ইবির শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য

সেই দুই শিক্ষককে শাস্তি দেয়নি সিন্ডিকেট

  ইবি প্রতিনিধি ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

নিয়োগ বাণিজ্যে অভিযুক্ত বাংলা বিভাগের ড. বাকি বিল্লাহ বিকুল এবং ইংরেজি বিভাগের ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ
নিয়োগ বাণিজ্যে অভিযুক্ত বাংলা বিভাগের ড. বাকি বিল্লাহ বিকুল এবং ইংরেজি বিভাগের ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ। ছবি: যুগান্তর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকায় অভিযুক্ত সেই দুই শিক্ষককে কোনো প্রকার শাস্তি দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষকের শাস্তি দিতে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।

শিগগিরই পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষক সদস্য তাদের অপরাধ বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তি ঘোষণা করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪৩তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম আবদুল লতিফ। তবে সুস্পষ্ট তথ্যপ্রমাণ থাকার পরও প্রশাসন অভিযুক্তদের শাস্তি দিতে গড়িমসি করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে ২৪৩তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১২টার দিকে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষকের দেয়া শোকজের জবাব সভায় পর্যালোচনা করেন সদস্যরা।

এ সময় ওই দুই শিক্ষকের কী শাস্তি দেয়া হবে, সে বিষয়ে কোনো প্রকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি সিন্ডিকেট সভা। অভিযুক্তদের শোকজের জবাব এবং তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতার বিষয়টি বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী তাদের শাস্তি প্রদানে পর্যবেক্ষক কমিটি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সভা থেকে।

তদন্ত প্রতিবেদনে নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পরও সিন্ডিকেটে তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শাস্তি না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের শাস্তি দিতে গড়িমসি করছে। ইতিপূর্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বাণিজ্য, প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন অপরাধের শান্তির সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট থেকে নেয়া হলেও এখন কেন নেয়া হচ্ছে না এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘তথ্য-উপাত্তে তদন্ত কমিটির কাছে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি প্রমাণ হওয়ার পরেও কেন তাদের শাস্তি দিতে পর্যবেক্ষক কমিটি করা হবে সেটি আমার বুঝে আসছে না।’

জানা গেছে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ দিতে এক প্রার্থীর সঙ্গে ২০ লাখ টাকার লেনদেন করেন বাংলা বিভাগের ড. বাকি বিল্লাহ বিকুল এবং ইংরেজি বিভাগের ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ। এ নিয়ে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

অভিযোগের সত্যতা যাচায়ে তদন্ত কমিটি করে প্রশাসন। তদন্ত কমিটি নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পায়। এর প্রেক্ষিতে ২৪২তম সিন্ডিকেটে শোকজ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম আবদুল লতিফ বলেন, ‘সিন্ডিকেট থেকে শিগগিরই উপাচার্যকে এক সদস্য বিশিষ্ট পর্যবেক্ষক কমিটি করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষক অভিযুক্তদের জবাব, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি দেবেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×