কৌতুক দিবস
jugantor
মলাট বৃত্তান্ত
কৌতুক দিবস

  সত্যজিৎ বিশ্বাস  

০১ জুলাই ২০২১, ২১:০৩:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

আসুন কৌতুক দিয়েই শুরু করি। এক বন্ধু অন্য বন্ধুকে বলল, ‘দোস্ত, পহেলা জুলাই নাকি কৌতুক দিবস!’ দ্বিতীয় বন্ধু বলল, ‘কে কইল তোরে?’
‘গুগুল সার্চ কইরা দেখ, পহেলা জুলাই জোকস আইমিন কৌতুক দিবস।’

‘আরে ধুর! তুই যে কোনো বাঙালিরে সার্চ কইরা দেখ, বছরের প্রতিটা দিনই তাদের কাছে কৌতুক দিবস! বাঙালির জীবন এত কৌতুকময় যে আলাদা করে দিবসের প্রয়োজন নেই আর!’

বাঙালি রসিক জাতি। চান্স পেলেই খোঁচাতে খোঁচাতে দগদগে ‘র-শিক’ প্রবেশ করিয়ে দিয়ে হা হা হি হি তে গড়িয়ে পড়তে সময় নেয় না। সেটা পাড়ার চায়ের দোকানে বসেই হোক কিংবা আড্ডার টেবিলেই হোক বাঙালির কথায় কথায় রস গড়িয়ে পড়বেই। সেই রস কুড়াতে কোনো বিশেষ দিবস লাগে? নগরবাসীর দিন শুরুই হয় রসিকতা দিয়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে, পানির পাইপ দিয়ে কী বের হয়ে আসে-বাতাস নাকি পানি?

বিশ্বজয় করে হাসি মুখে বের হওয়ার পর নজর আসে গ্যাসের চুলায়। গ্যাস তো গ্যাস নয়, কখনো কখনো যেন ডুমুরের ফুল! গ্যাসবাবু চটে গেলেই সর্বনাশ। জানেন তো, গ্যাসই জীবন। জানেন না? জেনে নিন তবে পুরুষের পরীক্ষা নারীতে! নারীর পরীক্ষা হাঁড়িতে! হাঁড়ির পরীক্ষা রান্নাঘরে! রান্নাঘরের পরীক্ষা চুলায় করে! চুলার পরীক্ষা আগুন নেয় ভালোবেসে! আগুনের পরীক্ষা গ্যাসে অবশেষে!
অবশ্য জীবনে পরীক্ষা নেই কোথায়? প্রতিটি পদক্ষেপে পরীক্ষা দিতে দিতে জীবন বাংলা সিনেমার শাবানার চেয়েও খারাপ হয়ে ওঠে প্রায়ই।

তার ওপর আবার না আছে জসিম, না আছে সেলাই মেশিন, না আছে চালানোর মতো ঠেলাগাড়ি! যা ঠেলে নিমিষেই বড়লোক হয়ে যাওয়া যায়!

তবে আর কিছু না থাকলেও শহর-নগর, গ্রামে-গঞ্জে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কৌতুক। এক কবি প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে শীতকালে গ্রামে গিয়েছেন। মেঠো পথে হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের এক লোকের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। কবি বললেন, ‘সূর্যের সোনা রং কেমন একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ছে আকাশের নিটোল নীল যৌবনদীপ্ত অঙ্গে। লাখ লাখ শিশির বিন্দু কেমন মুক্তোর মতোন ছড়িয়ে আছে গ্রাম জুড়ে থাকা সবুজ রঙা শাড়িতে। আহ্, তোমরা কী ভাগ্যবান! এই দৃশ্য রোজই দেখতে পাও, তাই না?’
গ্রামের লোকটি কবির দিকে ভালো করে তাকিয়ে বললেন, ‘জি না, আজই প্রথম দেখলাম।’

‘কী এমন দৃশ্য আজই দেখলে?’
‘না মানে, এমন আজব চিজ!’
কৌতুক বা জোকস হলো তিন অক্ষরের এক দুর্দান্ত ধাঁধা। যার শেষের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘জোক’, মাঝের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘জোস’ আর প্রথম অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘কস’। কোনো একটা কনটেন্টকে জোঁকের মতো চেপে ধরে তার রস বা কষ বের করতে করতে জোস উপস্থাপনাই হলো জোকস।

এ সূত্র মাথায় গেঁথে গেঁথেই ফেললাম একটা জোকস। তারপর লাফাতে লাফাতে ডাকলাম প্রিয় বন্ধুকে।
‘দোস্ত, একটা জোকস লিখেছি, শুনবি?’
‘হা হা হা, হো হো হো, হি হি হি...!’
‘কী হলো? জোকসই তো বলিনি। আগেই এত হাসছিস কেন?’
‘যা বললি, তারচেয়ে আরও বেশি হাসির জোকস হতে পারে!’

