১৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হচ্ছে
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জেগে উঠেছে। একের পর এক নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি কার্যক্রমে তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দ্রুতগতিতে এসব কাজ শেষ করতে মরিয়া একশ্রেণির কর্মকর্তা ও তাদের সহচররা। যা নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনে চলছে তোলপাড়। নতুন করে ১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত করা হয়েছে। এজন্য সরকারকে গুণতে হবে বছরে বাড়তি ৬৭০ কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছরে দরকার হবে ১৬৭ কোটি টাকা। যেখানে ইতোমধ্যে সংশোধিত বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, তালিকায় নিম্ন-মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪৭১টি। যেখানে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৬২৩টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১০৫টি এবং ১৪৫টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ রয়েছে। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষায় ৭৮টি দাখিল, ২০২টি আলিম এবং ৩৫টি ফাজিল পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন শূন্য থাকা পদ পূরণ এবং শিক্ষক সংকট নিরসনের কথা বলে এসব কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ সরকারের শেষ সময়ে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখা কঠিন। সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করে এমন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইএমআইএস পোর্টালে অনলাইনে জমা দিতে হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, জমির দলিল, শিক্ষক-কর্মচারীদের সব সনদের কপি, দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারপত্র, টিডিসি রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়, যা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা, যাচাই-বাছাই ও নিয়মিত পরিদর্শন করে এমপিওভুক্ত করতে স্বাভাবিকভাবে ৬ মাসের বেশি সময় লেগে যায়। সেখানে নির্বাচনের আগেই দ্রুততার সঙ্গে (এক মাসের কম সময়) মধ্যে এই কাজ শেষ করতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একদিকে শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত নিয়ে চলছে তোড়জোড়, অন্যদিকে এই কাজে আর্থিক লেনদেন না করতে বলছে মন্ত্রণালয়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে কারো সঙ্গে যোগাযোগ বা আর্থিক লেনদেনে না জড়ানোর জন্য গত বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, এমপিওভুক্তির পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। এতে কোনো ধরনের ম্যানুয়াল মূল্যায়নের সুযোগ নেই। গত ৭ জানুয়ারি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ওই গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
