বিক্ষোভ না অনশন, খেই হারিয়েছেন ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:১০ | অনলাইন সংস্করণ

বিক্ষোভ না অনশন, খেই হারিয়েছেন ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা
শিক্ষক মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের চতুর্থদিনেও কর্মসূচি পরিষ্কার করতে পারেননি ভিকারুননিসা শিক্ষার্থীরা। ছবি: যুগান্তর

নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহননের ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগে আটক শিক্ষিকা হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে চতুর্থ দিনের বিক্ষোভে নিজেদের কর্মসূচি পরিষ্কার করতে পারেননি ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা।

রোববারে সকাল ৭টায় শুরু হওয়া বিক্ষোভে হাসনা হেনার সহকর্মী শিক্ষকদেরও অংশ নিতে দেখা গেছে।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয়া একেক শিক্ষার্থী একেক কথা বলছেন। তাদের অবস্থা অনেকটা খেই হারিয়ে ফেলার মতো।

শিক্ষক মুক্তির আন্দোলন কীভাবে এগিয়ে নিতে চাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করতে পারছেন না এসব শিক্ষার্থী।

তাদের মূল দাবি-আটক শ্রেণি শিক্ষক হাসনা হেনাকে মুক্ত করা। কিন্তু আন্দোলন করতে গিয়ে কেউ বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে চাচ্ছেন, কেউ বলছেন অনশনের কথা।

শনিবার বিক্ষোভে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দেয়া একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহী বলেন, আমরা সকাল থেকে অনশন করতে চেয়েছি। কিন্তু শিক্ষকরা নিষেধ করেছেন।

এর ৫ মিনিট না যেতেই কলেজের এক সাবেক ছাত্রী বলেন, আপুরা তোমরা হেনা আপার মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলনে যেতে প্রস্তুত? তখন শিক্ষার্থীরা প্রস্তুত বলে সমস্বরে চিৎকার করে সায় দেন।

তখন হ্যান্ড মাইকে তিনি বলেন, তবে আমরা আপুর মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অনশন করব।

এদিকে বেলা ১২টায় গভর্নিংবডির সদস্য ইউনূস আলী এসে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার কথা বলেন। তখন সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানদের উদ্দেশ্যে বলেন-আমরা অনশনে যাব।

কর্মসূচি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতৈক্য প্রসঙ্গে এক আন্দোলনকারী যুগান্তরকে বলেন, এরা বাচ্চা মানুষ, সব কিছু গুছিয়ে বলতে পারে না।

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশা বলেন, আমরা ভেতর থেকে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। তারা আমাদের অনশন করতে বলেছেন।

তবে শিক্ষকের নির্দেশে অনশন চলছে-প্রশ্নের জবাবে বলেন, ওরা (শিক্ষক) আমাদের বলেছিলেন...। তার কথা শেষ না হতেই শিক্ষার্থী রোজা বলেন, আমরা স্বেচ্ছায় এখানে সব শ্রেণির শিক্ষার্থী এসেছি, তার পরেই বলেন, আপাতত একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখানে আছে।

এ আন্দোলনে কিছু শিক্ষকও যোগ দেন। শিক্ষক সঙ্গীতা ইমাম বলেছিলেন, হাসনা হেনা আপা আমাদের সহকর্মী। সে হিসেবে তার মুক্তির দাবি করছি।

তিনি বলেন, আমরা হাসনা হেনা আপার কোনো দোষ দেখছি না। শ্রেণিশিক্ষক হিসেবে তিনি ছাত্রীকে অধ্যক্ষের কাছে নিয়ে গেছেন। এতে তার দোষ কোথায়?

‘আবেগের জায়গা থেকে এখানে দাঁড়িয়েছি, বিচারাধীন কোনো বিষয়ে আমরা কথা বলব না,’ বললেন শিক্ষক সঙ্গীতা।

তবে শনিবারের বিক্ষোভে যেসব শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ছিলেন, আজ তাদের কাউকেই দেখা যায়নি।

ঘটনাপ্রবাহ : ভিকারুননিসা ছাত্রী অরিত্রির আত্মহত্যা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×