সামু ভাই যেভাবে সফল হলেন
jugantor
রম্যগল্প
সামু ভাই যেভাবে সফল হলেন

  আখতারুজ্জামান নিশান  

৩০ জুন ২০২২, ১৬:৫১:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুকে ঢুকতেই সামু ভাইয়ের পোস্ট। আমাদের ট্যাগ করে লিখেছেনÑঅবশেষে নিজের বলার মতো একটা গল্প হলো। এই সাফল্যের জন্য আমি আমার পরিবার, আমার শুভাকাক্সক্ষী সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আর ‘সামু এন্ড ব্রাদার্স’ তোদের কথা কী বলব! আমার সাফল্যে তোরাও ভাগীদার।
সামু ভাই ফেসবুকে যাই লিখুক, আমাদের কাজ তাতে লাভ রিঅ্যাক্ট দেওয়া এবং সহমত পোষণ করে কমেন্ট করা। এরকমই নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন সামু ভাই। তাই কিসের সাফল্য, কীভাবে এলোÑএগুলোর কিছুই না জেনে লাভ রিঅ্যাক্ট দিলাম এবং পজিটিভ কমেন্টও করলাম। সামু ভাই সঙ্গে সঙ্গে কমেন্টে লাভ রিঅ্যাক্ট দিলেন।
২.
সামু ভাইয়ের বিশাল সাফল্য এসেছে রাতারাতি। মানে গতকাল বিকালেও সামু ভাই আমাদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন, আর হাসানের টাকায় কিনে আনা ঝালমুড়ি খেতে খেতে বলেছেন, ‘একদিন তোর সব ঝালমুড়ির টাকা দ্বিগুণ করে ফিরিয়ে দিব!’
কই, তখন তো কিছুই জানাননি! মেসেঞ্জারে ঢুকলাম। আমাদের দুইটা গ্র“প আছে মেসেঞ্জারে। একটা ‘সামু এন্ড ব্রাদার্স’ আর আরেকটা সামু ভাই ছাড়া শুধু ‘ব্রাদার্স’।
আমি ব্রাদার্সে মেসেজ দিলাম বিষয়টি জানার জন্য। সেখানে হাসান, ইবু, আবির, ফজলু সবার অবস্থা আমার মতো। কেউ জানে না।
৩.
সামু ভাইয়ের বাসায় বিশাল আয়োজন। বেশ লোকজন দেখা যাচ্ছে। সামু ভাই ব্যস্ততার ভাব ধরে স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে দিয়ে সারা বাড়ি হাঁটছেন আর এটা-ওটা নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমাদের দেখে একটু হাসলেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই আবার গম্ভীর হয়ে কাজে মন দেওয়ার ভাব ধরলেন। যেন তিনি চাইছেন আমাদের সঙ্গে কথা বলতে, কিন্তু ব্যস্ততায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না।
অপেক্ষা করে বিরক্ত হয়ে যখন আমারা চলে আসব সিদ্ধান্ত নিলাম, ঠিক তখনই সামু ভাই ভেতর থেকে বাইরে এলেন। বললেন, ‘আয় আয়। দুঃখিত, তোদের এতক্ষণ সময় দিতে পারিনি।’
সামু ভাইয়ের মুখের ভাষা শুনে আরেকটু হলে হাসান মাথা ঘুরে পড়ে যেত। যে সামু ভাই আমাদের ধমক ছাড়া কথাই বলেন না, তিনি আমাদের সঙ্গে এত বিনয়ী হয়ে কথা বলছেন!
আমি সামু ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভাই, আপনার কি শরীর খারাপ? মানে আপনার কথাবার্তা কেমন যেন!’
সামু ভাই চোখ গরম করতে গিয়েও করলেন না। একতু হাসি দিয়ে বললেন, ‘কী যে বলিস!’
আবির এতক্ষণে কথা বলার সুযোগ পেল। বলল, ‘ভাই, এত আয়োজন? বিষয় কী?’
‘তেমন কিছু না। বোনের বাসা থেকে মেহমান আসছে তো তাই।’ বলেই আড়চোখে একদিকে তাকালেন। দেখলাম একটা মেয়ে সামু ভাইকে দেখে খিলখিল করে হেসে চলে গেল।
আমাদের প্রথমবারের মতো ভুল ভাঙলো। সামু ভাই সাফল্য পেয়েছেন এবং তার জন্য এই বিশাল আয়োজন ভেবেছিলাম। আসলে এ আয়োজন মেহমানদের জন্য। আর সামু ভাইয়ের বিনয় শুধু ওই মেয়েটাকে দেখানোর জন্য। তবে আমাদের আসলে ভুল আরও ভাঙার বাকি ছিল। ভেঙেছে একটু পরেই।
৪.
‘আচ্ছা ভাই, এই যে ফেসবুকে আপনার সাফল্য লাভের একটা গল্প...!’ ইবুর এটুকু প্রশ্ন শুনেই সামু ভাই বললেন, ‘হুম, অবশেষে তোদের সামু ভাইয়ের নিজের একটা বলার মতো গল্প হয়েছে।’ বলে বুকে হাত দিলেন গর্বিত ভঙ্গিতে। সামু ভাই বলে চলেছেন, ‘দেখ, আমি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। করিনি?’
আমরা মাথা দুলিয়ে সহমত পোষণ করলাম।
‘কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। আশপাশে, ফেসবুকে যখন কেউ নিজের সফলতার গল্প বলত, আমার তোদের কথা চিন্তা করে মন খারাপ হতো।’
সামু ভাই নিজে সাফল্য না পেলে আমাদের জন্য মন খারাপ কেন হবে সেটা ভেবে পেলাম না। তবু হাসান ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ভাই, কেন?’
‘তোদের লিডার আমি। আমি যদি সফল না হই তবে তোরা কাকে নিয়ে গর্ব করবি?’
কথায় যুক্তি আছে।
সামু ভাই বললেন, ‘অবশেষে তোদের ভাই মানে আমি সামু সফল।’
‘ভাই, তাড়াতাড়ি বলেন।’ আমরা খুশিতে গদগদ হয়ে জানতে চাইলাম।
‘গতকাল রাতে আমি সারারাত ধরে না ঘুমিয়ে একটা গল্প লিখেছি, বুঝলি! যেখানে আমি কীভাবে কষ্ট করেছি এবং আজ যে আমি অনেক ক্ষেত্রে সফল তার বিশদ বর্ণনা আছে।’
দ্বিতীয়বার আমাদের ভুল ভাঙলো। সেদিনের মতো আমরা সামু ভাইয়ের বাড়ি থেকে ফিরলাম।
৫.
পরদিন শুনলাম সামু ভাই বাড়ি থেকে পালিয়েছেন। তার বাবা সামু ভাইয়ের বানানো গল্প শুনেছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন এত বড় মিথ্যাবাদীকে তিনি পেলে ঠ্যাঙাবেন। সেটা শুনে সামু ভাই হাওয়া। আমরাও কদিনের জন্য নিশ্চিন্ত হলাম।

