শেষরাতে বাইডেন ও ট্রাম্প মামা
jugantor
শেষরাতে বাইডেন ও ট্রাম্প মামা

  শায়ের খান  

০৩ নভেম্বর ২০২০, ২১:৪০:১১  |  অনলাইন সংস্করণ

বিপদটা এড়ানো যেত। যদি ট্রাম্প মামা রাতে বাসায় থেকে না যেতেন। ট্রাম্প মামাকে মনে আছে? ওই যে আমাদের চিকির বাসু মামা। ট্রাম্পের মত দেখতে। হাবভাবও। আরে ছানামুখির ভাই, ম্যাশ সাহেবের শালা। বিপদ ঘটিয়েছেন রাত আড়াইটায়। সন্ধ্যায় এসেছিলেন। রাতে থাকতে বলায় থেকে গেছেন। আর জিম্মিকারী ঢুকে গেছে তার ঘরে। জিম্মি করেছে মামাকে। ত্রিশ লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দেবে। বন্ধ দরজার এপাশে সবাই। ছানামুখি, চিকি, ম্যাশ, টল। একটা মাছ মারার ট্যাঁটা হাতে কাজের ছেলে নবাবও দাঁড়িয়ে আছে। ঘটনার শুরু হলো ছানামুখির চিৎকারে।

ছানামুখি : নাম কী লোকটার?

ট্রাম্প : জো বাইডেন। আমার অপোনেন্ট।

গুঞ্জন ওঠে। ম্যাশ ফিসফিসিয়ে বলেন।

ম্যাশ : সব্বোনাশ! আমার ফেবারিট!

চিকি : অথচ এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের পক্ষ নিতে হচ্ছে। মামার জন্য। মিস্টার টল, আপনি কিছু বলছেন না যে?
টল এ বাসার রেসিডেন্ট কেয়ারটেকার ও চিকির হার্ট থ্রব ভার্সিটি ক্লাসমেট। গলা খাঁকারি দিয়ে ট্রাম্প মামার উদ্দেশ্যে বলে।

টল : মিস্টার প্রেসিডেন্ট, জো বাইডেনের দেশের বাড়ি কোথায়?

ট্রাম্প : বাংলাদেশ।

ছানামুখি (ফিসফিসিয়ে) : ট্রাম্পু, তুই না বললি বাইডেন ছোটখাটো আর কোনও অস্ত্র নেই হাতে। তুলে একটা আছাড় মার।

ট্রাম্প : ওকে ধরা যাবে না বুবু।

ছানামুখি : ক্যান?

ট্রাম্প : ওর মুখেই শোন। বলো বাইডেন, তোমার নতুন শক্তিটা জানিয়ে দাও।

ফ্যাসফ্যাসে গলায় জো বাইডেন বলে, ‘আমি করোনা পজেটিভ। অ্যাসিম্পটোম্যাটিক। আমাকে ধরুক দেখি ওর চৌদ্দ গুষ্ঠির কত বড় সাহস?’

সবাই অস্ফুট স্বরে : প-জে-টি-ভ?

চিকি : সেজন্যই তো আমাদের চৌদ্দ গুষ্ঠি ধরে গালি দিচ্ছে। মামা, তোমার মাস্ক পরা আছে?

ছানামুখি : ও তো মাস্ক পরে না। ও না মাস্ক বিরোধী?

টল : মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনি জো বাইডেন থেকে অন্তত ১ মিটার বা ৩ ফিট দূরে থাকেন।

ছানামুখি : একটা কিক মেরে ওকে সরিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে আসতে পারিস না?

নবাব : ঠিক। আমার হাতে তো ট্যাডা আছেই।

বাইডেন : আসুক না কিক মারতে। জাপটায় ধরে ভাইরাস ছড়ায় দিবো না?

ম্যাশ : যদি পুলিশ ডাকি?

বাইডেন : একটা হাঁচি দিয়ে ট্রাম্পের বারোটা বাজিয়ে দেবো। ধুনফুন করার চেষ্টা করবেন না কেউ খবরদার।

ট্রাম্প (কাঁদো কাঁদো) : দু-লা-ভা-ই। বলটা এখন জো বাইডেনের কোর্টে। প্লিজ, ও যা বলছে তা-ই করো। টাকাটা দিয়ে দাও।

ম্যাশ : তোমার কি ক্যাশ লাগবে নাকি চেক দিলে চলবে বাইডেন?

বাইডেন : না না, চেকে-ফেকের ঝামেলায় যাবো না। অথবা ফেক চেকের। ক্যাশ দিয়ে দেন, বাসায় চলে যাই।

ম্যাশ : আমাকে একটু ভাবতে দাও।

ঘরের এ মাথা ও মাথা হাঁটাহাঁটি করেন বাড়ির কর্তা ম্যাশ সাহেব। ছানামুখি ফিসফিসিয়ে বলে, ‘অনুরোধ টনুরোধ করে একটা ফলস চেক গছিয়ে দেবে নাকি?’

ম্যাশ : আরেন্নাহ। নিজেই তো ফেক চেকের কথা বলল। অনলাইনেই জেনে নেবে চেকের খবর। বিপদে পড়বে স্নেহের শালা। কই কলম শিল্পী, আমি উপরে যাচ্ছি টাকা আনতে। তুমি বাইডেনকে শান্ত রাখো। যাকে ইলেকশনে সমর্থন দিচ্ছি, সে হয়েছে জিম্মিকারী! আর প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে জেতাতে পকেটের পয়সা খর্চা করছি। হায়রে জীবন!
উধাও হন ম্যাশ। টল উচ্চস্বরে বাইডেনকে বলে, ‘জো বাইডেন, আপনার টাকা আসছে। আর মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনি মাস্ক পরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।’

ম্যাশ ফিরে আসেন একটা বড়সড় শপিং ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে। দরজার সামনে রাখেন। চিকি অর্ডারি ভঙ্গিমায় বলে, ‘সবাই পেছনে সরে এসো। বাইডেন ব্যাগ নিয়ে দূর দিয়ে চলে যাক। টল আপনি বলে দিন।’

টল : মিস্টার বাইডেন। আপনার টাকা এসেছে। আপনি মাস্ক পরে বের হন। টাকার ব্যাগ নিয়ে সোজা চলে যান। দেয়াল বা দরজায় হাত-টাত দেবেন না।’
ঘ্যাঁচ করে দরজা খুলে যায়। রিল্যাক্স মুডে জো বাইডেনের বদলে স্বয়ং ট্রাম্প মামা বেরিয়ে আসেন। আস্তে করে টাকার ব্যাগটা হাতে নেন।

ছানামুখি : একি তুই?

ম্যাশ : বাইডেন কোথায়?

শান্ত ট্রাম্প মামা।

ট্রাম্প : দুলাভাই, গত সপ্তাহে তোমার কাছে ২০ লাখ টাকা লোন চেয়েছিলাম, দাওনি। টাকাটা খুব জরুরি। আই অ্যাম আ বিজনেসম্যান ইউ নো। এটা নিয়ে যাচ্ছি। আগামি সপ্তাহে তোমার আর বুবুর ফ্লোরিডা ট্রিপসহ টাকাটা ফেরত পাবে।

চিকি + টল : কিন্তু জো বাইডেন?

ট্রাম্প : কিসের জো ফো? আমিই গলার ভয়েস পাল্টে পাল্টে একবার বাইডেন আরেকবার আমার মত কথা বলেছি। টাকাটার জন্য এই চালাকিটা আমাকে করতে হয়েছে।
ব্যাগ হাতে ধীর স্থির ট্রাম্প মামা বাইরের দিকে হাঁটা দেন। সবার মুখ হা হয়ে যায় সদ্য নির্বাচনে হারা অন্ধ ভক্তদের মত। ছানামুখি ফিসফিসিয়ে বলে, ‘কী ঠান্ডা মাথার চালাক। এবারের নির্বাচনেও ও জিতবে তোরা দেখে নিস।’

