এই দেখ না কত ‘ভাইয়ের’ খবর বলে যাই
jugantor
মলাট বৃত্তান্ত
এই দেখ না কত ‘ভাইয়ের’ খবর বলে যাই

  মো. রায়হান কবির  

৩০ জুন ২০২২, ১৯:৪৯:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

ভাই এমন একটি শব্দ, যার ব্যবহার ছাড়া উপায় নেই। বিশেষ করে আপনি যখন বাড়ির বাইরে যাবেন তখন ‘ভাই’ শব্দটিই আপনার ভাইয়ের কাজ করে দেয়। সম্পর্কের পাশাপাশি ভাই একটি সম্বোধন। বিশেষ করে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ায়। এখানে ভাই যেমন সম্পর্কের প্রতীক, তেমনি আবার সম্মান এবং ক্ষমতার প্রতীকও বটে। এদেশের অনেক দোকানের নাম পাবেন আপনি ভাই ভাই স্টোর, অনেক যানবাহনে লেখা দেখবেন ভাই ভাই পরিবহণ, এমনকি অনেক হোটেলের নামও পাবেন ভাই ভাই হোটেল নামে। আবার যদি খাবারের সঙ্গে তুলনা করি তবে এটাকে সম্পর্কের স্টার্টার বলতে পারেন। যে কোনো সম্পর্কের শুরু কিন্তু ভাই দিয়েই হয়।

আপনি কোনো ঠিকানা খুঁজছেন, কাউকে জিজ্ঞেস করবেন, সম্বোধন কিন্তু সেই ভাই। কিন্তু সব কিছু যেমন সব সময় চলে না, ভাইয়ের ব্যবহারেও কিছু ব্যতিক্রম আছে। এটাও জায়গামতো ব্যবহার করতে না পারলে উপকারের চেয়ে কিন্তু বিপদই বাড়ে। আমাদের দেশের বয়স্ক লোকেরা ভাই শব্দটি পছন্দ করেন। কেননা ভাই শব্দটি তাদের কানে তারুণ্যের দোলা দেয়। তাদের মনে হয়, সত্যিই বুঝি তার বয়স তাহলে বোঝা যায় না! ফলে এই শব্দটি দিয়ে মধ্য বয়স্কদের বশ করা যায়। আবার একই ভুল যেন কোনো অফিসিয়াল জায়গায় না করে বসেন। কেননা অফিসিয়াল লোকজন আবার বশে আসেন ‘স্যার’ শব্দে। তারা কিন্তু ভাই শব্দটি শুনলে জব্দ করার মানসে থাকেন। কয়েক মাস আগে মির্জাগঞ্জে এক নির্বাচনি কর্মকর্তাকে ভাই বলায় সাংবাদিকের ওপর রেগে গিয়েছিলেন তিনি। হয়তো আশা করেছিলেন সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে স্যার ডাকবেন। ফলে সেই ভাই ডাকা সাংবাদিক কিন্তু বিপদেই পড়েছিলেন।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক কিশোর গ্যাং কিন্তু প্রতিষ্ঠিতই হয়েছে এই ‘ভাই’ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে। সাধারণ বিচারে বয়সে বড়দের আমরা ভাই বলে সম্বোধন করে থাকি, এটাই এদেশের পারিবারিক শিক্ষা। কিন্তু কিশোর গ্যাংদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। এলাকায় যদি কারও প্রভাব প্রতিপত্তি বেশি থাকে, আপনি যদি বয়সে বড়ও হয়ে থাকেন, তবে সেসব বখাটে কিশোর আপনার কাছে ‘ভাই’ শব্দটি আশা করে। বলা যায় এই ভাই শব্দের জন্য অনেক এলাকায় কিশোররা গ্যাং তৈরি করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছোট-বড় (কাছাকাছি বয়সের কিশোরদের মধ্যে) সবাই তাদের বড় ভাইয়ের দৃষ্টিতে দেখবে!

ওই যে কথায় আছে না এক দেশের বুলি, অন্য দেশের গালি। তাই বড় ভাইয়ের দৃষ্টি কিন্তু সবাই সবার কাছে আশা করে না। কেননা শুরুতেই বলেছিলাম ভাই শব্দটি যে কোনো সম্পর্কের স্টার্টার। অর্থাৎ যে কোনো সম্পর্কের শুরুটা হয় ভাই দিয়ে। পরে হয়তো সেটার পরিণতি বন্ধু, প্রেমিক কিংবা গুরুতে। ফলে একটা সম্পর্ক যখন ভাই দিয়ে শুরু হয়ে পরিণতি পেয়ে আবার ভাইয়ে ‘ব্যাক’ করে তখন বুঝতে হবে তাহলে গাড়ি উলটো পথে চলছে।

সিনেমা পাড়ায় অনেকদিন ধরেই ভালো কোনো সিনেমা নেই। তবে ওখানে বেশ কিছুদিন ধরে কমেডি নাটক চলছে। এবং বলা যায় সগৌরবে চলছে, তাও ধারাবাহিক। শত শত সিনেমা শিল্পীরা মিলে কয়েক সপ্তাহে একটা নতুন সিনেমা উপহার দিতে না পারলেও প্রায় প্রতিদিনই তারা নাটক উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। আর বিনোদনপ্রেমী দেশবাসী ফাও ফাও সেসব বিনোদন টিকিট ছাড়াই উপভোগ করছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে এসব নাটকে কিন্তু সিনেমার সব কলাকুশলীই অংশ নিয়ে থাকেন। বছরের শুরু থেকে চলতে থাকা সেই কমেডি নাটকে নায়ক, নায়িকা, ভিলেন থেকে শুরু করে সাধারণ অভিনেতাও ছিলেন, পাশাপাশি নিত্য-নতুন অভিনেতাও যুক্ত হচ্ছেন। আশার আলো হচ্ছে, বলিউড কিংবা হলিউডে আমরা যেমন দেখে থাকি অভিনেতা-অভিনেত্রীরা তাদের সন্তানকে সিনেমায় লঞ্চ করেনÑএখানেও কিন্তু আমরা তারকা সন্তানদের ‘লঞ্চ’ হতে দেখছি।

সুতরাং সেই হিসাবে চিন্তা করলে মানুষ সিনেমার সব বিনোদনই পাচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের নাটক শিল্প যথেষ্ট উন্নত। এখানে এখনো কিছু কিছু ভালো নাটক নির্মাণ হয়। ফলে এখানে নাটক করতে হলে তারও কোয়ালিটি থাকতে হয়, গৎবাঁধা বাংলা সিনেমার মতো স্ক্রিপ্ট হলে চলে না।

সম্প্রতি এক ডাকসাইটে চিত্রনায়িকার মুখে তার স্বামীকে ভাই ডাকতে শুনে অনেকে অনেক রকম তীর্যক মন্তব্য ছুড়ছেন চারদিক থেকে। কিন্তু এদেশটা যে নানা রকম ভাইয়ের দেশ তা বলাই বাহুল্য। এখানে হাল আমলের ‘সহমত ভাই’ থেকে শুরু করে মান্দাতার আমলের ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’সহ শত রকমের ভাইয়ের বসবাস। সুতরাং কোন ভাইয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলবেন, আর কোন ভাইয়ের সঙ্গে দূর সম্পর্ক বজায় রাখবেন সেও এক চিন্তার বিষয় বটে!

মলাট বৃত্তান্ত

এই দেখ না কত ‘ভাইয়ের’ খবর বলে যাই

 মো. রায়হান কবির 
৩০ জুন ২০২২, ০৭:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভাই এমন একটি শব্দ, যার ব্যবহার ছাড়া উপায় নেই। বিশেষ করে আপনি যখন বাড়ির বাইরে যাবেন তখন ‘ভাই’ শব্দটিই আপনার ভাইয়ের কাজ করে দেয়। সম্পর্কের পাশাপাশি ভাই একটি সম্বোধন। বিশেষ করে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ায়। এখানে ভাই যেমন সম্পর্কের প্রতীক, তেমনি আবার সম্মান এবং ক্ষমতার প্রতীকও বটে। এদেশের অনেক  দোকানের নাম পাবেন আপনি ভাই ভাই স্টোর, অনেক যানবাহনে লেখা দেখবেন ভাই ভাই পরিবহণ, এমনকি অনেক হোটেলের নামও পাবেন ভাই ভাই হোটেল নামে। আবার যদি খাবারের সঙ্গে তুলনা করি তবে এটাকে সম্পর্কের স্টার্টার বলতে পারেন। যে কোনো সম্পর্কের শুরু কিন্তু ভাই দিয়েই হয়। 

আপনি কোনো ঠিকানা খুঁজছেন, কাউকে জিজ্ঞেস করবেন, সম্বোধন কিন্তু সেই ভাই। কিন্তু সব কিছু যেমন সব সময় চলে না, ভাইয়ের ব্যবহারেও কিছু ব্যতিক্রম আছে। এটাও জায়গামতো ব্যবহার করতে না পারলে উপকারের চেয়ে কিন্তু বিপদই বাড়ে। আমাদের দেশের বয়স্ক লোকেরা ভাই শব্দটি পছন্দ করেন। কেননা ভাই শব্দটি তাদের কানে তারুণ্যের  দোলা দেয়। তাদের মনে হয়, সত্যিই বুঝি তার বয়স তাহলে বোঝা যায় না! ফলে এই শব্দটি দিয়ে মধ্য বয়স্কদের বশ করা যায়। আবার একই ভুল যেন কোনো অফিসিয়াল জায়গায় না করে বসেন। কেননা অফিসিয়াল লোকজন আবার বশে আসেন ‘স্যার’ শব্দে। তারা কিন্তু ভাই শব্দটি শুনলে জব্দ করার মানসে থাকেন। কয়েক মাস আগে মির্জাগঞ্জে এক নির্বাচনি কর্মকর্তাকে ভাই বলায় সাংবাদিকের ওপর রেগে গিয়েছিলেন তিনি। হয়তো আশা করেছিলেন সবাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে স্যার ডাকবেন। ফলে সেই ভাই ডাকা সাংবাদিক কিন্তু বিপদেই পড়েছিলেন। 

অন্যদিকে সাম্প্রতিক কিশোর গ্যাং কিন্তু প্রতিষ্ঠিতই হয়েছে এই ‘ভাই’ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে। সাধারণ বিচারে বয়সে বড়দের আমরা ভাই বলে সম্বোধন করে থাকি, এটাই এদেশের পারিবারিক শিক্ষা। কিন্তু কিশোর গ্যাংদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। এলাকায় যদি কারও প্রভাব প্রতিপত্তি বেশি থাকে, আপনি যদি বয়সে বড়ও হয়ে থাকেন, তবে সেসব বখাটে কিশোর আপনার কাছে ‘ভাই’ শব্দটি আশা করে। বলা যায় এই ভাই শব্দের জন্য অনেক এলাকায় কিশোররা গ্যাং তৈরি করেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছোট-বড় (কাছাকাছি বয়সের কিশোরদের মধ্যে) সবাই তাদের বড় ভাইয়ের দৃষ্টিতে দেখবে!

ওই যে কথায় আছে না এক দেশের বুলি, অন্য দেশের গালি। তাই বড় ভাইয়ের দৃষ্টি কিন্তু সবাই সবার কাছে আশা করে না। কেননা শুরুতেই বলেছিলাম ভাই শব্দটি যে কোনো সম্পর্কের স্টার্টার। অর্থাৎ যে কোনো সম্পর্কের শুরুটা হয় ভাই দিয়ে। পরে হয়তো সেটার পরিণতি বন্ধু, প্রেমিক কিংবা গুরুতে। ফলে একটা সম্পর্ক যখন ভাই দিয়ে শুরু হয়ে পরিণতি পেয়ে আবার ভাইয়ে ‘ব্যাক’ করে তখন বুঝতে হবে তাহলে গাড়ি উলটো পথে চলছে। 

সিনেমা পাড়ায় অনেকদিন ধরেই ভালো কোনো সিনেমা নেই। তবে ওখানে বেশ কিছুদিন ধরে কমেডি নাটক চলছে। এবং বলা যায় সগৌরবে চলছে, তাও ধারাবাহিক। শত শত সিনেমা শিল্পীরা মিলে কয়েক সপ্তাহে একটা নতুন সিনেমা উপহার দিতে না পারলেও প্রায় প্রতিদিনই তারা নাটক উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। আর বিনোদনপ্রেমী দেশবাসী ফাও ফাও সেসব বিনোদন টিকিট ছাড়াই উপভোগ করছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে এসব নাটকে কিন্তু সিনেমার সব কলাকুশলীই অংশ নিয়ে থাকেন। বছরের শুরু থেকে চলতে থাকা সেই কমেডি নাটকে নায়ক, নায়িকা, ভিলেন থেকে শুরু করে সাধারণ অভিনেতাও ছিলেন, পাশাপাশি নিত্য-নতুন অভিনেতাও যুক্ত হচ্ছেন। আশার আলো হচ্ছে, বলিউড কিংবা হলিউডে আমরা যেমন দেখে থাকি অভিনেতা-অভিনেত্রীরা তাদের সন্তানকে সিনেমায় লঞ্চ করেনÑএখানেও কিন্তু আমরা তারকা সন্তানদের ‘লঞ্চ’ হতে দেখছি। 

সুতরাং সেই হিসাবে চিন্তা করলে মানুষ সিনেমার সব বিনোদনই পাচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের নাটক শিল্প যথেষ্ট উন্নত। এখানে এখনো কিছু কিছু ভালো নাটক নির্মাণ হয়। ফলে এখানে নাটক করতে হলে তারও কোয়ালিটি থাকতে হয়, গৎবাঁধা বাংলা সিনেমার মতো স্ক্রিপ্ট হলে চলে না। 

সম্প্রতি এক ডাকসাইটে চিত্রনায়িকার মুখে তার স্বামীকে ভাই ডাকতে শুনে অনেকে অনেক রকম তীর্যক মন্তব্য ছুড়ছেন চারদিক থেকে। কিন্তু এদেশটা যে নানা রকম ভাইয়ের দেশ তা বলাই বাহুল্য। এখানে হাল আমলের ‘সহমত ভাই’ থেকে শুরু করে মান্দাতার আমলের ‘চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’সহ শত রকমের ভাইয়ের বসবাস। সুতরাং কোন ভাইয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলবেন, আর কোন ভাইয়ের সঙ্গে দূর সম্পর্ক বজায় রাখবেন সেও এক চিন্তার বিষয় বটে!

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন