মোটু-পাতলুর ঈদ
jugantor
মোটু-পাতলুর ঈদ

  কাজী সুলতানুল আরেফিন      

২৯ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৩:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

আমার বন্ধু সোহরাব। অতিপুস্টিতে ভুগছে! আর আমি ভুগছি অপুষ্টিতে! সে দেখতে বেশ মোটা-তাজা। আমি পাতলু। গত কুরবানির ঈদে আমি আর সে পরিকল্পনা করেছিলাম সারাদিন এক সঙ্গে ঘুরব। অর্থাৎ আমরা দুজনই দুজনের আত্মীয়-স্বজনের বাসায় এক সঙ্গে যাব। কব্জি ডুবিয়ে মাংস খাব। আমি একটু বেশি খাব। কারণ আমাকে আরেকটু মোটা-তাজা হতে হবে! সোহরাব আরেকটু কম খাবে কারণ তাকে আরেকটু পাতলু হতে হবে!

সকালে গরু কুরবানি আর যাবতীয় কাজ সেরে বিকেলে আমরা ঘুরতে বের হলাম। প্রথমেই আমার ফুফুর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম দুই বন্ধু। সোহরাবের সাইজ দেখে রিকশাওয়ালারা ভাড়া তিনগুন, চারগুন বেশি চাইতে লাগল। আমি রিকশাওয়ালাদের বুঝাতে লাগলাম, সে মোটা হলেও আমি তো পাতলু! সুতরাং দুজনের সাইজ যোগ করে দুই দিয়ে ভাগ করলে দুজনেরই স্বাভাবিক সাইজ হয়ে যাবে! ভাড়া বেশি কেন দিতে হবে? রিকশাওয়ালাদের আচরণে সোহরাব কিছুটা লজ্জা পেল।

অবশেষে একজনকে দ্বিগুণ ভাড়ায় রাজি করালাম। ফুফুর বাসার সামনে নামতেই উপরের তলা থেকে কে যেন বলে উঠল, ‘মোটু-পাতলু আসছে, মোটু-পাতলু আসছে...!’ শুনে আমরা দুজনই লজ্জা পেলাম। আসলে আমি তার পাশে থাকায় মানুষের একটু বেশিই নজরে পড়ছিলাম। কারণ আমি ছিলাম বেশি পাতলু। আমি এবার সোহরাবকে বললাম, ‘কিছু মনে করার দরকার নেই, দুনিয়াতে শুধু তুই একাই মোটা আর আমি একাই পাতলু না!’

ফুফুরা নিচ তলায় থাকেন। ফুফুর বাসায় ঈদের আপ্যায়ন শেষে সোহরাবের খালার বাসায় গেলাম। ওর খালার বাসায় গিয়ে এবার আমি লজ্জা পেলাম। সোহরাবের খালাতো ভাই-বোন তার কাছে জানতে চাইল, ‘তোর বন্ধু এত পাতলু কেন? তোর মত হল না কেন?’ এভাবে আরও কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় গেলাম। এক একজনের এক এক মন্তব্য। আমার স্বজনরা বলে, ‘তোর বন্ধু এত মোটু কেন?’ আর সোহরাবের স্বজনরা বলে, ‘তোর বন্ধু এত পাতলু কেন?’

যে যা-ই মন্তব্য করুক না কেন, আমি কিন্তু পেট পুরে মাংস সাবাড় করেছি। সোহরাবের চাইতে বেশিই খেয়েছি।
অবশেষে ফিরতে ফিরতে সোহরাবকে বললাম, ‘আমি বেশি খেলেও নাম কিন্তু তোরই হয়েছে। কারণ তুই মোটু আর আমি পাতলু!’ আমার কথা শুনে সোহরাব মুখ ব্যাজার করে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল।

মোটু-পাতলুর ঈদ

 কাজী সুলতানুল আরেফিন     
২৯ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আমার বন্ধু সোহরাব। অতিপুস্টিতে ভুগছে! আর আমি ভুগছি অপুষ্টিতে! সে দেখতে বেশ মোটা-তাজা। আমি পাতলু।  গত কুরবানির ঈদে আমি আর সে পরিকল্পনা করেছিলাম সারাদিন এক সঙ্গে ঘুরব। অর্থাৎ আমরা দুজনই দুজনের আত্মীয়-স্বজনের বাসায় এক সঙ্গে যাব। কব্জি ডুবিয়ে মাংস খাব। আমি একটু বেশি খাব। কারণ আমাকে আরেকটু  মোটা-তাজা হতে হবে! সোহরাব আরেকটু কম খাবে কারণ তাকে আরেকটু পাতলু হতে হবে!

সকালে গরু কুরবানি আর যাবতীয় কাজ সেরে বিকেলে আমরা ঘুরতে বের হলাম। প্রথমেই আমার ফুফুর বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম দুই বন্ধু। সোহরাবের সাইজ দেখে রিকশাওয়ালারা ভাড়া তিনগুন, চারগুন বেশি চাইতে লাগল। আমি রিকশাওয়ালাদের বুঝাতে লাগলাম, সে মোটা হলেও আমি তো পাতলু! সুতরাং দুজনের সাইজ যোগ করে দুই দিয়ে ভাগ করলে দুজনেরই স্বাভাবিক সাইজ হয়ে যাবে! ভাড়া বেশি কেন দিতে হবে? রিকশাওয়ালাদের আচরণে  সোহরাব কিছুটা লজ্জা পেল।

অবশেষে একজনকে দ্বিগুণ ভাড়ায় রাজি করালাম। ফুফুর বাসার সামনে নামতেই উপরের তলা থেকে কে যেন বলে উঠল, ‘মোটু-পাতলু আসছে, মোটু-পাতলু আসছে...!’ শুনে আমরা দুজনই লজ্জা পেলাম। আসলে আমি তার পাশে থাকায় মানুষের একটু বেশিই নজরে পড়ছিলাম। কারণ আমি ছিলাম বেশি পাতলু। আমি এবার সোহরাবকে বললাম, ‘কিছু মনে করার দরকার নেই, দুনিয়াতে শুধু তুই একাই মোটা আর আমি একাই পাতলু না!’

ফুফুরা নিচ তলায় থাকেন। ফুফুর বাসায় ঈদের আপ্যায়ন শেষে সোহরাবের খালার বাসায় গেলাম। ওর খালার বাসায় গিয়ে এবার আমি লজ্জা পেলাম। সোহরাবের খালাতো ভাই-বোন তার কাছে জানতে চাইল, ‘তোর বন্ধু এত পাতলু  কেন? তোর মত হল না কেন?’ এভাবে আরও কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় গেলাম। এক একজনের এক এক মন্তব্য। আমার স্বজনরা বলে, ‘তোর বন্ধু এত মোটু কেন?’ আর সোহরাবের স্বজনরা বলে, ‘তোর বন্ধু এত পাতলু কেন?’  

যে যা-ই মন্তব্য করুক না কেন, আমি কিন্তু পেট পুরে মাংস সাবাড় করেছি। সোহরাবের চাইতে বেশিই খেয়েছি।
অবশেষে ফিরতে ফিরতে সোহরাবকে বললাম, ‘আমি বেশি খেলেও নাম কিন্তু তোরই হয়েছে। কারণ তুই মোটু আর আমি পাতলু!’ আমার কথা শুনে সোহরাব মুখ ব্যাজার করে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইল।