ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে সফলতা

  বাকৃবি প্রতিনিধি ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২২:২১ | অনলাইন সংস্করণ

‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ ছাগলের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ ছাগলের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: যুগান্তর

পাট, মহিষ ও ইলিশের পর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল’ ছাগলের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) একদল গবেষক।

মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ঘোষণা দেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান।

প্রধান গবেষক বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপ্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকারের নেতৃত্বে গবেষক দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন পোল্ট্রিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্ল্যা, পশুপ্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঞা, বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল জলিল, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেব, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. পণির চৌধুরী ও নূরে হাছনি দিশা।

জিনোম হচ্ছে কোনো প্রজাতি বা জীবের মোট নিউক্লিওটাইডের সমষ্টি। সহজ কথায় জিনোম হচ্ছে কোনো জীবের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। জীবের অঙ্গসংস্থান, জন্ম, বৃদ্ধি, প্রজনন এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াসহ সব জৈবিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এর জিনোমে সংরক্ষিত নির্দেশনা দ্বারা।

পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং হচ্ছে কোনো জীবের জিনোমে সমস্ত নিউক্লিওটাইডসমূহ কীভাবে বিন্যস্ত রয়েছে তা নিরূপণ করা। একটি জীবের জিনোমে সর্বমোট জিনের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের কাজ পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স থেকেই জানা যায়।

বাংলাদেশে মোট ছাগলের ৯০ ভাগই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই ছাগলের অবদান অপরিসীম। বিশেষ করে গ্রামীণ দুস্থ নারী, ভূমিহীন পরিবারের জীবন ও জীবিকায় ছাগল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার টন ছাগলের মাংস উৎপাদিত হয় যা মোট উৎপাদিত গবাদিপশুর মাংসের প্রায় ২৫ ভাগ।

গবেষকরা অ্যাসেম্বলকৃত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জিনোমে প্রায় ২ দশমিক ৯ গিগা বেজ নিউক্ল্রিওটাইড পেয়েছে। যার মাইটোকন্ড্রিয়াল জিনোম সাইজ ১৬ হাজার ৬৪০টি নিউক্লিউটাইড যাতে ৩৭টি জীন রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সিকোয়েন্স এনালাইসিস করে ২৬ লাখ ৫ হাজার ৩০০টি সিঙ্গেল নিউক্লিউটাইড পলিমরফিজম (এসএনপি) পাওয়া গেছে। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল জিনোমে জিনের সংখ্যা ও গঠন জানার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

প্রধান গবেষক ড.এ.এম. ইয়াহিয়া খন্দকার বলেন, বাংলাদেশে আমরাই প্রথম ব্ল্যাক বেঙ্গলের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছি। এর মাধ্যমে এখন ব্ল্যাক বেঙ্গলের খাদ্যাভাস, শারীরিক গঠন, চামড়া ও প্রজননসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর গবেষণার দ্বার উন্মেচিত হলো। ভবিষ্যতে কেউ গবেষণা করতে চাইলে এই জিনোম সিকোয়েন্সিং অনেক কাজে লাগবে।

গবেষক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্ল্যা বলেন, বাংলাদেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের একটি পূর্ণাঙ্গ জিনোম রেফারেন্স তৈরি করেছি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের একটি পূর্ণাঙ্গ রেফারেন্স জিনোম তৈরি হলো। এতে করে ডিএনএ আবিষ্কার ও মার্কারগুলোর মাধ্যমে ছাগলের ওজন বৃদ্ধির হার, দুধ উৎপাদন, বাচ্চা উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ও মাংসের গঠন সংক্রান্ত জিন আবিষ্কার করা সহজ হবে। ফলে সহজেই ছাগলের মোট জিনের সংখ্যা, গঠন ও কার্যাবলি নিরূপণ করা যাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×