অতি চালাকের গলায় দড়ি
jugantor
রম্যগল্প
অতি চালাকের গলায় দড়ি

  জান্নাতুল ইভা  

২৭ জুন ২০২২, ১৭:২৩:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ইফতির সঙ্গে ঝগড়া লাগলেই ও আমার সঙ্গে কী যেন একটা ভাষায় কথা বলে। আমি হতভম্ব হয়ে ঝগড়া রেখে ভাবতে থাকি এটা কী ভাষা! আর এ ভাষায় আমাকে ও কী বলতে পারে! ভালো নাকি খারাপ!
এইতো সেদিন, যখন রান্নাঘরে কাজ করছিলাম ঠিক তখন আমার নামে একটা পার্সেল এলো। নতুন তিনটা ড্রেসের অর্ডার দিয়েছিলাম। প্যাকেট খুলে দেখলাম যে ড্রেসের ছবি দেখে অর্ডার দিয়েছিলাম, সেই ছবির ধারে কাছেরও না এই ড্রেস। অনেকটা ঘর মোছার পুরোনো ত্যানা ত্যানা লাগছিল!
ড্রেস দেখেই ইফতি আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে সেই অচেনা ভাষায় কথা বলা শুরু করল। আমি কিছুই বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী বলছ! ভালো না খারাপ? গালি দিচ্ছো নাকি প্রশংসা করছ!’
ইফতি হাসি দিয়ে বলল, ‘আমার একমাত্র বউয়ের সঙ্গে কি আমি রাগ করতে পারি! গালি দেবো কেন! এবার ভালো ড্রেস আসেনি তো কী হয়েছে, পরের বার আসবে।’
মুখ বেঁকিয়ে বললাম, ‘তো এমন ভাষায় কথা বলছ কেন! কী ভাষা এইটা?’
ইফতি ল্যাপটপে কাজ করতে করতে বলল, ‘স্প্যানিশ ভাষা। এই ভাষায় কথা বলতে অনেক মজা। তুমি বুঝবা না।’
সেদিনের পর থেকে আমি বোকার মতো ইফতির এই স্প্যানিশ ভাষা শুনেও পাত্তা না দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছি। ছাতার মাথা কিছুই তো বুঝতে পারি না। ইগনোর করাই ভালো। কিন্তু প্রবলেম হলো সেদিন, যেদিন রাতে ইফতির সঙ্গে আমার তুমুল বেগে ঝগড়া লাগল মশারি টানানো নিয়ে।
আমি রীতিমতো ইফতির গায়ে চিরুনি, বালিশ হাতের কাছে যা যা পাচ্ছিলাম তা-ই ছুড়ে মারছিলাম। আর ইফতি তার সেই স্প্যানিশ ভাষায় কী সব যেন বলে যাচ্ছিল।
হঠাৎ মাথায় চিন্তা ঢুকল, এখন এমন তুমুল ঝগড়ার সময় ইফতি স্প্যানিশ ভাষায় কী বলছে! অবশ্যই ভালো কিছু না।
ঝগড়া শেষে বুদ্ধি করে গুগলে স্প্যানিশ ভাষা নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ইফতির ঐতিহাসিক ভাষাকে বাংলায় ট্রান্সলেট করার পর দেখলাম, ইফতি আমাকে গালাগালি করেছে! এতদিন যাবৎ তাহলে ও আমাকে বোকা বানিয়ে গেছে!
সকালে ইফতির জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে এসে বললাম, ‘নিজেকে অনেক চালাক ভাবো তাই না! এতদিন ঝগড়ার সময় আমাকে স্প্যানিশ ভাষায় যা নয় তাই বলেছ, আর আমি বোকার মতো কিছুই বুঝতে পারি নাই।’ প্রচণ্ড রেগে গিয়ে ইফতির মাথার চুলগুলো টানতে টানতে বললাম, ‘এমন শয়তানি বুদ্ধিগুলো কে দিছে তোমাকে!’
ইফতি কফি খেতে খেতে বলল, ‘ঝগড়া লাগলেই তো বাপের বাড়ি দৌড় দাও, কিছু তো বলাও যায় না, তাই এই টেকনিকটা কাজে লাগিয়েছিলাম। ঝগড়ার সময় এই ভাষায় মনের যত রাগ ছিল সব ঝারাও হলো, সঙ্গে তোমার কথায় কথায় বাপের বাড়ি যাওয়াও বন্ধ হয়েছে সিম্পল! এক ঢিলে দুই পাখি খতম! আইডিয়াটা সুন্দর না?’
আমি হাসতে হাসতে বললাম, ‘ব্যাগ গোছানো কমপ্লিট, এইবার এক সপ্তাহ একা বাসায় না খেয়ে থাকবা। আমার পেছন পেছন আসলে খবর আছে।’

রম্যগল্প

অতি চালাকের গলায় দড়ি

 জান্নাতুল ইভা 
২৭ জুন ২০২২, ০৫:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ইফতির সঙ্গে ঝগড়া লাগলেই ও আমার সঙ্গে কী যেন একটা ভাষায় কথা বলে। আমি হতভম্ব হয়ে ঝগড়া রেখে ভাবতে থাকি এটা কী ভাষা! আর এ ভাষায় আমাকে ও কী বলতে পারে! ভালো নাকি খারাপ!
এইতো সেদিন, যখন রান্নাঘরে কাজ করছিলাম ঠিক তখন আমার নামে একটা পার্সেল এলো। নতুন তিনটা ড্রেসের অর্ডার দিয়েছিলাম। প্যাকেট খুলে দেখলাম যে ড্রেসের ছবি দেখে অর্ডার দিয়েছিলাম, সেই ছবির ধারে কাছেরও না এই ড্রেস। অনেকটা ঘর মোছার পুরোনো ত্যানা ত্যানা লাগছিল! 
ড্রেস দেখেই ইফতি আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে সেই অচেনা ভাষায় কথা বলা শুরু করল। আমি কিছুই বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী বলছ! ভালো না খারাপ? গালি দিচ্ছো নাকি প্রশংসা করছ!’
ইফতি হাসি দিয়ে বলল, ‘আমার একমাত্র বউয়ের সঙ্গে কি আমি রাগ করতে পারি! গালি দেবো কেন! এবার ভালো ড্রেস আসেনি তো কী হয়েছে, পরের বার আসবে।’
মুখ বেঁকিয়ে বললাম, ‘তো এমন ভাষায় কথা বলছ কেন! কী ভাষা এইটা?’
ইফতি ল্যাপটপে কাজ করতে করতে বলল, ‘স্প্যানিশ ভাষা। এই ভাষায় কথা বলতে অনেক মজা। তুমি বুঝবা না।’ 
সেদিনের পর থেকে আমি বোকার মতো ইফতির এই স্প্যানিশ ভাষা শুনেও পাত্তা না দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছি। ছাতার মাথা কিছুই তো বুঝতে পারি না। ইগনোর করাই ভালো। কিন্তু প্রবলেম হলো সেদিন, যেদিন রাতে ইফতির সঙ্গে আমার তুমুল বেগে ঝগড়া লাগল মশারি টানানো নিয়ে।
আমি রীতিমতো ইফতির গায়ে চিরুনি, বালিশ হাতের কাছে যা যা পাচ্ছিলাম তা-ই ছুড়ে মারছিলাম। আর ইফতি তার সেই স্প্যানিশ ভাষায় কী সব যেন বলে যাচ্ছিল।
হঠাৎ মাথায় চিন্তা ঢুকল, এখন এমন তুমুল ঝগড়ার সময় ইফতি স্প্যানিশ ভাষায় কী বলছে! অবশ্যই ভালো কিছু না।
ঝগড়া শেষে বুদ্ধি করে গুগলে স্প্যানিশ ভাষা নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ইফতির ঐতিহাসিক ভাষাকে বাংলায় ট্রান্সলেট করার পর দেখলাম, ইফতি আমাকে গালাগালি করেছে! এতদিন যাবৎ তাহলে ও আমাকে বোকা বানিয়ে গেছে!
সকালে ইফতির জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে এসে বললাম, ‘নিজেকে অনেক চালাক ভাবো তাই না! এতদিন ঝগড়ার সময় আমাকে স্প্যানিশ ভাষায় যা নয় তাই বলেছ, আর আমি বোকার মতো কিছুই বুঝতে পারি নাই।’ প্রচণ্ড রেগে গিয়ে ইফতির মাথার চুলগুলো টানতে টানতে বললাম, ‘এমন শয়তানি বুদ্ধিগুলো কে দিছে তোমাকে!’
ইফতি কফি খেতে খেতে বলল, ‘ঝগড়া লাগলেই তো বাপের বাড়ি দৌড় দাও, কিছু তো বলাও যায় না, তাই এই টেকনিকটা কাজে লাগিয়েছিলাম। ঝগড়ার সময় এই ভাষায় মনের যত রাগ ছিল সব ঝারাও হলো, সঙ্গে তোমার কথায় কথায় বাপের বাড়ি যাওয়াও বন্ধ হয়েছে সিম্পল! এক ঢিলে দুই পাখি খতম! আইডিয়াটা সুন্দর না?’
আমি হাসতে হাসতে বললাম, ‘ব্যাগ গোছানো কমপ্লিট, এইবার এক সপ্তাহ একা বাসায় না খেয়ে থাকবা। আমার পেছন পেছন আসলে খবর আছে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন