জাবিতে র‌্যাগিং: সিনিয়রের থাপ্পড়ে কান ফাটল জুনিয়রের

  জাবি প্রতিনিধি ২৫ মার্চ ২০১৯, ১৪:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

জাবিতে র‌্যাগিং: সিনিয়ারের থাপ্পড়ে কান ফাটল জুনিয়রের
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. রাজন। ছবি: যুগান্তর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সিনিয়র ‘বড় ভাইয়ের’ থাপ্পড়ে কান ফেটেছে জুনিয়র ছাত্র মো. রাজনের। মীর মশাররফ হোসেন হলের গণরুমে দুই বছর আগে র‌্যাগিংয়ের সময় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ।

এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে শনিবার সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রাজন মিয়া প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের রাকিব হাসান সুমন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের সাকিব জামান অন্তুকে কান ফাটানোর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা উভয়ই ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

রাজনের ব্যাচের শিক্ষার্থী ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, প্রথম বর্ষে সব শিক্ষার্থীর গণরুমে থাকতে হয়। সেখানে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা ‘আদব কায়দা বা ক্যাম্পাসের নিয়ম কানুন’ শিখানোর নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন (র‌্যাগিং) করে।

ওই হলে ৪৬ ব্যাচ গণরুমে উঠলে ৪৫ ব্যাচের ব্লকের (যারা ছাত্রলীগের ব্লকে থাকে) শিক্ষার্থীরা রাত ১২টার দিকে এসে ভোর পর্যন্ত সিটিং করাত।

অভিযোগপত্রে রাজন উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ৭ মে মীর মশাররফ হোসেন হলের গণরুমে সিটিং (র‌্যাগিং) চলছিল। সে সময় কথার জের ধরে রাকিব হাসান আমাকে পরপর কয়েকটা থাপ্পড় মারে। তখন আমি তাকে থাপ্পড় না দেয়ার জন্য অনুনয় করি। এর পর পাশে থাকা সাকিব জামান এসে আমাকে আরও কয়েকটি থাপ্পড় দেয়। এতে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই। পরে আমাকে মেডিকেলে নেয়ার সময় আরেকজন আবারও আমাকে থাপ্পড় দিয়েছিল।

এ ঘটনার পর বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে বলেন। এনাম মেডিকেলের চিকিৎসক বাম কানের পর্দা ফাটার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রাজন যুগান্তরকে বলেন, এখনও আমার কানে সমস্যা রয়েছে। অনেক চিকিৎসার পরেও কান স্বাভাবিক হয়নি। এখনো চিকিৎসা চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা যুগান্তরকে বলেন, ২য় বর্ষের কারও ব্যক্তিগত কাজের দায়ভার সংগঠন নেবে না। তবে প্রশাসন যদি বিচার করে আমরা তা মেনে নেব।

প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। আমরা অতিদ্রুত অভিযোগটি তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×