শেষরাতে বাইডেন ও ট্রাম্প মামা

 শায়ের খান 
০৩ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিপদটা এড়ানো যেত। যদি ট্রাম্প মামা রাতে বাসায় থেকে না যেতেন। ট্রাম্প মামাকে মনে আছে? ওই যে আমাদের চিকির বাসু মামা। ট্রাম্পের মত দেখতে। হাবভাবও। আরে ছানামুখির ভাই, ম্যাশ সাহেবের শালা। বিপদ ঘটিয়েছেন রাত আড়াইটায়। সন্ধ্যায় এসেছিলেন। রাতে থাকতে বলায় থেকে গেছেন। আর জিম্মিকারী ঢুকে গেছে তার ঘরে। জিম্মি করেছে মামাকে। ত্রিশ লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দেবে। বন্ধ দরজার এপাশে সবাই। ছানামুখি, চিকি, ম্যাশ, টল। একটা মাছ মারার ট্যাঁটা হাতে কাজের ছেলে নবাবও দাঁড়িয়ে আছে। ঘটনার শুরু হলো  ছানামুখির চিৎকারে। 

ছানামুখি : নাম কী লোকটার? 

ট্রাম্প : জো বাইডেন। আমার অপোনেন্ট। 

গুঞ্জন ওঠে। ম্যাশ ফিসফিসিয়ে বলেন।

ম্যাশ : সব্বোনাশ! আমার ফেবারিট!  

চিকি : অথচ এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের পক্ষ নিতে হচ্ছে। মামার জন্য। মিস্টার টল, আপনি কিছু বলছেন না যে?
টল এ বাসার রেসিডেন্ট কেয়ারটেকার ও চিকির হার্ট থ্রব ভার্সিটি ক্লাসমেট। গলা খাঁকারি দিয়ে ট্রাম্প মামার উদ্দেশ্যে বলে।

টল :  মিস্টার প্রেসিডেন্ট, জো বাইডেনের দেশের বাড়ি কোথায়?

ট্রাম্প : বাংলাদেশ।

ছানামুখি (ফিসফিসিয়ে) : ট্রাম্পু, তুই না বললি বাইডেন ছোটখাটো আর কোনও অস্ত্র নেই হাতে। তুলে একটা আছাড় মার।

ট্রাম্প : ওকে ধরা যাবে না বুবু।

ছানামুখি : ক্যান?

ট্রাম্প : ওর মুখেই শোন। বলো বাইডেন, তোমার নতুন শক্তিটা জানিয়ে দাও।

ফ্যাসফ্যাসে গলায় জো বাইডেন বলে, ‘আমি করোনা পজেটিভ। অ্যাসিম্পটোম্যাটিক। আমাকে ধরুক দেখি ওর চৌদ্দ গুষ্ঠির কত বড় সাহস?’

সবাই অস্ফুট স্বরে :  প-জে-টি-ভ?

চিকি : সেজন্যই তো আমাদের চৌদ্দ গুষ্ঠি ধরে গালি দিচ্ছে। মামা, তোমার মাস্ক পরা আছে? 

ছানামুখি : ও তো মাস্ক পরে না। ও না মাস্ক বিরোধী?

টল : মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনি জো বাইডেন থেকে অন্তত ১ মিটার বা ৩ ফিট দূরে থাকেন।

ছানামুখি : একটা কিক মেরে ওকে সরিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে আসতে পারিস না?

নবাব : ঠিক। আমার হাতে তো ট্যাডা আছেই। 

বাইডেন : আসুক না কিক মারতে। জাপটায় ধরে ভাইরাস ছড়ায় দিবো না?

ম্যাশ : যদি পুলিশ ডাকি?

বাইডেন : একটা হাঁচি দিয়ে ট্রাম্পের বারোটা বাজিয়ে দেবো। ধুনফুন করার চেষ্টা করবেন না কেউ খবরদার। 

ট্রাম্প (কাঁদো কাঁদো) : দু-লা-ভা-ই। বলটা এখন জো বাইডেনের কোর্টে। প্লিজ, ও যা বলছে তা-ই করো। টাকাটা দিয়ে দাও। 

ম্যাশ : তোমার কি ক্যাশ লাগবে নাকি চেক দিলে চলবে বাইডেন?

বাইডেন : না না, চেকে-ফেকের ঝামেলায় যাবো না। অথবা ফেক চেকের। ক্যাশ দিয়ে দেন, বাসায় চলে যাই।

ম্যাশ : আমাকে একটু ভাবতে দাও। 

ঘরের এ মাথা ও মাথা হাঁটাহাঁটি করেন বাড়ির কর্তা ম্যাশ সাহেব। ছানামুখি ফিসফিসিয়ে বলে, ‘অনুরোধ টনুরোধ করে একটা ফলস চেক গছিয়ে দেবে নাকি?’ 

ম্যাশ : আরেন্নাহ। নিজেই তো ফেক চেকের কথা বলল। অনলাইনেই জেনে নেবে চেকের খবর। বিপদে পড়বে  স্নেহের শালা। কই কলম শিল্পী, আমি উপরে যাচ্ছি টাকা আনতে। তুমি বাইডেনকে শান্ত রাখো। যাকে ইলেকশনে সমর্থন দিচ্ছি, সে হয়েছে জিম্মিকারী! আর প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে জেতাতে পকেটের পয়সা খর্চা করছি। হায়রে জীবন! 
উধাও হন ম্যাশ। টল উচ্চস্বরে বাইডেনকে বলে, ‘জো বাইডেন, আপনার টাকা আসছে। আর মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আপনি মাস্ক পরে  নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।’

ম্যাশ ফিরে আসেন একটা বড়সড় শপিং ব্যাগ ভর্তি টাকা নিয়ে। দরজার সামনে রাখেন। চিকি অর্ডারি ভঙ্গিমায় বলে, ‘সবাই পেছনে সরে এসো। বাইডেন ব্যাগ নিয়ে দূর দিয়ে চলে যাক। টল আপনি বলে দিন।’ 

টল : মিস্টার বাইডেন। আপনার টাকা এসেছে। আপনি মাস্ক পরে বের হন। টাকার ব্যাগ নিয়ে সোজা চলে যান। দেয়াল বা দরজায় হাত-টাত দেবেন না।’
ঘ্যাঁচ করে দরজা খুলে যায়। রিল্যাক্স মুডে জো বাইডেনের বদলে স্বয়ং ট্রাম্প মামা বেরিয়ে আসেন। আস্তে করে টাকার ব্যাগটা হাতে নেন। 

ছানামুখি : একি তুই? 

ম্যাশ : বাইডেন কোথায়?

শান্ত ট্রাম্প মামা। 

ট্রাম্প : দুলাভাই, গত সপ্তাহে তোমার কাছে ২০ লাখ টাকা লোন চেয়েছিলাম, দাওনি। টাকাটা খুব জরুরি। আই অ্যাম আ বিজনেসম্যান ইউ নো। এটা নিয়ে যাচ্ছি। আগামি সপ্তাহে তোমার আর বুবুর ফ্লোরিডা ট্রিপসহ টাকাটা ফেরত পাবে।

চিকি + টল : কিন্তু জো বাইডেন?

ট্রাম্প : কিসের জো ফো? আমিই গলার ভয়েস পাল্টে পাল্টে একবার বাইডেন আরেকবার আমার মত কথা বলেছি। টাকাটার জন্য এই চালাকিটা আমাকে করতে হয়েছে।
ব্যাগ হাতে ধীর স্থির ট্রাম্প মামা বাইরের দিকে হাঁটা দেন। সবার মুখ হা হয়ে যায় সদ্য নির্বাচনে হারা অন্ধ ভক্তদের মত। ছানামুখি ফিসফিসিয়ে বলে, ‘কী ঠান্ডা মাথার চালাক। এবারের নির্বাচনেও ও জিতবে তোরা  দেখে নিস।’