বাবার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছি: ইয়াসির আলী

  আল-মামুন ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

ইয়াসির আলী
ইয়াসির আলী

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলার পর থেকেই আলোচনায় ইয়াসির আলী। গত বছর দুর্দান্ত পারফর্ম করে জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই অটোরিকশা দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন ভেঙে যায় চট্টগ্রামের এ ক্রিকেটারের। ঘরের মাঠে শ্রীলংকা ‘এ’ দল এবং আয়ারল্যান্ড সফরে ‘এ’ দলের হয়ে খেলার কথা থাকলেও চোটের কারণে খেলতে পারেননি।

বিপিএলের চলমান ষষ্ঠ আসরে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আবারও আলোচনায় ২২ বছর বয়সী ইয়াসির। বিপিএলের আগের তিন আসরে চিটাগং ভাইকিংস ও খুলনা টাইটানসের হয়ে খেলা ইয়াসির বিপিএলের চলতি আসরের শুরুর দুই ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি।

ফিক্সিং কেলেঙ্কারির শাস্তি কাটিয়ে বিপিএলে ফেরা মোহাম্মদ আশরাফুল প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে না পারায় তার পরিবর্তে সুযোগ হয় ইয়াসিরের। সেই সুযোগের শতভাগ কাজে লাগাচ্ছেন চিটাগং ভাইকিংসের এই ক্রিকেটার। এ নিয়ে তিন ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়ে দুর্দান্ত ফিফটিসহ ৯৯ রান করে আলোচনায় উঠে এসেছেন চট্টগ্রামের এই ক্রিকেটার।

যুগান্তারকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের ক্রিকেটার হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন ইয়াসির আলী। তার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো।

যুগান্তর: আপনার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার গল্প বলুন?

ইয়াসির: বাবার হাত ধরে আমার ক্রিকেটার হয়ে ওঠা। ছোট বয়স থেকেই ক্রিকেট খেলছি। ২০১০ সাল থেকে প্রফেশনাললি ক্রিকেট খেলছি।

যুগান্তর: ক্রিকেটকে বেছে নেয়ার কারণ?

ইয়াসির: আসলে আমার বাবা পুরোপুরি ক্রিকেট ভক্ত ছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল আমি যেন ক্রিকেটার হই। ১৯৯৯ সালে আকরাম খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন আইসিসি ট্রফি জিতল, আকরাম ভাই ছিলেন চিটাগাংয়ের মানুষ। আমার বাবা ওনাকে দেখে বেশ অনুপ্রণিত হন। তখন থেকেই আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলতে।

যুগান্তার: ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?

ইয়াসির: আমার বাবা। তিনি আমাকে ক্রিকেট খেলার জন্য অনেক বেশি উৎসাহ দিচ্ছেন। তার স্বপ্ন ছিল আমি যেন বড় ক্রিকেটার হই। তাছাড়া আমার এক চাচা ছিলেন, তিনি চিটাগাংয়ে ক্রিকেট খেলতেন। অত বড় তারকা ছিলেন না। তিনি আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন।

যুগান্তর: ক্রিকেটে আপনার রোলটা কী?

ইয়াসির: শুরু থেকেই আমি ব্যাটসম্যান ছিলাম, মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছি। এখনও সেভাবেই খেলছি। জাতীয় লিগ, বিসিএল, অনূর্ধ্ব-১৯ এবং এ দলসহ, হাই পারফরম্যান্সে খেলেছি।

যুগান্তর: ২০১৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আপনার সঙ্গে খেলা লিটন, মোস্তাফিজ, মিরাজরা এখন জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। আর আপনি..?

ইয়াসির: আসলে আমি এটাকে নেগেটিভ নেই না। লিটন, মোস্তাফিজ, মিরাজরা জাতীয় দলে খেলছে। ওদের দেখে খুব ভালো লাগে। তবে আমিও ওদের মতো সুযোগের অপেক্ষায় আছি। আশা করছি, আমারও সেই সুযোগটা আসবে। সুযোগ পেলে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।

যুগান্তর: কার খেলা দেখে আপনি অনুপ্রাণিত হন?

ইয়াসির: তামিম ইকবাল ভাইয়ের খেলা আমার ভালো লাগে। উনিও চিটাগাংয়ে খেলোয়াড় আমিও চিটাগাংয়ের। উনার ব্যাটিং খুব ভালো লাগে।

যুগান্তর: বিপিএলে আপনি তো এ নিয়ে চার আসর খেলছেন?

