চৌর্যবৃত্তি, এআই ব্যবহারসহ নানা অনিয়মে ইবির ১০ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার
আবির হোসেন, ইবি
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চৌর্যবৃত্তি (প্লেজিয়ারিজম), তথ্যগত অসঙ্গতি, ভুয়া পিয়ার রিভিউ (বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার এবং গবেষণা-নৈতিকতা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মোট ১০টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার (রিট্র্যাক্ট) করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা-সততা পর্যবেক্ষণকারী প্লাটফর্ম ‘রিট্রাকশন ওয়াচ’ এবং বিভিন্ন খ্যাতনামা সাময়িকীর ডেটাবেজ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
রিট্রাকশন ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট মোট ১০টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট জার্নালগুলোর প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি ও প্রকাশনা ডাটাবেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহারের পেছনে প্লেজিয়ারিজম, গবেষণার তথ্য, বিশ্লেষণ ও ফলাফলের অসংগতি, পিয়ার রিভিউ প্রক্রিয়ায় কারচুপি, রেফারেন্স ও সূত্র উল্লেখে অনিয়ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কম্পিউটার-সহায়তায় তৈরি বিষয়বস্তুর ব্যবহার, লেখকস্বত্বা ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, পেপার মিল, লেখকের সাড়া না পাওয়া এবং প্রকাশকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লেখকদের আপত্তির মতো গুরুতর অভিযোগ শনাক্ত করেছে প্রকাশকরা।
ইবির প্রত্যাহার হওয়া ১০টি গবেষণাপত্রের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১টি, গণিত বিভাগের ৪টি, অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের ২টি, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১টি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ২টি গবেষণাপত্র রয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রত্যাহার হওয়া একটি গবেষণাপত্রই বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকাভুক্ত ড. হাবিবুর রহমানের। গণিত বিভাগের চারটি গবেষণাপত্রের মধ্যে দুটি ড. এসএম মোস্তফা কামালের এবং দুটি ড. সজিব আলীর। অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের দুটি গবেষণাপত্রের মধ্যে একটি বিভাগের শিক্ষক ড. কামরুজ্জামানের এবং অন্যটি সাবেক শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেনের। এছাড়া বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শাহেদুর রহমানের একটি এবং আইসিটি বিভাগের দুটি গবেষণাপত্রের মধ্যে একটি শিক্ষার্থী এন গাফারের ও অন্যটি শিক্ষক ড. সাদেক আলীর।
প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল ইয়ংগার আদার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও স্তন ক্যানসারবিরোধী কার্যকারিতা, বাজারের সবজিতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি, কোয়ান্টাম-ডট প্রযুক্তিভিত্তিক শিফট রেজিস্টার, ৩ডি-সিএনএন ব্যবহার করে আলঝেইমার রোগ শনাক্তকরণ, ডিপ লার্নিংয়ের মাধ্যমে পালমোনারি ফাইব্রোসিস ও লাম্বার স্পন্ডাইলোলিসথেসিস রোগ নির্ণয়, কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে স্তন ক্যানসার শ্রেণিবিন্যাস, ভেহিকল-টু-ভেহিকল যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং কোভিড-১৯ সময়ে জীবনমান ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব বিশ্লেষণ। এ গবেষণাপত্রগুলোর বিশ্বের অন্যতম গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার, স্প্রিঞ্জার নেচার, উইলি, হিন্দাউই, বিএমসি এবং এমডিপিআই এর জার্নাল থেকে প্রত্যাহার হয়েছে।
এ বিষয়ে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেক আলী জানান, গবেষণাপত্রটিতে তিনি কো-অথর ও করেসপন্ডিং অথর ছিলেন। তার এক শিক্ষার্থী ছিলেন মূল কো-অথর। গবেষণাটি সব নিয়ম মেনেই জমা দেওয়া হলেও প্রকাশের অনেক পরে কর্তৃপক্ষ ‘গেস্ট এডিটর দ্বারা যথাযথভাবে পিয়ার রিভিউ হয়নি’ বলে জানায়।
গণিত বিভাগের ড. এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে কোনো গবেষণাপত্র আমি জার্নালে পাঠাইনি। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. হাবিবুর রহমান বলেন, আমি এই রিসার্চ পেপারের প্রথম অথোর না। ডেভেলপিং কান্ট্রির একজন সদস্য থাকলে ফান্ডিং সুবিধা পেতে ভারতের একজন প্রফেসর আমাকে সেখানে রেখেছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে কমিটি করা হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবে।
