টিকটক বিড়ম্বনা
jugantor
টিকটক বিড়ম্বনা

  মো. আরিফুল ইসলাম আকাশ  

০৩ নভেম্বর ২০২০, ২২:২৩:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা থেকেই আমাদের শহরে বসবাস। একবার গ্রীষ্মের ছুটিতে নানার বাড়ি বেড়াতে এলাম। শহর ছেড়ে গ্রামে এসে ভালো-ই লাগছিল। একদিন দুপুরবেলা গরমের মধ্যে নানার আম বাগানে গিয়ে বসলাম। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ। গরমে অবস্থা চরমে!

তার ওপর নেট কানেকশন নেই বললেই চলে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে ডাটা অন করেই দেখি, নেট কানেকশন উঁকিঝুঁকি মারছে! এ যেন মেঘ না চাইতেই জল। আমি তো আহ্লাদে ষোলখানা! মানে আটখানার দ্বিগুণ অবস্থা! বেশ কিছু দিন ধরে টিকটক করিনি। তাই আয়েশি আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম। আর অমনি গাছের ওপর থেকে এক ছন্নছাড়া কাক প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে বসল!

ঠিক আমার মাথার ওপর। চারপাশে এক নজর দেখে নিলাম। কেউ আবার দেখেনি তো! কথায় বলে- যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই রাত হয়। মামাতো বোনের বান্ধবী কলি আমাকে দেখে খিলখিল করে হেসে দিল। কলির হাতে মোবাইল। আচ্ছা, কলি আবার ছবি তোলেনি তো! আমি কোনো রকম পাশের পুকুর থেকে পরিষ্কার হয়ে এলাম। এসেই বদমাশ কাকটাকে এলাকা ছাড়া করলাম। সে দিন আর টিকটক না করেই বাগান ত্যাগ করলাম। মুডটাই নষ্ট করে দিল বদমাশ কাক!

০২.

কাঁঠাল খেয়ে গরমে ঘেমে উদাস হয়ে বসেছিলাম। একদম নব্বই দশকের মানুষের মতো। হঠাৎ-ই মনে পড়ে গেল, আম বাগানে তো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। তাই নির্জন দুপুরে একা একা চলে গেলাম নানার সেই আম বাগানে। নেট কানেকশনও পেয়ে গেলাম। খুশিতে গদগদ অবস্থা আমার। ফাঁকে একনজর চারপাশের গাছগুলোয় চোখ বুলিয়ে নিই। মনে হচ্ছে, আজ কোনো হতচ্ছাড়া কাক নেই। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে টিকটক করা শুরু করলাম। সামনে একটা রোমান্টিক ভিডিও পেয়ে সেটা-ই করতে শুরু করলাম।

হঠাৎ হিজিবিজি শব্দ শুনে চোখ তুলে তাকালাম। দেখি নানা-নানি, ছোট মামা, বড় মামি, মামাতো বোন বিজলি ও মামাতো ভাই অর্ক আসছে আমার দিকে। তাদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। টিকটক করা বাদ দিয়ে মোবাইলটা হাতে নিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম- নিশ্চয়-ই আমার বাবা বা মায়ের কিছু হয়েছে, তাই হয়তো খবর দিতে আসছে এভাবে দলবেঁধে।

ঠিক এমন সময় গাছ থেকে একটা ঢাউস আম এসে পড়ল আমার ঠিক মাথার ওপর! অমনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি আমি। যখন আমার জ্ঞান ফিরল, দেখি আমার মাথার পাশে বসে আছেন একজন ইয়া বড় বড় দাড়ি-গোঁফওয়ালা ফকির। তার পাশে বসে আছেন নানা-নানি, মামা-মামিরা, মামাতো ভাই ও বোনরা। বাজারে পকেটমার ধরা পড়লে আমজনতা যেভাবে ঘিরে ধরে, ঠিক সেভাবেই আমাকে ঘিরে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। আমি চোখ খোলার পর ফকির বলে উঠলেন, ‘এখন আর ভয় নেই। বদ জ্বিনে আছর করছিল, দূরে সরিয়ে দিয়েছি। দেরি না করে টাকা নিয়ে আসেন। দশ হাজার এক টাকা!’

ফকিরের কথা শুনে আমি তো রেগে আগুন। আমার মাথার ওপর আম পড়েছে, তাই জ্ঞান হারালাম। আর এ ব্যাটা ফকির বলে কী! উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে দশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে! এদিকে কাউকে কিছু বলছিও না। কারণ আমি এখানকার মেহমান। কিন্তু আমার চোখ থেকে যেন রাগে আগুন ঝরছিল।

‘কই দশ হাজার এক টাকা দ্যান না কেন! চোখের দিকে চাইয়া দেহেন না কেমন জ্বলে। আরও একটা তাবিজ দেওন লাগব!’ ফকির আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে নানাজানকে তাড়া দেন।

টিকটক বিড়ম্বনা

 মো. আরিফুল ইসলাম আকাশ 
০৩ নভেম্বর ২০২০, ১০:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা থেকেই আমাদের শহরে বসবাস। একবার গ্রীষ্মের ছুটিতে নানার বাড়ি বেড়াতে এলাম। শহর ছেড়ে গ্রামে এসে ভালো-ই লাগছিল। একদিন দুপুরবেলা গরমের মধ্যে নানার আম বাগানে গিয়ে বসলাম। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ। গরমে অবস্থা চরমে!

তার ওপর নেট কানেকশন নেই বললেই চলে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে ডাটা অন করেই দেখি, নেট কানেকশন উঁকিঝুঁকি মারছে! এ যেন মেঘ না চাইতেই জল। আমি তো আহ্লাদে ষোলখানা! মানে আটখানার দ্বিগুণ অবস্থা! বেশ কিছু দিন ধরে টিকটক করিনি। তাই আয়েশি আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম। আর অমনি গাছের ওপর থেকে এক ছন্নছাড়া কাক প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে বসল!

ঠিক আমার মাথার ওপর। চারপাশে এক নজর দেখে নিলাম। কেউ আবার দেখেনি তো! কথায় বলে- যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই রাত হয়। মামাতো বোনের বান্ধবী কলি আমাকে দেখে খিলখিল করে হেসে দিল। কলির হাতে মোবাইল। আচ্ছা, কলি আবার ছবি তোলেনি তো! আমি কোনো রকম পাশের পুকুর থেকে পরিষ্কার হয়ে এলাম। এসেই বদমাশ কাকটাকে এলাকা ছাড়া করলাম। সে দিন আর টিকটক না করেই বাগান ত্যাগ করলাম। মুডটাই নষ্ট করে দিল বদমাশ কাক!

০২.

কাঁঠাল খেয়ে গরমে ঘেমে উদাস হয়ে বসেছিলাম। একদম নব্বই দশকের মানুষের মতো। হঠাৎ-ই মনে পড়ে গেল, আম বাগানে তো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। তাই নির্জন দুপুরে একা একা চলে গেলাম নানার সেই আম বাগানে। নেট কানেকশনও পেয়ে গেলাম। খুশিতে গদগদ অবস্থা আমার। ফাঁকে একনজর চারপাশের গাছগুলোয় চোখ বুলিয়ে নিই। মনে হচ্ছে, আজ কোনো হতচ্ছাড়া কাক নেই। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে টিকটক করা শুরু করলাম। সামনে একটা রোমান্টিক ভিডিও পেয়ে সেটা-ই করতে শুরু করলাম।

হঠাৎ হিজিবিজি শব্দ শুনে চোখ তুলে তাকালাম। দেখি নানা-নানি, ছোট মামা, বড় মামি, মামাতো বোন বিজলি ও মামাতো ভাই অর্ক আসছে আমার দিকে। তাদের চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ। টিকটক করা বাদ দিয়ে মোবাইলটা হাতে নিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম- নিশ্চয়-ই আমার বাবা বা মায়ের কিছু হয়েছে, তাই হয়তো খবর দিতে আসছে এভাবে দলবেঁধে।

ঠিক এমন সময় গাছ থেকে একটা ঢাউস আম এসে পড়ল আমার ঠিক মাথার ওপর! অমনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি আমি। যখন আমার জ্ঞান ফিরল, দেখি আমার মাথার পাশে বসে আছেন একজন ইয়া বড় বড় দাড়ি-গোঁফওয়ালা ফকির। তার পাশে বসে আছেন নানা-নানি, মামা-মামিরা, মামাতো ভাই ও বোনরা। বাজারে পকেটমার ধরা পড়লে আমজনতা যেভাবে ঘিরে ধরে, ঠিক সেভাবেই আমাকে ঘিরে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। আমি চোখ খোলার পর ফকির বলে উঠলেন, ‘এখন আর ভয় নেই। বদ জ্বিনে আছর করছিল, দূরে সরিয়ে দিয়েছি। দেরি না করে টাকা নিয়ে আসেন। দশ হাজার এক টাকা!’

ফকিরের কথা শুনে আমি তো রেগে আগুন। আমার মাথার ওপর আম পড়েছে, তাই জ্ঞান হারালাম। আর এ ব্যাটা ফকির বলে কী! উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে দশ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে! এদিকে কাউকে কিছু বলছিও না। কারণ আমি এখানকার মেহমান। কিন্তু আমার চোখ থেকে যেন রাগে আগুন ঝরছিল।

‘কই দশ হাজার এক টাকা দ্যান না কেন! চোখের দিকে চাইয়া দেহেন না কেমন জ্বলে। আরও একটা তাবিজ দেওন লাগব!’ ফকির আমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে নানাজানকে তাড়া দেন।