ইয়াসির: হ্যাঁ, দুই আসরে চিটাগং ভাইকিংসে খেলেছি। সবশেষ খেলেছি খুলনা টাইটানসে। এবার আবার চিটাগং ভাইকিংসে। আসলে প্রথম তিন আসরে দলে ছিলাম। কিন্তু সেভাবে ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি। এবার ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি। আর সেই সুযোগ কাজে লাগানোর শতভাগ চেষ্টাই করছি।

যুগান্তর: বিপিএলে ক্রিস গেইল, শহীদ আফ্রিদি, এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো অনেক তারকা ক্রিকেটার খেলছেন। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন?

ইয়াসির: আমি গেইলের সঙ্গে চিটাগং ভাইকিংসে এক আসরে খেলেছি। দলে থাকা অবস্থায় উনার কাছ থেকে বেশি কিছু টিপস পেয়েছি। এবার মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে খেলছি। উনি একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার, উনার কাছ থেকেও অনেক পরামর্শ পাচ্ছি।

যুগান্তার: জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য বিপিএলকে একটা সিঁড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই দিক থেকে আপনার পরিকল্পনা কি?

ইয়াসির: অব্যশই এটা অনেক বড় একটা আসর। জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়ার জন্য বিপিএল একটা প্ল্যাটফর্ম। আমিও চেষ্টা করছি, এখানে ভালো খেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে।

যুগান্তর: গত বছর হঠাৎ করেই শুনলাম আপনি দুর্ঘটনায় পড়েছেন?

ইয়াসির: রমজান মাসের কোনো একদিন ইফতারির দাওয়াতে অংশ নিতে অটোরিকশায় যাচ্ছিলাম। পেছন থেকে একটি সিএনজি ধাক্কা দেয়। বাম পায়ে মারাত্মক আঘাত পাই। যে কারণে অপারেশন করতে হয়। এই চোট কাটিয়ে খেলায় ফিরতে চার মাস অপেক্ষা করতে হয় আমাকে। অথচ তখন আমি খুব ফর্মে ছিলাম। আসায় ছিলাম দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সঙ্গে সিরিজ খেলব এবং ‘এ’ দলের সঙ্গে আয়ারল্যান্ড সফরে যাব। কিন্তু ইনজুরির কারণে আমার সেই স্বপ্ন ভেস্তে যায়।

যুগান্তর: আপনার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের স্মরণীয় স্মৃতি?

ইয়াসির: চিটাগাংয়ে অনূর্ধ্ব-১৮ একটা টুর্নামেন্টে খেলার সময় কোনো এক ম্যাচে শূন্য রানে আমি আউট হয়েছিলাম। সেই সময় আমার বাবা মাঠেই ছিলেন। আমাকে শূন্য রানে আউট হতে দেখে বাবা খুব কষ্ট পান। যে কারণে আমার সঙ্গে রাগ করে তিন দিন কথা বলেননি। সেই থেকেই আমার ভেতর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার জেদটা আরও বেশি কাজ করে। তখন থেকেই টার্গেট করি, বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য হলেও ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করব।

যুগান্তর: ক্রিকেট খেলাটাকে কতটা ইনজয় করেন?

ইয়াসির: ক্রিকেট খেলাটা অনেক বেশি ইনজয় করি। ইনজয় ছাড়া ক্রিকেট হয় না। ক্রিকেট এখন আমার রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে। ঘুমালেও স্বপ্ন দেখি ক্রিকেট নিয়ে।

যুগান্তর: আপনার কি মনে হয়, ক্রিকেটটাকে পেশা হিসেবে নেয়া যায়?

ইয়াসির: অব্যশই, অবশ্যই। ছোট থেকেই ক্রিকেটে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেছি। সেই স্বপ্নেই এগিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি ক্রিকেট নিয়েই থাকতে পারব। আমি তরুণ-উঠতি ক্রিকেটারদের বলব তারা যেন ক্রিকেটকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয় এবং নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করে।

যুগান্তর: কার মতো হতে চান?

ইয়াসির: আমার পছন্দের ক্রিকেটার তামিম ভাই। আমি হয়তো তামিম হতে পারব না। তবে তামিম ভাইকে ফলো করে ইয়াসির আলী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এটাই আমার চাওয়া।

যুগান্তর: নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

ইয়াসির: অবশ্যই বাংলাদেশ জাতীয় দলের একজন তারকা ক্রিকেটার হিসেবে দেখতে চাই। শুধু দেশেই নয়, বিশ্বের বিখ্যাত একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। সেই স্বপ্নই দেখছি ছোটবেলা থেকে।

ঘটনাপ্রবাহ : চিটাগং ভাইকিংস: বিপিএল ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×