টোকাটুকি ঠোকাঠুকির দিনরাত্রি
jugantor
রম্যগল্প
টোকাটুকি ঠোকাঠুকির দিনরাত্রি

  ইমন চৌধুরী  

০২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ২২:২১:১৯  |  অনলাইন সংস্করণ

০১.
‘এটা কী এনেছ?’ জানতে চাইল তানিয়া।
‘বেগুন।’ সতর্ক কণ্ঠে জবাব দিল মারুফ।
‘তোমার কী ধারণা, আমি বেগুন চিনি না?’
‘আমি কি তা বলেছি! তুমি জানতে চাইলে তাই বললাম।’
‘এটা বেগুন আমিও দেখতে পাচ্ছি। আমার চোখ আছে। তোমার মতো চোখের মাথা খাইনি এখনো। বেগুন আনতে কে বলেছে তোমাকে? বাজারে তো আরও অনেক রকম সবজি আছে, চোখে দেখতে পাওনা নাকি?’
মারুফ চুপ করে রইল। দুদিন আগে বাজার থেকে চাল কুমড়া এনেছিল। তখনো তানিয়া রেগে গিয়েছিল। চিৎকার করে বলেছিল, কুমড়া ছাড়া চোখে আর কিছু দেখতে পাওনা! তারও দুদিন আগে এনেছিল কচুর শাক। চিৎকার করে তানিয়া বলেছিল, দুনিয়াতে এত শাক থাকতে শেষ পর্যন্ত তোমাকে কচুর শাক আনতে হলো! আমি কার সঙ্গে সংসার করছি!
০২.
‘এটা কী?’ চোখ বড় বড় করে মারুফকে প্রশ্ন করল তানিয়া।
‘পুঁটি মাছ।’ ভয়ে ভয়ে জবাব দিল মারুফ।
‘আচ্ছা, বাজারে যে বড় বড় রুই, কাতলা, শোল, বোয়াল-এইসব মাছ উঠে তুমি দেখতে পাও তো?’
‘পাই। বড় মাছও তো আনি। সবসময় বড় মাছ খেতে ভালো লাগে না।’
‘বাহ! বড় মাছ খেতে উনার ভালো লাগে না। তাই উনি ছোট মাছ কিনেছেন।’
‘বড় মাছ খেতে ভালো লাগে না সেটা বলিনি আমি। বলেছি সবসময় খেতে ভালো লাগে না।’
‘চমৎকার! এখন তোমার এই পুঁটি মাছ কাটবে কে শুনি? আমার জন্য কি দুই-চারটা কাজের বুয়া রেখেছ! আমাকেই তো বুয়া বানিয়েছ! আমি কার সঙ্গে সংসার করছি!
০৩.
‘এটা কী কালার?’ শাড়িটা দেখেই জানতে চাইল তানিয়া।
‘ব্ল– কালার।’ জবাব দিল মারুফ। তানিয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে শাড়িটা অফিস থেকে ফেরার সময় কিনে এনেছে গাউছিয়া থেকে।
‘আচ্ছা, তোমার কি আমাকে গরু-ছাগল মনে হয়?’
‘কী বলছ এসব! গরু-ছাগল মনে হবে কেন! মানুষ কখনো গরু-ছাগল হয়!’
‘হয়। গরু, ছাগল, গাধা, ভেড়া সব হয়। তোমাকে দেখলেই সেটা বোঝা যায়। রুচি-বুদ্ধি কিচ্ছু নাই। ব্ল– কোনো কালার হলো! তোমার কালার সেন্স এত জঘণ্য আগে জানলে আমি তোমাকে বিয়েই করতাম না।’
মারুফ চুপ করে রইল। গত বছর তানিয়ার জন্মদিনে মেরুন রঙের একটা শাড়ি এনেছিল। সেটা দেখেও আজকের মতো ক্ষেপে উঠেছিল তানিয়া। চিৎকার করে বলেছিল, মেরুন কোনো কালার হলো! জামা-কাপড়ের কালাটাও তুমি ঠিকঠাক পছন্দ করতে পারো না! আমি কাকে নিয়ে সংসার করছি!
০৪.
‘এটা কী পরেছ তুমি?’ মারুফের দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকাল তানিয়া।
‘কেন, টি-শার্ট পরেছি।’ যথারীতি শান্ত গলায় জবাব দিল মারুফ।
‘সে তো দেখতেই পাচ্ছি। টি-শার্ট পরেছ, আমাকে উদ্ধার করেছ! তুমি কোথায় যাচ্ছ সে খেয়াল আছে!’
‘কেন, তোমাদের বাসায় যাচ্ছি। মানে শ্বশুর বাড়ি।’
‘কিন্তু দেখে তো সেটা মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করতে যাচ্ছ। টি-শার্ট পরে কেউ শ্বশুর বাড়ি যায়! মানুষের তো একটু মিনিমাম কমনসেন্স থাকে।’
‘তাহলে কী পরব?’
‘কেন, তোমার শার্ট নাই? শ্বশুর বাড়ি যাবে শার্ট পরে যাবে। সেখানে বড় দুলাভাই, মেজো দুলাভাই সবাই আসবে আজ। তোমার এই টি-শার্ট দেখলে কী ভাববেন তারা বলো তো? আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দেবে না নাকি?’
মারুফ চুপচাপ টি-শার্ট খুলতে শুরু করল। কিছুদিন আগের ঘটনা। শার্ট পরে তানিয়াকে নিয়ে ওর বড় বোনের বাসায় দাওয়াত খেতে বাসা থেকে কেবল বের হচ্ছিল মারুফ। তানিয়া নিরাশ কণ্ঠে বলেছিল, সবসময় শার্ট পরে থাকো কেন! বুড়া বুড়া লাগে! টি-শার্ট-টার্ট পরতে পারো না। মানে আমি বুঝি না, তুমি মানুষ না রোবট! আমি কার সঙ্গে যে সংসার করছি!

রম্যগল্প

টোকাটুকি ঠোকাঠুকির দিনরাত্রি

 ইমন চৌধুরী 
০২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

০১.
‘এটা কী এনেছ?’ জানতে চাইল তানিয়া।
‘বেগুন।’ সতর্ক কণ্ঠে জবাব দিল মারুফ।
‘তোমার কী ধারণা, আমি বেগুন চিনি না?’
‘আমি কি তা বলেছি! তুমি জানতে চাইলে তাই বললাম।’
‘এটা বেগুন আমিও দেখতে পাচ্ছি। আমার চোখ আছে। তোমার মতো চোখের মাথা খাইনি এখনো। বেগুন আনতে কে বলেছে তোমাকে? বাজারে তো আরও অনেক রকম সবজি আছে, চোখে দেখতে পাওনা নাকি?’
মারুফ চুপ করে রইল। দুদিন আগে বাজার থেকে চাল কুমড়া এনেছিল। তখনো তানিয়া রেগে গিয়েছিল। চিৎকার করে বলেছিল, কুমড়া ছাড়া চোখে আর কিছু দেখতে পাওনা! তারও দুদিন আগে এনেছিল কচুর শাক। চিৎকার করে তানিয়া বলেছিল, দুনিয়াতে এত শাক থাকতে শেষ পর্যন্ত তোমাকে কচুর শাক আনতে হলো! আমি কার সঙ্গে সংসার করছি!
০২.
‘এটা কী?’ চোখ বড় বড় করে মারুফকে প্রশ্ন করল তানিয়া।
‘পুঁটি মাছ।’ ভয়ে ভয়ে জবাব দিল মারুফ।
‘আচ্ছা, বাজারে যে বড় বড় রুই, কাতলা, শোল, বোয়াল-এইসব মাছ উঠে তুমি দেখতে পাও তো?’
‘পাই। বড় মাছও তো আনি। সবসময় বড় মাছ খেতে ভালো লাগে না।’
‘বাহ! বড় মাছ খেতে উনার ভালো লাগে না। তাই উনি ছোট মাছ কিনেছেন।’
‘বড় মাছ খেতে ভালো লাগে না সেটা বলিনি আমি। বলেছি সবসময় খেতে ভালো লাগে না।’
‘চমৎকার! এখন তোমার এই পুঁটি মাছ কাটবে কে শুনি? আমার জন্য কি দুই-চারটা কাজের বুয়া রেখেছ! আমাকেই তো বুয়া বানিয়েছ! আমি কার সঙ্গে সংসার করছি!
০৩.
‘এটা কী কালার?’ শাড়িটা দেখেই জানতে চাইল তানিয়া।
‘ব্ল– কালার।’ জবাব দিল মারুফ। তানিয়ার জন্মদিন উপলক্ষ্যে শাড়িটা অফিস থেকে ফেরার সময় কিনে এনেছে গাউছিয়া থেকে।
‘আচ্ছা, তোমার কি আমাকে গরু-ছাগল মনে হয়?’
‘কী বলছ এসব! গরু-ছাগল মনে হবে কেন! মানুষ কখনো গরু-ছাগল হয়!’
‘হয়। গরু, ছাগল, গাধা, ভেড়া সব হয়। তোমাকে দেখলেই সেটা বোঝা যায়। রুচি-বুদ্ধি কিচ্ছু নাই। ব্ল– কোনো কালার হলো! তোমার কালার সেন্স এত জঘণ্য আগে জানলে আমি তোমাকে বিয়েই করতাম না।’
মারুফ চুপ করে রইল। গত বছর তানিয়ার জন্মদিনে মেরুন রঙের একটা শাড়ি এনেছিল। সেটা দেখেও আজকের মতো ক্ষেপে উঠেছিল তানিয়া। চিৎকার করে বলেছিল, মেরুন কোনো কালার হলো! জামা-কাপড়ের কালাটাও তুমি ঠিকঠাক পছন্দ করতে পারো না! আমি কাকে নিয়ে সংসার করছি!
০৪.
‘এটা কী পরেছ তুমি?’ মারুফের দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকাল তানিয়া।
‘কেন, টি-শার্ট পরেছি।’ যথারীতি শান্ত গলায় জবাব দিল মারুফ।
‘সে তো দেখতেই পাচ্ছি। টি-শার্ট পরেছ, আমাকে উদ্ধার করেছ! তুমি কোথায় যাচ্ছ সে খেয়াল আছে!’
‘কেন, তোমাদের বাসায় যাচ্ছি। মানে শ্বশুর বাড়ি।’
‘কিন্তু দেখে তো সেটা মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করতে যাচ্ছ। টি-শার্ট পরে কেউ শ্বশুর বাড়ি যায়! মানুষের তো একটু মিনিমাম কমনসেন্স থাকে।’
‘তাহলে কী পরব?’
‘কেন, তোমার শার্ট নাই? শ্বশুর বাড়ি যাবে শার্ট পরে যাবে। সেখানে বড় দুলাভাই, মেজো দুলাভাই সবাই আসবে আজ। তোমার এই টি-শার্ট দেখলে কী ভাববেন তারা বলো তো? আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দেবে না নাকি?’
মারুফ চুপচাপ টি-শার্ট খুলতে শুরু করল। কিছুদিন আগের ঘটনা। শার্ট পরে তানিয়াকে নিয়ে ওর বড় বোনের বাসায় দাওয়াত খেতে বাসা থেকে কেবল বের হচ্ছিল মারুফ। তানিয়া নিরাশ কণ্ঠে বলেছিল, সবসময় শার্ট পরে থাকো কেন! বুড়া বুড়া লাগে! টি-শার্ট-টার্ট পরতে পারো না। মানে আমি বুঝি না, তুমি মানুষ না রোবট! আমি কার সঙ্গে যে সংসার করছি!

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন