বাকৃবিতে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলা

  বাকৃবি প্রতিনিধি ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও মারামারির সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কালের কণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের গেস্টরুমে বুধবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিককে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে গেস্টরুম চলাকালে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রলীগ কর্মী প্রথম বর্ষের এক কর্মীকে থাপ্পড় মারে। এতে প্রথম বর্ষের কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন বুধবার গেস্টরুমে যেতে আপত্তি জানায়। প্রথম বর্ষের কর্মীদের সঙ্গে হলের দ্বিতীয় বর্ষের কর্মীদের কথাকাটাকাটি হয়।

এ সময় ওই হলের হল শাখার ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা প্রথম বর্ষের কর্মীদের গেস্টরুমে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তারা দুই বর্ষের কর্মীদের মাঝে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। এরপর সিনিয়র নেতারা গেস্টরুম থেকে চলে গেলে আবারও ওই দুই বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

এ সময় কালের কণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এবং বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল বাশার খবর সংগ্রহ করতে গেলে দ্বিতীয় বর্ষের কর্মীরা তাকে পেশাগত দায়িত্বপালনে বাধা দেয়। একপর্যায়ে প্রায় ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। একপর্যায়ে ওই হলের ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতারা আবুল বাশারকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এই ঘটনার পরপরই বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহরিয়ার মনির, আবুল বাশার মিরাজকে খবর সংগ্রহ করার জন্য শাসিয়ে বলেন, ‘তুমি এখানে কেন এসেছো? হলের খবর কেন তুমি বাইরে দেবে? হলের নিউজ করতে হলে হলের সিনিয়র নেতাদের অনুমতি নিতে হবে।’ পরে এ বিষয়ে শাহরিয়ার মনিরকে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা আহত আবুল বাশারকে রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ারে নিয়ে যায় এবং সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করানো হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মারুফ আহমেদ হাসপাতালে আবুল বাশারকে দেখতে আসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনার রাতে বারবার হল প্রভোস্টকে ফোন করা হলেও তিনি কল ধরেননি। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শংকর কুমার দাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান খোকনকে জানানো হলেও তিনি পরবর্তীতে কোনো ধরনের খোঁজখবর নেননি। পরে প্রক্টর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি হলের বিষয়, এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। যেহেতু আমাকে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি তাই আমি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি। আমাকে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি ব্যবস্থা নিতাম।

এ বিষয়ে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শাহীদুজ্জামান সাগর বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ন্যক্কারজনক ঘটনা। প্রশাসনের নীরবতার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। প্রশাসন আছেন শুধু ক্ষমতাসীন দলের জন্যই, অন্য কোনো শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের কোনো দায়ভার নেই। এছাড়াও ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা ছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×