জবিতে ফের ছাত্রলীগের দিনভর সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৪০

  জবি প্রতিনিধি ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দিনভর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সাংবাদিকসহ ৪০ আহত হয়েছেন।

সোমবার বেলা ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষ চলাকালে সাত থেকে ৮টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক সমকালের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি লতিফুল ইসলাম, দৈনিক সংবাদের রাকিবুল ইসলাম, খবরপত্রের সোহাগ রাসিফ আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের পদপ্রত্যাশীরা একত্র হয়ে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়। এরপর বেলা ১১টার দিকে পদপ্রত্যাশী বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে মহড়া দিয়ে প্রবেশ করতে চাইলে তাদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এ সময় উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়।

এরপর অন্যান্য পদপ্রত্যাশী বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস গেট থেকে সরে গেলে স্থগিত কমিটি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকে অনুসারীরা শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে মোবাইলে ছবি ধারণ করাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বিল্ডিংয়ের নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়।

এ সময় কমপক্ষে পাঁচ সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন। এদের সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এরপর বিকাল ৩টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে প্রধান ফটকের সামনে ক্যাম্পাসের বাইরের পদপ্রত্যাশী বিদ্রোহী নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয় সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এ সময় দুপক্ষের কর্মীরা ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি ও ৭-৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এ সময় সংবাদ সংগ্রহকালে সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক লতিফুল ইসলামের, দৈনিক সংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাকিব, খবর পত্রের সোহাগ রাসিফ, বিডি ২৪ রিপোর্ট এর প্রতিনিধি সানাউল্লাহ ফাহাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

পরে রাকিবকে উদ্ধার করে পুলিশ সুমনা হাসপাতাল এবং লতিফুল ইসলামকে ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

জবি ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল বলেন, ক্যাম্পাসে কী হচ্ছে তা আমরা জানি না। এটা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ভালো বলতে পারবে। কারা কী করছে, সেটার দায় এখন আমাদের ওপর বর্তায় না।

সভাপতি তরিকুল ইসলামকে ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজুয়ানুল হক শোভন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর আঘাত অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদেরকে (জবি ছাত্রলীগ) একবার স্থগিত করে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে কঠিন থেকে কঠিনতর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোতোয়ালি জোনের এসি বদরুল হাসান রিয়াদ বলেন, ছাত্রলীগের দুগ্রুপ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়াতে চাইলে আমরা মাঝখানে অবস্থান নিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দুই দিকে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় তিন প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও চার রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নেয়া হয়। আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×