এ তো গেল লেখার কথা। স্কুল জীবনে প্রথম জোকস বলতে গিয়েও কম নাকাল হইনি। ছেলেবেলায় আমি যে শুধু ডানপিটে ছিলাম তা নয়, বামপিঠেও ছিলাম। স্কুলের স্যারদের অনেক বেতের বাড়ি অনায়েসে বাড়ি বয়ে নিতে পারতাম। অবশ্য পিঠের থেকে পেটের দিকেই নজর ছিল বেশি। যারা যারা স্কুল বার্ষিক আয়োজনে পারফর্ম করবে তাদেরকে কেক কেটে খাওয়ানো হবে শুনে দাঁড়িয়ে গেলাম স্টেজে।

জীবনে প্রথম জোকস বলব বলে স্টেজে উঠেছি। নার্ভাসনেসের কারণে কোনো দিকে না তাকিয়ে হড়বড় করে বলে গেলাম, শিখে আসা জোকস। পুরো জোকস না থেমে শেষ করার আনন্দে হাসতে হাসতে দর্শকের দিকে তাকিয়ে দেখি তারা অপেক্ষা করছে, হাসির অংশটুকু শোনার আশায়!

সেই দর্শকদের মতো নির্দয় না হয়ে কৌতুক বা জোকস শুনে হাসুন। হাসিতে বাঁচুন। হাসলে নির্মল আনন্দ লাভ হয়।

পার্কের সেই ভিক্ষুকের মতো আবেদন জানিয়ে আজ এখানেই থামি। জোকস দিবসে পার্কে বসে জোকস পড়ছিলেন আর হো হো করে হাসছিলেন জামান সাহেব।
ভিক্ষুক : বাবা, দুইডা ভিক্ষা দ্যান।

জামান সাহেব : সারাটা জীবন তো দুইডা ভিক্ষাই চেয়ে গেলে। আজ যে ‘জোকস দিবস’ তা জানো?
ভিক্ষুক : না বাবা, জানতাম না। তয়, আইজ দুইডা জোকসই দ্যান!

মলাট বৃত্তান্ত

কৌতুক দিবস

 সত্যজিৎ বিশ্বাস 
০১ জুলাই ২০২১, ০৯:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আসুন কৌতুক দিয়েই শুরু করি। এক বন্ধু অন্য বন্ধুকে বলল, ‘দোস্ত, পহেলা জুলাই নাকি কৌতুক দিবস!’ দ্বিতীয় বন্ধু বলল, ‘কে কইল তোরে?’
‘গুগুল সার্চ কইরা দেখ, পহেলা জুলাই জোকস আইমিন কৌতুক দিবস।’

‘আরে ধুর! তুই যে কোনো বাঙালিরে সার্চ কইরা দেখ, বছরের প্রতিটা দিনই তাদের কাছে কৌতুক দিবস! বাঙালির জীবন এত কৌতুকময় যে আলাদা করে দিবসের প্রয়োজন নেই আর!’  

বাঙালি রসিক জাতি। চান্স পেলেই খোঁচাতে খোঁচাতে দগদগে ‘র-শিক’ প্রবেশ করিয়ে দিয়ে হা হা হি হি তে গড়িয়ে পড়তে সময় নেয় না। সেটা পাড়ার চায়ের দোকানে বসেই হোক কিংবা আড্ডার টেবিলেই হোক বাঙালির কথায় কথায় রস গড়িয়ে পড়বেই। সেই রস কুড়াতে কোনো বিশেষ দিবস লাগে? নগরবাসীর দিন শুরুই হয় রসিকতা দিয়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমে খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে, পানির পাইপ দিয়ে কী বের হয়ে আসে-বাতাস নাকি পানি?

বিশ্বজয় করে হাসি মুখে বের হওয়ার পর নজর আসে গ্যাসের চুলায়। গ্যাস তো গ্যাস নয়, কখনো কখনো যেন ডুমুরের ফুল! গ্যাসবাবু চটে গেলেই সর্বনাশ। জানেন তো, গ্যাসই জীবন। জানেন না? জেনে নিন তবে পুরুষের পরীক্ষা নারীতে! নারীর পরীক্ষা হাঁড়িতে! হাঁড়ির পরীক্ষা রান্নাঘরে! রান্নাঘরের পরীক্ষা চুলায় করে! চুলার পরীক্ষা আগুন নেয় ভালোবেসে! আগুনের পরীক্ষা গ্যাসে অবশেষে!
অবশ্য জীবনে পরীক্ষা নেই কোথায়? প্রতিটি পদক্ষেপে পরীক্ষা দিতে দিতে জীবন বাংলা সিনেমার শাবানার চেয়েও খারাপ হয়ে ওঠে প্রায়ই।

তার ওপর আবার না আছে জসিম, না আছে সেলাই মেশিন, না আছে চালানোর মতো ঠেলাগাড়ি! যা ঠেলে নিমিষেই বড়লোক হয়ে যাওয়া যায়!      

তবে আর কিছু না থাকলেও শহর-নগর, গ্রামে-গঞ্জে আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কৌতুক। এক কবি প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে শীতকালে গ্রামে গিয়েছেন। মেঠো পথে হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের এক লোকের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। কবি বললেন, ‘সূর্যের সোনা রং কেমন একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ছে আকাশের নিটোল নীল যৌবনদীপ্ত অঙ্গে। লাখ লাখ শিশির বিন্দু কেমন মুক্তোর মতোন ছড়িয়ে আছে গ্রাম জুড়ে থাকা সবুজ রঙা শাড়িতে। আহ্, তোমরা কী ভাগ্যবান! এই দৃশ্য রোজই দেখতে পাও, তাই না?’  
গ্রামের লোকটি কবির দিকে ভালো করে তাকিয়ে বললেন, ‘জি না, আজই প্রথম দেখলাম।’

‘কী এমন দৃশ্য আজই দেখলে?’
‘না মানে, এমন আজব চিজ!’
কৌতুক বা জোকস হলো তিন অক্ষরের এক দুর্দান্ত ধাঁধা। যার শেষের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘জোক’, মাঝের অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘জোস’ আর প্রথম অক্ষর বাদ দিলে হয় ‘কস’। কোনো একটা কনটেন্টকে জোঁকের মতো চেপে ধরে তার রস বা কষ বের করতে করতে জোস উপস্থাপনাই হলো জোকস।

এ সূত্র মাথায় গেঁথে গেঁথেই ফেললাম একটা জোকস। তারপর লাফাতে লাফাতে ডাকলাম প্রিয় বন্ধুকে।   
‘দোস্ত, একটা জোকস লিখেছি, শুনবি?’
‘হা হা হা, হো হো হো, হি হি হি...!’
‘কী হলো? জোকসই তো বলিনি। আগেই এত হাসছিস কেন?’
‘যা বললি, তারচেয়ে আরও বেশি হাসির জোকস হতে পারে!’

এ তো গেল লেখার কথা। স্কুল জীবনে প্রথম জোকস বলতে গিয়েও কম নাকাল হইনি। ছেলেবেলায় আমি যে শুধু ডানপিটে ছিলাম তা নয়, বামপিঠেও ছিলাম। স্কুলের স্যারদের অনেক বেতের বাড়ি অনায়েসে বাড়ি বয়ে নিতে পারতাম। অবশ্য পিঠের থেকে পেটের দিকেই নজর ছিল বেশি। যারা যারা স্কুল বার্ষিক আয়োজনে পারফর্ম করবে তাদেরকে কেক কেটে খাওয়ানো হবে শুনে দাঁড়িয়ে গেলাম স্টেজে।

জীবনে প্রথম জোকস বলব বলে স্টেজে উঠেছি। নার্ভাসনেসের কারণে কোনো দিকে না তাকিয়ে হড়বড় করে বলে গেলাম, শিখে আসা জোকস। পুরো জোকস না থেমে শেষ করার আনন্দে হাসতে হাসতে দর্শকের দিকে তাকিয়ে দেখি তারা অপেক্ষা করছে, হাসির অংশটুকু শোনার আশায়!

সেই দর্শকদের মতো নির্দয় না হয়ে কৌতুক বা জোকস শুনে হাসুন। হাসিতে বাঁচুন। হাসলে নির্মল আনন্দ লাভ হয়।  

পার্কের সেই ভিক্ষুকের মতো আবেদন জানিয়ে আজ এখানেই থামি। জোকস দিবসে পার্কে বসে জোকস পড়ছিলেন আর হো হো করে হাসছিলেন জামান সাহেব।
ভিক্ষুক : বাবা, দুইডা ভিক্ষা দ্যান।     

জামান সাহেব : সারাটা জীবন তো দুইডা ভিক্ষাই চেয়ে গেলে। আজ যে ‘জোকস দিবস’ তা জানো?
ভিক্ষুক : না বাবা, জানতাম না। তয়, আইজ দুইডা জোকসই দ্যান!

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন