জালিয়াতদের আজীবন বহিষ্কারে ভিপি নুরের সঙ্গে একাত্মতা ভিসির

  ঢাবি প্রতিনিধি ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান ও ভিপি নুরুল হক নুর
ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান ও ভিপি নুরুল হক নুর। ফাইল ছবি

জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী, জালিয়াত চক্র ও তাদের সহযোগীদের বহিষ্কার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হয়ে যারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে গেছেন, তাদের সনদ বাতিল, প্রত্যেক জালিয়াতের নাম-পরিচয়সহ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও দাবিও রয়েছে তাদের।

বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচীতে একাত্মতা প্রকাশ করেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, পরিষদ থেকে ডাকসুর জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা রাশেদ খান, এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ফারুক হাসান, স্বতন্ত্র জোট থেকে ডাকসুর ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অরণি সেমন্তি খান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা চয়ন বড়ূয়া।

মানববন্ধন শেষে অপরাজেয় বাংলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কার্যালয়ে যান শিক্ষার্থীরা। জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের আজীবন বহিষ্কারসহ কয়েকটি দাবিতে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় জালিয়াত চক্র সনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান বলে তাদেরকে জানান ভিসি।

স্মারকলিপি দেয়ার বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের দাবির আগেই শুরু করেছি। কোনো অনিয়মতান্ত্রিকতার স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। দায়িত্বভার গ্রহণের পর আমরা এটি শক্তভাবে গ্রহণ করি। আমরা ডিজিটাল জালিয়াতি চিহ্নিত করেছি। এটা একটি বড় চক্র হওয়ার কারণে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিচ্ছি। যখন তাদের তরফ থেকে যথার্থ তথ্য প্রমাণ পায় আমরা তখন সেগুলো ডিসিপ্লিনারি বোর্ডে দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া যেটা অব্যাহত আছে। তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে যে যেভাবে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকুক প্রমাণিত হলে যথাসময়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘জালিয়াতদের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘মেধাবীদের পাঠশালায় জালিয়াতদের ঠাঁই নাই’, ‘আমাদের ক্যাম্পাস রাখিব মুক্ত’, ‘দুর্নীতি বন্ধ কর সুষ্ঠু সমৃদ্ধ ঢাবি গড়’, ‘জালিয়াতদের ঠিকানা ঢাবিতে হবে না’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

এছাড়া জালিয়াতদের বহিষ্কারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও প্রচারণা চালাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, শিক্ষার্থীরা জালিয়াতদের বহিষ্কারের যে দাবি জানিয়েছেন, তাতে কোনো কালক্ষেপণ না করে অতি দ্রুত সিন্ডিকেট সভা ডেকে জালিয়াত ও জালিয়াত চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করতে হবে। যারা ইতিমধ্যে বের হয়ে গেছেন, তাদের সনদ বাতিল করতে হবে। প্রত্যেক জালিয়াতের নাম-পরিচয়সহ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে, যাতে অসৎ উপায়ে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার দুঃসাহস না করেন।

ডাকসু ভিপি বলেন, অসৎ উপায়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চলছে। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে এলেও প্রশাসন ব্যর্থতা ঢাকতে সব সময় দায়সারা বক্তব্য দিয়েছে, কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো তদন্ত কমিটি জালিয়াতির ঘটনা খুঁজে বের করতে পারেনি, বের করেছেন সাংবাদিকরা। গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে প্রশাসন প্রথমে বলেছে জালিয়াতি হয়নি বা ওইভাবে প্রশ্নফাঁস হয়নি। কিন্তু ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে তারা সেই বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নিতে বাধ্য হয়েছে।

নুর বলেন, উপাচার্য স্যার বলেছেন, জালিয়াতদের শনাক্ত করা হচ্ছে, ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু চাপে না রাখলে কোনো দাবি আদায় হয় না। তাই ছাত্রদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিত, সেটা যেখানেই ঘটুক।

ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে গত বছর আমি একা অনশন করেছিলাম। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শত শত আখতার তৈরি হয়েছে। ঘ ইউনিটের পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়ার পাশাপাশি আমি জালিয়াত, জালিয়াতির হোতাদের বহিষ্কার ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তাবিধানের দাবি জানিয়েছিলাম। প্রথমটি করা হলেও পরের দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসনকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

স্বতন্ত্র জোটের অরণী সেমন্তি খান বলেন, ‘প্রশাসন একজন শিক্ষার্থী যথাসময়ে ক্লাসে আসতে না পারলে হয়রানি করে, অসুস্থতাজনিত কারণে ক্লাস না করতে পারলে ডিসকলেজিয়েট করে। কিন্তু যারা নকল করে প্রশ্ন কিনে ভর্তি হয় তাদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসন একটি কথাও বলে না। এই প্রশাসনকে ধিক জানানো ছাড়া আমাদের কোনো ভাষা বাকি থাকে না। জালিয়াতি করে যারা ভর্তি হয়েছে পড়ালেখা শেষে তারা যদি সামনের কাতারে যায় তাহলে দেশটাকে ধ্বংস করে দিবে। আমাদেরকে এখনই সময় জালিয়াতিদের রুখে দেয়ার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×