বস্তাভর্তি জালভোট: মৈত্রী হলের সেই প্রাধ্যক্ষকে চাকরি থেকে অব্যাহতি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৯ মার্চ ২০১৯, ০৯:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

মৈত্রী হলের সেই প্রাধ্যক্ষকে চাকরি থেকে অব্যাহতি
শিক্ষক শবনম জাহান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে বস্তাভর্তি সিলমারা ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে চাকরি থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ শবনম জাহানকে।

একই সঙ্গে তাকে চাকরি থেকে কেন স্থায়ী অব্যাহতি দেয়ার হবে না- এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের দিন তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রাধ্যক্ষের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

সিন্ডিকেট সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে কেন অব্যাহতি দেয়া হবে না- এই মর্মে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে ১১ মার্চ কুয়েত মৈত্রী হলে ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই বাক্সভর্তি ভোট দেয়া ব্যালট পেপার পাওয়ার ঘটনায় হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শবনম জাহানকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল।

ভোটের দিন কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, ব্যালটবাক্স আগে থেকেই জালভোট দিয়ে ভরা হয়েছিল। পরে ব্যালটবাক্স দেখতে চাইলে সেই জালভোট দেয়া ব্যালট পেপার বস্তায় ভরে অন্যত্র সরানোর অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রীরা।

মৈত্রী হলের ছাত্রীরা ভোটকেন্দ্রের সামনে জালভোট দেয়া ব্যালট পেপার নিয়ে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে কখনই সুষ্ঠু ভোট হওয়া সম্ভব নয়।

এক প্রার্থী বলেন, ব্যালটবাক্স স্টিলের তৈরি হওয়ার কারণে আমরা সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সেটি চেক করে দেখতে চাই। কিন্তু হলের প্রভোস্ট শবনম জাহান আমাদের সেটি দেখতে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ রকম কোনো নিয়ম নেই। পরে অন্যান্য হলে দেখানো হচ্ছে জানালে তিনি বলেন, প্রক্টর এলে সেটি দেখানো হবে।

এভাবে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে আমরা কয়েকজন অনেকটা জোর করেই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করি। ভোটকেন্দ্রে একটি প্রধান দরজা আর পেছন দিকে আরেকটি দরজা ছিল। যার মাধ্যমে বাইরের দিক থেকে আসা-যাওয়া করা যেত। আমরা ওই দরজা বন্ধ করার আবেদন জানালে প্রভোস্ট শবনম জাহান আমাদের নিজেদেরই সেটি বন্ধ করে দিতে বলেন। পরে আমরা একটি বড় তালা এনে সেটি বন্ধ করে দিই এবং চাবি আমাদের কাছে রাখি। কিন্তু আমরা যখন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করি, তখন দেখি ওই তালাবদ্ধ দরজাটি খোলা। কিন্তু চাবি আমাদের কাছেই আছে। ওই দরজা দিয়ে দেখি জালভোট ভর্তি একটি বস্তা। আরও সামনে এগিয়ে বাথরুমে গিয়ে দেখি আরও কয়েকটি জালভোট ভর্তি বস্তা।

পরে ছাত্রীরা হলগেটে দাঁড়িয়ে জাল ব্যালট মাটিতে বিছিয়ে প্রতিবাদ জানান।

শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত হন প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর ও চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা। তারা বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ সেখানে যান। শিক্ষার্থীরা তখন তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তারা ভোট স্থগিতের দাবি জানান।

ভোটের দিন সকাল ১০টার দিকে কুয়েত মৈত্রী হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ব্যালটে ভোট দেয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই এই হলের প্রভোস্ট ড. শবনম জাহানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। নতুন প্রভোস্টের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ড. মাহবুবা নাসরিনকে।’

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে দুটি ছাড়া সব পদে জয় পায় ছাত্রলীগ। ভোটের দিনই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেল। এরা হলো- ছাত্রদল, বামজোট, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এর পর থেকে তারা পুনর্নির্বাচন দাবিতে বিক্ষোভ করে।

ঘটনাপ্রবাহ : ডাকসু নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×