অভিযুক্ত চবি শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত গণহত্যায় সমর্থন ও শিক্ষার্থীদের নির্যাতনে ছাত্রলীগকে সহায়তা দেওয়ায় অভিযুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে শনিবার ক্যাম্পাস থেকে আটক করেছে শিক্ষার্থীরা।
অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আওয়ামীপন্থী সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ।
তার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যায় সমর্থন, ছাত্রলীগের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হুমকি এবং রাজনৈতিকভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি এবং সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্যাম্পাসের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়ার মত অভিযোগ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আনীত এসব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৪তম সিন্ডিকেট সভায় রোমান শুভর বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদভুক্ত বি ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় আইন অনুষদের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর ক্যাম্পাসে উপস্থিতির খবর পেয়ে চাকসুর প্রতিনিধিরা আইন অনুষদে যান। এ সময় চাকসু প্রতিনিধিদের উপস্থিতি টের পেয়ে অনুষদের পেছনের পথ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে দৌড়ে আটক করা হয়।
চাকসুর আইনবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহীদ জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে রোমান শুভর বিরুদ্ধে। আওয়ামী শাসনামলে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। ক্যাম্পাসের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ ছাত্রদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন।
ফজলে রাব্বি বলেন, শুধুমাত্র গনতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত থাকায় আইন অনুষদের শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধে মামলা করার মাধ্যমে তার শিক্ষা জীবন তছনছ করে দিয়েছে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক রোমান শুভ। অভ্যুত্থানের পর ২০ আগস্ট শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ৭ দফা অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিলো।
চাকসু ভিপি ইব্রহিম রনি বলেন, ওই শিক্ষক যা করছেন, সবগুলোই ফৌজদারী অপরাধ। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলবো, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, আমি কোনো মৌন মিছিলে অংশ নিইনি। কেউ তা প্রমাণ করতে পারলে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। আমি একজন আইনের শিক্ষক। জুলাই আন্দোলনে আমি কোথাও অংশ নিইনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে। এর আগে শিক্ষার্থীদের একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যায় সম্পৃক্ততাসহ তিনিটি অভিযোগ তদন্তাধীন। তবে শিক্ষক যদি আগে থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করতেন, তাহলে তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পরিস্থিতি এড়ানো যেত।
