Logo
Logo
×

বিএনপি

সংসদে যাচ্ছেন বগুড়ার তিন উপজেলা চেয়ারম্যান

Icon

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ পিএম

সংসদে যাচ্ছেন বগুড়ার তিন উপজেলা চেয়ারম্যান

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনেই দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। তাদের মধ্যে চারজন নতুন মুখ। তিনজন একসময় বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। 

তারা হলেন- বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মীর শাহে আলম, বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে আবদুল মহিত তালুকদার ও বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে মোরশেদ মিল্টন।

জানা গেছে, বগুড়া-২ আসনটি শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নিয়ে গঠিত। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মীর শাহে আলম ২০০৯ সালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বিসিক ও বিআরটিসির পরিচালকসহ বিভিন্ন পদে আসীন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর সাবেক মেয়র আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান পেয়েছেন, ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট। 

মীর শাহে আলম জানান, সংসদে গিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফার বাস্তবায়নে সহযোগিতার পাশাপাশি আসনটি ঢেলে সাজিয়ে উন্নয়নের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলবেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে উন্নয়নে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন।

বগুড়া-৩ আসনটি দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলা নিয়ে গঠিত। আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মুহিত তালুকদার ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ আসনে তার বাবা আবদুল মজিদ তালুকদার তিনবার ও বড় ভাই আবদুল মোমেন তালুকদার খোকা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে আবদুল মোমেন তালুকদার খোকার স্ত্রী মাসুদা মোমেনকে প্রার্থী করা হয়েছিল। তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম তালুকদারের কাছে পরাজিত হন। এবারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবদুল মুহিত তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর নূর মোহাম্মদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট। আবদুল মুহিত তালুকদার বগুড়া-৩ আসনের আদমদীঘি ও দুপচাঁচিয়া উপজেলার কাঙ্ক্ষিত সব উন্নয়ন কাজ করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া বগুড়া-৭ আসনটি গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। গাবতলীর বাগবাড়ি গ্রামে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান। এখানে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সব নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছিল। নেত্রীর মৃত্যুর পর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টনকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়। তিনি ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী পেয়েছেন, ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৮৪ ভোট।

এমপি হওয়ার আগে মোরশেদ মিল্টন গাবতলী পৌরসভার মেয়র ও পরে গাবতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার উপজেলা পরিষদের পদ থেকে পদত্যাগ গৃহীত না হওয়ায় সেবার বিএনপি প্রার্থী ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর বিএনপির সমর্থনে রেজাউল করিম বাবলু নামে এক ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক মার্কা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

মোরশেদ মিল্টন বলেন, ভোটাররা বিপুল ভোটে তাকে নির্বাচিত করে জিয়া পরিবারের মর্যাদা রেখেছেন। তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালনের মাধমে জিয়া পরিবারের এ আসনের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখবেন বলে আশা করেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম