রম্যগল্প: পরামর্শ প্রদানের পর

 হানিফ ওয়াহিদ 
৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৪৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সদ্য বিবাহিত বন্ধু এসেছে পরামর্শ নিতে।
বললাম, ‘কী হইছে?’

বন্ধু কেঁদে দিল, ‘কী হইছে সেটা না বলে কী হয় নাই সেটা বল!’ 
‘বুঝলাম, সবকিছু খুলে বল তো।’

বন্ধু একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, ‘তোকে আর খুলে বলে কী হবে! বউকেই কতবার বললাম, তা আমাকে পাত্তা দিলে তো!’
‘লে হালুয়া!  ঘটনা বল দেখি।’
‘দোস্ত রে, আমি শেষ। সারাক্ষণ বউ আমারে দৌড়ের উপর রাখে। আমি গেলে উত্তরে, সে যায় দক্ষিণে! বউ মানেই একটা প্যারা!’

‘কেন? কী হইছে?’
‘আর বলিস না, টয়লেটে গেলেও বউকে কৈফিয়ত দিতে হয়। বউয়ের অনুমতি ছাড়া তো এক গ্লাস পানিও খেতে পারি না।’

আমি বিজ্ঞের মতো করে বললাম, ‘তুই শালা বাসর রাতেই মাইর খেয়ে বসে আছিস। ওই রাতে যদি ঠিকঠাক বিড়াল মারতে পারতি আজকে এই দশা হতো না।’

বন্ধু মুখ করুণ করে ফেলল, ‘আমি কি কম চেষ্টা করেছি, বল? এমনিতে সারাক্ষণ বিড়ালের বাচ্চাগুলো পায়ের সামনে ঘুরঘুর করে, বিয়ের দিন একটারেও খুঁজে পেলাম না। শেষে ইঁদুর মেরে কাজ সারতে হলো।’

‘ওরে সর্বনাশ! এখন কী সমাধান চাস? বউকে কন্ট্রোলে রাখতে চাস?’
বন্ধু আমার হাত ধরে বলল, ‘সেজন্যই তো আসা। বল তো দোস্ত, কী করি?’

যে করেই হোক বেকুবটাকে তাড়াতে হবে। তাই বললাম, ‘সমাধান আছে।’
‘কী সমাধান?’

আমি মজা করে বললাম, ‘তেলাপোকা!’
বন্ধু রেগে গেল, ‘কই তেলাপোকা?’

আমি হালকা গলায় বললাম, ‘আরে এখানে নাই। বাসায় গিয়ে তোর বউয়ের সামনে একটা ছেড়ে দিবি। ব্যস, কাজ হয়ে যাবে। স্বামীদের ভয় না পেলেও দুনিয়ার সব মেয়েই তেলাপোকা ভয় পায়।’

‘এতে লাভ হবে?’

‘অবশ্যই হবে। যখনই তোর সাথে তেড়িবেড়ি করবে, অমনি একটা তেলাপোকা ছেড়ে দিবি। দেখবি সুড়সুড়  করে লাইনে এসে গেছে।’
বেকুবটা কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, ‘ভালো বুদ্ধি দিছিস তো দোস্ত! আশ্চর্য! এই বুদ্ধি আমার মাথায় আসে নাই কেন? বউ ঠিকই বলে, আসলেই আমি একটা গাধা। কিন্তু দোস্ত, কাজ হবে তো?’

‘আলবৎ হবে। একশ পারসেন্ট গ্যারান্টি। বিফলে মূল্য ফেরত। দেখছিস না, আমার বউকে আমি কীভাবে কন্ট্রোল করেছি। আমার সামনে ট্যাঁ ফোঁ করার সাহস পায়? আমি উঠতে বললে উঠে, বসতে বললে বসে।’

বন্ধু পারে তো আমার পা ছুঁয়ে কদমবুসি করে। বন্ধু চলে যেতেই রান্নাঘর থেকে বউ আমার রুমে এলো। ভয়ে আমার হাত-পা কাঁপতে লাগল। ওরে সর্বনাশ! বউ শুনে ফেলে নাই তো!

বউ শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ মুছে সোফায় বসতে বসতে বলল, ‘এই, তোমরা কী নিয়ে কথা বলছিলা?’
আমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললাম, ‘আরে, ওরে পরামর্শ দিলাম...!’

বউ শেষ করতে না দিয়ে তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, ‘তুমি দিলা পরামর্শ! তোমার নিজের মাথাতেই তো ঘিলু নাই!  তা কী পরামর্শ দিলা, শুনি?’
আমি হাত নেড়ে বললাম, ‘আরে দূর! বাদ দেও তো।’

‘বাদ দিবো কেন? শুনি না, কী পরামর্শ দিলা!’

‘আর বইলো না, গাধাটা বউয়ের কথা শোনে না, সারাক্ষণ খিটিমিটি করে। ওরে বললাম, শোন গাধা, সব সময় বউয়ের কথা মতো চলবি। বউ যা বলে বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নিবি। শীতের দিনে তার গোসল করতে কষ্ট হলে তার হয়ে তুই গোসল করে নিবি। বউ কষ্ট পায় এমন কাজ জীবনেও করবি না। বউ উঠতে বললে উঠবি, বসতে বললে বসবি। বউ তো সবসময় তোর ভালোই চায়, নাকি?’

বউ শাড়ির আঁচল দিয়ে আবারও মুখ মুছতে মুছতে বলল, ‘ভালো কাজ করছ। মানুষকে সব সময় এমন সুপরামর্শ দিবা, বুঝছ?’
আমি মিনমিনে গলায় বললাম, ‘অবশ্যই


 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন