‘সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল’ প্রণয়নের তাগিদ এনএসইউর সংলাপে
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের তাগিদ এসেছে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, সাইবার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) সোমবার ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা: নতুন ও পরিবর্তনশীল যুগে জাতীয় নিরাপত্তার পুনর্বিবেচনা’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে, যেখানে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক, নীতি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সিপিএসের পরিচালক অধ্যাপক এম জসিম উদ্দিন বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং একে অপরকে শক্তিশালী করে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বাংলাদেশকে তার নিজস্ব লেন্স থেকেই দেখা।
এ আয়োজনের একটি প্যানেল আলোচনায় প্রতিরক্ষা ও সামরিক জোট নিয়ে কথা হয়। মূল প্রবন্ধে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম কম।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত প্রতিরক্ষা বরাদ্দের অভাব একটি সুসংহত ও সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের জন্য উপযুক্ত প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, সক্ষমতার ঘাটতি বাংলাদেশকে অসমমুখী নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি প্রাতিষ্ঠানিক আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
দ্বিতীয় প্যানেলে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান বলেন, একটি কার্যকর জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের আগে প্রয়োজন শক্তিশালী সাইবার অবকাঠামো গড়ে তোলা।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তাকে সংযুক্ত করার এখনই উপযুক্ত সময়।
তৃতীয় প্যানেলে আলোচনা হয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে। অবসরপ্রাপ্ত কমোডর সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন আহমদ একটি বহুমাত্রিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
অধ্যাপক এম জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা একটি সামুদ্রিক জাতি। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত হল আমাদের সামুদ্রিক অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখা।
অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আনোয়ার হোসেন বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা এবং একটি সমন্বিত ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলার জন্য একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
প্যানেল আলোচনা শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে ছোট রাষ্ট্রও বৃহৎ শক্তিকে পরাজিত করতে সক্ষম।
বিশেষ অতিথি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর একটি জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সমাপনী বক্তব্যে এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগকে দেশীয় গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াভিত্তিক জাতীয় নিরাপত্তা নীতি, সাব-থ্রেশহোল্ড ও হাইব্রিড যুদ্ধের ঝুঁকি, সমুদ্রপথে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার যুদ্ধ এবং জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নে সমন্বয়ের ঘাটতির মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
