হৃদয় বিশেষজ্ঞ
jugantor
হৃদয় বিশেষজ্ঞ

  জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য  

০৬ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫৬:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

ডাক্তারের কাছে এসেছি। কিছুদিন ধরেই হৃদয়ঘটিত কিছু সমস্যা যাচ্ছে। একজন বলল, ‘এই ডাক্তার এসবের স্পেশালিস্ট!’ কাজেই ভাবলাম ঘুরে যাই।

ডাক্তার গম্ভীর গলায় বললেন, ‘আপনার সমস্যা কী খুলে বলেন।’

আমি দুঃখী এবং ব্যথায় কাতর গলায় আস্তে আস্তে বললাম, ‘বুক ধড়ফড় করে, প্রায়ই রাতে ঘুম হয় না, বদহজমের সমস্যাও আছে, সারাক্ষণ বুকের ভেতর জ্বালাপোড়া করে, আর মনে হয় কে যেন ভেতরে বসে হাতুড়ি পেটা করছে!’

ডাক্তার প্রশ্ন করলেন, ‘কবে থেকে এটা হচ্ছে? কখন বেশি হয় সাধারণত?’

আমি সরল গলায় জবাব দিলাম, ‘পাশের বাসায় যেদিন থেকে নতুন ভাড়াটিয়া আসছে সেদিন থেকে। ওনাদের ছোট ছেলেটাকে দেখার পর থেকেই এই অবস্থা! ছেলেটাকে দেখলেই হার্টবিট বেড়ে যায়, সে যখন সামনে দিয়ে যায় তখন এত জোরে বিট করে যে মনে হয় পাড়া-প্রতিবেশীও শুনে ফেলেছে! সে যখন আমার দিকে তাকিয়ে হাসে তখন দুই-একটা বিট মিসও করে যায়!

আর যেদিন দেখলাম ছেলেটা ফোনে গল্প করে আর কলেজ থেকে আসার পথে যেদিন ছেলেটাকে দেখলাম একটা মেয়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প করছে সেদিন থেকেই হৃদয়ের ব্যথায় বড় কাতর। রাতেই বেশি হয় ব্যথাটা। পেইনকিলার জাতীয় কিছু দেন!’

ডাক্তার বিরক্ত গলায় বললেন, ‘কী সব বলেন আবোলতাবোল! আমি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ! প্রেমের ডাক্তার না, আমার কাছে কেন আসছেন!’

আমি অবাক হয়ে চোখ কপালে তোলার ভান করতে করতে বললাম, ‘কী বলেন! আপনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আর প্রেমের চিকিৎসা করেন না! প্রেমের বাস তো হৃদয়েই! হৃদয়ের যা কিছু সমস্যা তৈরি হয় তাতো প্রেমে ছ্যাঁকা থেকেই! আপনি কেমন ডাক্তার! হৃদয়ের চিকিৎসা করতে গেলে আগে প্রেমের চিকিৎসা করতে হবে! তাছাড়া আমার হৃদয়ঘটিত সমস্যা তো আছেই! বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড় এসবের চিকিৎসা করেন!’

ডাক্তার চিন্তিত গলায় বলল, ‘সেক্ষেত্রে আপনি ওই ছেলেকে আপনার ভালোবাসার কথা জানান। দেখা যাচ্ছে ছেলে এমনিতেই কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলে, হয়তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিল ওটা তার বান্ধবী! বোনও হতে পারে। ভালোবাসার কথা না জানালে এসব শিওর হয়ে বলা যায় নাকি! আর আপাতত আপনাকে কিছু ওষুধ দিচ্ছি নিয়মিত খাবেন!’

আমি তাই করলাম, এক সুন্দর বিকালে গোধূলি বেলায় তাকে গিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম, ‘আমি আপনাকে ভালোবাসি সাগর ভাইয়া!’

সে খানিকক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে ধমকে জবাব দিল, ‘এইটুকু মেয়ে! এখনই প্রেম-ভালোবাসা করতে শিখে গেছ! শুধু তাই না আবার প্রপোজও করো! দাঁড়াও তোমার বাড়িতে খবর পাঠাচ্ছি! তাছাড়া আমার গার্লফ্রেন্ড আছে। জেনে নাও, তাকে ছাড়া অন্য কোনো মেয়ের ব্যাপারে আমি ভাবতেও পারি না!’

আমার তৎক্ষণাৎ হার্ট অ্যাটাক হল। আমাকে ধরাধরি করে নিয়ে যাওয়া হল সেই ডাক্তারের কাছেই। বুকে হাত রেখেই ডাক্তারকে ধমকের গলায় বললাম, ‘আপনার বুদ্ধি মেনে প্রপোজ করতে গিয়ে দেখেন কী হয়ে গেল! আমি আপনার ফিস দেবো না, ফ্রিতে অপারেশন করবেন, এইটাই আপনার শাস্তি! হৃদয়ের কিছু জানে না, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হইছে!’

ডাক্তার সাহেব লজ্জা পেয়ে মাথা নাড়লেন। ওই অবস্থাতেও আমি মনে মনে খুশিই হলাম, যাক! এত বড় হাসপাতালে অপারেশনটা ফ্রিতে করাতে পারছি তাহলে!

হৃদয় বিশেষজ্ঞ

 জান্নাতুল ফেরদৌস লাবণ্য 
০৬ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ডাক্তারের কাছে এসেছি। কিছুদিন ধরেই হৃদয়ঘটিত কিছু সমস্যা যাচ্ছে। একজন বলল, ‘এই ডাক্তার এসবের স্পেশালিস্ট!’ কাজেই ভাবলাম ঘুরে যাই।

ডাক্তার গম্ভীর গলায় বললেন, ‘আপনার সমস্যা কী খুলে বলেন।’

আমি দুঃখী এবং ব্যথায় কাতর গলায় আস্তে আস্তে বললাম, ‘বুক ধড়ফড় করে, প্রায়ই রাতে ঘুম হয় না, বদহজমের সমস্যাও আছে, সারাক্ষণ বুকের ভেতর জ্বালাপোড়া করে, আর মনে হয় কে যেন ভেতরে বসে হাতুড়ি পেটা করছে!’

ডাক্তার প্রশ্ন করলেন, ‘কবে থেকে এটা হচ্ছে? কখন বেশি হয় সাধারণত?’

আমি সরল গলায় জবাব দিলাম, ‘পাশের বাসায় যেদিন থেকে নতুন ভাড়াটিয়া আসছে সেদিন থেকে। ওনাদের ছোট ছেলেটাকে দেখার পর থেকেই এই অবস্থা! ছেলেটাকে দেখলেই হার্টবিট বেড়ে যায়, সে যখন সামনে দিয়ে যায় তখন এত জোরে বিট করে যে মনে হয় পাড়া-প্রতিবেশীও শুনে ফেলেছে! সে যখন আমার দিকে তাকিয়ে হাসে তখন দুই-একটা বিট মিসও করে যায়! 

আর যেদিন দেখলাম ছেলেটা ফোনে গল্প করে আর কলেজ থেকে আসার পথে যেদিন ছেলেটাকে দেখলাম একটা মেয়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প করছে সেদিন থেকেই হৃদয়ের ব্যথায় বড় কাতর। রাতেই বেশি হয় ব্যথাটা। পেইনকিলার জাতীয় কিছু দেন!’

ডাক্তার বিরক্ত গলায় বললেন, ‘কী সব বলেন আবোলতাবোল! আমি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ! প্রেমের ডাক্তার না, আমার কাছে কেন আসছেন!’

আমি অবাক হয়ে চোখ কপালে তোলার ভান করতে করতে বললাম, ‘কী বলেন! আপনি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আর প্রেমের চিকিৎসা করেন না! প্রেমের বাস তো হৃদয়েই! হৃদয়ের যা কিছু সমস্যা তৈরি হয় তাতো প্রেমে ছ্যাঁকা থেকেই! আপনি কেমন ডাক্তার! হৃদয়ের চিকিৎসা করতে গেলে আগে প্রেমের চিকিৎসা করতে হবে! তাছাড়া আমার হৃদয়ঘটিত সমস্যা তো আছেই! বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড় এসবের চিকিৎসা করেন!’

ডাক্তার চিন্তিত গলায় বলল, ‘সেক্ষেত্রে আপনি ওই ছেলেকে আপনার ভালোবাসার কথা জানান। দেখা যাচ্ছে ছেলে এমনিতেই কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলে, হয়তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিল ওটা তার বান্ধবী! বোনও হতে পারে। ভালোবাসার কথা না জানালে এসব শিওর হয়ে বলা যায় নাকি! আর আপাতত আপনাকে কিছু ওষুধ দিচ্ছি নিয়মিত খাবেন!’

আমি তাই করলাম, এক সুন্দর বিকালে গোধূলি বেলায় তাকে গিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম, ‘আমি আপনাকে ভালোবাসি সাগর ভাইয়া!’ 

সে খানিকক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে ধমকে জবাব দিল, ‘এইটুকু মেয়ে! এখনই প্রেম-ভালোবাসা করতে শিখে গেছ! শুধু তাই না আবার প্রপোজও করো! দাঁড়াও তোমার বাড়িতে খবর পাঠাচ্ছি! তাছাড়া আমার গার্লফ্রেন্ড আছে। জেনে নাও, তাকে ছাড়া অন্য কোনো মেয়ের ব্যাপারে আমি ভাবতেও পারি না!’

আমার তৎক্ষণাৎ হার্ট অ্যাটাক হল। আমাকে ধরাধরি করে নিয়ে যাওয়া হল সেই ডাক্তারের কাছেই। বুকে হাত রেখেই ডাক্তারকে ধমকের গলায় বললাম, ‘আপনার বুদ্ধি মেনে প্রপোজ করতে গিয়ে দেখেন কী হয়ে গেল! আমি আপনার ফিস দেবো না, ফ্রিতে অপারেশন করবেন, এইটাই আপনার শাস্তি! হৃদয়ের কিছু জানে না, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হইছে!’

ডাক্তার সাহেব লজ্জা পেয়ে মাথা নাড়লেন। ওই অবস্থাতেও আমি মনে মনে খুশিই হলাম, যাক! এত বড় হাসপাতালে অপারেশনটা ফ্রিতে করাতে পারছি তাহলে!