রম্যগল্প

সামু ভাই যেভাবে সফল হলেন

 আখতারুজ্জামান নিশান 
৩০ জুন ২০২২, ০৪:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুকে ঢুকতেই সামু ভাইয়ের পোস্ট। আমাদের ট্যাগ করে লিখেছেনÑঅবশেষে নিজের বলার মতো একটা গল্প হলো। এই সাফল্যের জন্য আমি আমার পরিবার, আমার শুভাকাক্সক্ষী সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আর ‘সামু এন্ড ব্রাদার্স’ তোদের কথা কী বলব! আমার সাফল্যে তোরাও ভাগীদার।
সামু ভাই ফেসবুকে যাই লিখুক, আমাদের কাজ তাতে লাভ রিঅ্যাক্ট দেওয়া এবং সহমত পোষণ করে কমেন্ট করা। এরকমই নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন সামু ভাই। তাই কিসের সাফল্য, কীভাবে এলোÑএগুলোর কিছুই না জেনে লাভ রিঅ্যাক্ট দিলাম এবং পজিটিভ কমেন্টও করলাম। সামু ভাই সঙ্গে সঙ্গে কমেন্টে লাভ রিঅ্যাক্ট দিলেন। 
২.
সামু ভাইয়ের বিশাল সাফল্য এসেছে রাতারাতি। মানে গতকাল বিকালেও সামু ভাই আমাদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন, আর হাসানের টাকায় কিনে আনা ঝালমুড়ি খেতে খেতে বলেছেন, ‘একদিন তোর সব ঝালমুড়ির টাকা দ্বিগুণ করে ফিরিয়ে দিব!’
কই, তখন তো কিছুই জানাননি! মেসেঞ্জারে ঢুকলাম। আমাদের দুইটা গ্র“প আছে মেসেঞ্জারে। একটা ‘সামু এন্ড ব্রাদার্স’ আর আরেকটা সামু ভাই ছাড়া শুধু ‘ব্রাদার্স’।
আমি ব্রাদার্সে মেসেজ দিলাম বিষয়টি জানার জন্য। সেখানে হাসান, ইবু, আবির, ফজলু সবার অবস্থা আমার মতো। কেউ জানে না।
৩.
সামু ভাইয়ের বাসায় বিশাল আয়োজন। বেশ লোকজন দেখা যাচ্ছে। সামু ভাই ব্যস্ততার ভাব ধরে স্যান্ডো গেঞ্জি গায়ে দিয়ে সারা বাড়ি হাঁটছেন আর এটা-ওটা নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমাদের দেখে একটু হাসলেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই আবার গম্ভীর হয়ে কাজে মন দেওয়ার ভাব ধরলেন। যেন তিনি চাইছেন আমাদের সঙ্গে কথা বলতে, কিন্তু ব্যস্ততায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না।
অপেক্ষা করে বিরক্ত হয়ে যখন আমারা চলে আসব সিদ্ধান্ত নিলাম, ঠিক তখনই সামু ভাই ভেতর থেকে বাইরে এলেন। বললেন, ‘আয় আয়। দুঃখিত, তোদের এতক্ষণ সময় দিতে পারিনি।’
সামু ভাইয়ের মুখের ভাষা শুনে আরেকটু হলে হাসান মাথা ঘুরে পড়ে যেত। যে সামু ভাই আমাদের ধমক ছাড়া কথাই বলেন না, তিনি আমাদের সঙ্গে এত বিনয়ী হয়ে কথা বলছেন!
আমি সামু ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভাই, আপনার কি শরীর খারাপ? মানে আপনার কথাবার্তা কেমন যেন!’
সামু ভাই চোখ গরম করতে গিয়েও করলেন না। একতু হাসি দিয়ে বললেন, ‘কী যে বলিস!’
আবির এতক্ষণে কথা বলার সুযোগ পেল। বলল, ‘ভাই, এত আয়োজন? বিষয় কী?’
‘তেমন কিছু না। বোনের বাসা থেকে মেহমান আসছে তো তাই।’ বলেই আড়চোখে একদিকে তাকালেন। দেখলাম একটা মেয়ে সামু ভাইকে দেখে খিলখিল করে হেসে চলে গেল।
আমাদের প্রথমবারের মতো ভুল ভাঙলো। সামু ভাই সাফল্য পেয়েছেন এবং তার জন্য এই বিশাল আয়োজন ভেবেছিলাম। আসলে এ আয়োজন মেহমানদের জন্য। আর সামু ভাইয়ের বিনয় শুধু ওই মেয়েটাকে দেখানোর জন্য। তবে আমাদের আসলে ভুল আরও ভাঙার বাকি ছিল। ভেঙেছে একটু পরেই।
৪.
‘আচ্ছা ভাই, এই যে ফেসবুকে আপনার সাফল্য লাভের একটা গল্প...!’ ইবুর এটুকু প্রশ্ন শুনেই সামু ভাই বললেন, ‘হুম, অবশেষে তোদের সামু ভাইয়ের নিজের একটা বলার মতো গল্প হয়েছে।’ বলে বুকে হাত দিলেন গর্বিত ভঙ্গিতে। সামু ভাই বলে চলেছেন, ‘দেখ, আমি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। করিনি?’
আমরা মাথা দুলিয়ে সহমত পোষণ করলাম।
‘কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। আশপাশে, ফেসবুকে যখন কেউ নিজের সফলতার গল্প বলত, আমার তোদের কথা চিন্তা করে মন খারাপ হতো।’ 
সামু ভাই নিজে সাফল্য না পেলে আমাদের জন্য মন খারাপ কেন হবে সেটা ভেবে পেলাম না। তবু হাসান ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ভাই, কেন?’
‘তোদের লিডার আমি। আমি যদি সফল না হই তবে তোরা কাকে নিয়ে গর্ব করবি?’
কথায় যুক্তি আছে।
সামু ভাই বললেন, ‘অবশেষে তোদের ভাই মানে আমি সামু সফল।’
‘ভাই, তাড়াতাড়ি বলেন।’ আমরা খুশিতে গদগদ হয়ে জানতে চাইলাম। 
‘গতকাল রাতে আমি সারারাত ধরে না ঘুমিয়ে একটা গল্প লিখেছি, বুঝলি! যেখানে আমি কীভাবে কষ্ট করেছি এবং আজ যে আমি অনেক ক্ষেত্রে সফল তার বিশদ বর্ণনা আছে।’
দ্বিতীয়বার আমাদের ভুল ভাঙলো। সেদিনের মতো আমরা সামু ভাইয়ের বাড়ি থেকে ফিরলাম। 
৫.
পরদিন শুনলাম সামু ভাই বাড়ি থেকে পালিয়েছেন। তার বাবা সামু ভাইয়ের বানানো গল্প শুনেছেন এবং  ঘোষণা দিয়েছেন এত বড় মিথ্যাবাদীকে তিনি পেলে ঠ্যাঙাবেন। সেটা শুনে সামু ভাই হাওয়া। আমরাও কদিনের জন্য নিশ্চিন্ত হলাম।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন