ফিরে দেখা-২০১৭ বেরোবির আলোচিত নানা ঘটনা

  বেরোবি প্রতিনিধি ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:২২ | অনলাইন সংস্করণ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

অস্থিতিশীল, দ্বন্দ্ব, ক্যাম্পাস বন্ধ, আন্দোলন, সংঘর্ষ, রাজনীতির আরেক নাম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। ২০১৭ সালজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যায় নানা ঘটনা।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে নানান ইস্যুতে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল ও দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা, আন্দোলনের মুখে উপাচার্যের পদত্যাগ, রাতের আঁধারে উপাচার্য বাসভবনের পেছনের গেট দিয়ে পলায়নসহ বেশ কিছু আলোচিত ঘটনা ঘটে গেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

২০১৭ সালের শুরুতেই গোঁড়ায় গলদ দিয়ে শুরু হয় সবকিছু। ৫ জানুয়ারি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিং নিয়ে কথা বলায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাংবাদিক। সেদিনই সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউট ও ১০তলা বিশিষ্ট শেখ হাসিনা হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এর কিছুদিন পর বিভিন্ন সময়ের মত ফের অশান্ত হয়ে উঠেছিল কর্মকর্তা- কর্মচারীদের অসহযোগীতার ডাক দেয়ায়। ফেব্রুয়ারিতে ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাজে চাঁদা দাবি করে বেরোবি শাখা ছাত্রলীগ। এসময় চাঁদা না দেয়ায় ১২ জন শ্রমিককে কুপিয়ে জখম করে ছাত্রলীগ।

মার্চের ৪ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শাখা ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষে পুলিশ সাংবাদিকসহ ৪০ জন আহত হয়। এসব ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে যুগান্তরের ফটো সাংবাদিক উদয় চন্দ্র বর্মণ আহত হন। এক পর্যায়ে বেরোবি ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টরকে সালাম না দেয়ার অভিযোগে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী দিপু রায়কে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরে বাবার মৃত্য হয়।

এরপর ৪ মে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে এম নূর উন নবীকে খাবার সরবরাহ বন্ধ করে, স্টাফদের কক্ষে তালা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাদের চাকরির দাবিতে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে সেদিন ৩ ছাত্রলীগ নেতাকে বহিস্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

৫ মে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে এম নূর উন নবীর সকল অনিয়ম, দূর্নীতির প্রতিবেদন করে ইউজিসির তদন্ত কমিটি। এসব অনিয়ম দুর্নীতি প্রকাশ হওয়ার পর ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়। পর দিন রাতের আঁধারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়েই গোপনে পুলিশ পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়েন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে এম নূর উন নবী।

সাবেক উপাচার্য চলে যাবার ঠিক ২৮ দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তার ঠিক পরের দিন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ইফতার মাহফিলে মাগরিবের আজান দেয়ার ফলে ছাত্রলীগ নেতাকে বক্তব্যের সুযোগ না দেয়ার জেরে বেরোবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতিসহ সকল সদস্যকে লাঞ্ছিত করা হয়। এতে আরও লাঞ্ছিত হয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অন্য বিভাগের একজন শিক্ষক।

৮ জুলাই প্রায় ৯ লাখ টাকার ওষুধ মাটি চাপা দিয়ে রাখে ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বরতরা। এদিকে জুলাই এর ২০ ও ২১ হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ বাঁধে। শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পর্যন্ত আহত হয়।

৮ আগস্ট আবারও কর্মচারীদের বিক্ষোভ শুরু হয়রেজিস্ট্রারের অপসারনের দাবিতে। ১৯ আগস্টে অধিকাংশ সদস্য ছাড়াই শিক্ষক সমিতির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৮ আগস্ট আবারও ড.ওয়াজেদ রিসার্চ ইন্সটিটিউটে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে এবার উল্টো গণধোলায় খায় ছাত্রলীগের ২ নেতা।

এদিকে ২০ নভেম্বর আবারও ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। নতুন উপাচার্য যোগদান করার পর থেকেই আওয়ামী লীগের রংপুর সিটি কর্পোরেশন মেয়র প্রার্থী রাশেক রহমানের ঘনিষ্ঠতা খুব বেশি দেখা যায়। এমনকি ঘনিষ্ঠতা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে নানান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, সেমিনারের প্রধান এমনকি বেরোবির অর্থ দিয়ে কেনা দুটো বাসের পেছনে রাশেক রহমানের ছবি সংযুক্ত করা হয়। পরে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ হলে বাসে নির্বাচনী প্রচারণার ছবি অপসারণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দলীয় কোন্দল চরমে। এদিকে হলের নামে শহীদের নামের বানান ভুল সঠিক না করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সংবিধি, প্রবিধি না মানা, শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দেয়া, শিক্ষকদের এক পক্ষকে সুযোগ দিয়ে অন্য পক্ষকে বঞ্চিত করা, সংবিধান মতে বঙ্গবন্ধুর ছবি না টানানো এবং টাঙ্গানো নিয়ে অনিহা নিয়ে সারা বছরই আলোচিত ছিল বেরোবি।

এদিকে এবারের অনার্স প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষায় বিতর্কিত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠলেও এর সমাধান হয়নি। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা মারধরের ও চাদাবাজির শিকার হলেও প্রশাসন কানে নেয়নি বিষয়টি। ভর্তি পরীক্ষায় ৬ জন জালিয়াত শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এই জালিয়াত চক্রে কয়েকজন শিক্ষকের সক্রিয় জোগসাজশ আছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে শিক্ষক নেতার হাতে শিক্ষক নেতা লাঞ্ছিতের মত ঘটনা ঘটেছে বেরোবিতে। নীল দলের সভাপতি গণমাধ্যমকে কেন বক্তব্য দিয়েছে এটা নিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য সচিব শারিরীক ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×