাতে নিল আইসিটি বই। আইসিটি বই হাতে নেয়ার পর পড়তে শুরু করল।  ফেসবুকের জনক মার্ক জাকারবার্গ। ফেসবুকের প্রসঙ্গ আসতেই তার হৃদয়ে একটা ধাক্কা খেল। কতক্ষণ যাবৎ সে ফেসবুক থেকে দূরে রয়েছে! পড়তে বসার আগে শপথ করেছিল, রাত এগারোটার আগে সে ফোন হাতে নিবে না।

মনকে অনেকভাবে বোঝাল। কিন্তু মন বুঝল না। আবার শপথ করল। দশ মিনিট। শুধু দশ মিনিট ফেসবুক চালাবে। দশ মিনিট শেষ হওয়ার পূর্বেই আবার পড়ায় ফিরে আসবে। ফেসবুকে লগ ইন করার পর দেখে তাকে ‘অবুঝ মেয়ে’ নামক একটি আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে। এ্যাকসেপ্ট করার জন্য ম্যাসেজও দিয়ে রেখেছে, প্লিজ এ্যাকসেপ্ট মাই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট।

জিসানের আইডিতে সপ্তাহে দুইটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টও আসে কি-না সন্দেহ। কেউ মেসেজ দেয়া তো পরের কথা। ‘অবুঝ মেয়ে’র মেসেজ দেখে জিসান আনন্দে আÍহারা। জিসান তৎক্ষণাৎ রিকোয়েস্ট এ্যাকসেপ্ট করে রিপ্লাই দিল। ধন্যবাদ, ধন্যবাদ, অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর জন্য। ‘অবুঝ মেয়ে’ উত্তর দিল, আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই।

জিসান ‘ভাই’ ডাক শুনে অবুঝ মেয়েকে সঙ্গে সঙ্গে আনফ্রেন্ড করে দিল। শুধু আনফ্রেন্ড নয়, সঙ্গে ব্লকও। কারণ জিসান সব শুনতে পারে; কিন্তু কোনো মেয়ের মুখে ‘ভাই’ ডাক শুনতে রাজি না। কারণ সে সিঙ্গেল। মনের দুঃখে জিসান ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিল, 
জীবনটা তেজপাতা
অভিশাপ দিলাম; যে মেয়েরা ডাকে আমাকে ভাই
চল্লিশোর্ধ্ব জামাই তাদের কপালে জুটুক!

স্ট্যাটাসে অবুঝ বালক কমেন্ট করেছে, সহমত ভাই!
বুঝ বালক কমেন্ট করেছে, সেরা ভাই সেরা! 

সেরা ভাই সেরা কমেন্ট দেখে জিসান তাকেও ব্লক করে দিল। কারণ সে কবিও না লেখকও না যে তার স্ট্যাটাসে সেরা ভাই সেরা কমেন্ট করতে হবে। জিসান মনের দুঃখে ফেসবুক লগ আউট করে চলে গেল গুগলে। সার্চ করা শুরু করল। মেয়েরা কেন ছেলেদের ভাই বলে ডাকে? কিন্তু গুগল জিসানকে হতাশ করল। গুগল কোনো জবাব দিল না। জিসান দুঃখভরা মনকে খানিকটা সতেজ করতে চলে গেল ইউটিউবে। 

কয়েকটা ফানি ভিডিও দেখার পরও তার মন ভালো হলো না। রাগের মাথায় চ্যানেলগুলোকে আনসাবস্ক্রাইব করে দিল। এবার শুরু করল মোটিভেশনাল ভিডিও দেখা। কয়েকটা মোটিভেশনাল ভিডিও দেখে জিসানের মনে কিছুটা শান্তি আসতে শুরু করল। 

হঠাৎ জিসান ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত বারোটা। আবারও হতাশ হয়ে পড়ল সে। কথা ছিল দশ মিনিট। কিন্তু এত রাত হলো কী করে! হিসাব মিলাতে পারছে না। আবার জিসান শপথ করল। আগামীকাল থেকে বারোটার আগে ফোন হাতে নিবো না। নিবো না। নিবো না।

নিকলী, কিশোরগঞ্জ।