ইবিতে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি, ২২ শিক্ষার্থী আটক

  ইবি প্রতিনিধি ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: যুগান্তর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন থেকে ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আন্দোলন ঠেকাতে ক্যাম্পাসে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

বুধবার ভোররাতে অনশনরত এসব ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আটককৃতদের কুষ্টিয়া পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইবি থানার ওসি রতন শেখে।

ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন চলছিল।

এদিকে মঙ্গলবার অনশনরত কয়েক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লেও প্রশাসন ও অনুষদের ডিন তাদের সঙ্গে দেখা করেনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুপুর ২টায় অনুষদের ডিন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

এতে অফিসের ভেতরে আটকা পড়েন অফিস সহকারী আবদুল মমিন ও পিওন বাদল। রাত ৯টায় অবরুদ্ধ দুই কর্মচারীকে উদ্ধার করতে আসেন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মমতাজুল ইসলাম ও ছাত্র-উপদেষ্টা ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ।

তারা ভবনের ভেতরে ঢুকলে তাদেরও অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে কলাপসিবল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

পরে ডিন ও ছাত্র উপদেষ্টাকে উদ্ধার করতে রাত ১টার দিকে সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আনিসুর রহমান ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর আহসান-উল হক আম্বিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তারা রাত ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হন।

এর আগে রাত সাড়ে ১১টা থেকেই পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রাত সাড়ে ৪টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

ভেতরে ঢুকে ডিন, ছাত্র উপদেষ্টা ও দুই কর্মচারীকে উদ্ধার করেন তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা করিডরে অবস্থান নিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করে স্লোগান দিতে থাকেন।

এ সময় পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথবাহিনী আরিফুল ইসলাম, তারিক, রাজ, মাহাদী, রিয়াদ, অভি, দেলাওয়ার, হাফিজ, সাব্বিরসহ ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করে কুষ্টিয়া পুলিশলাইনে নিয়ে যায়।

সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীরা এবং ভর্তিতে বর্ধিত ফি কমানোর দাবিতে ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টা থেকে আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

তাদের ঠেকাতে ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অঘোষিত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে সব প্রকার সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে মাইকিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের হতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ-র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ থেকে শিক্ষার্থীদের গাড়ি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। তবে বাধা উপেক্ষা করে ডিগ্রির দাবিতে সকাল ১০টার দিকে মিছিল দিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

এরপর দুপুর ১২টার দিকে তারা মুক্তবাংলার সামনে অবস্থান নেয় এবং তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখে। ইবি থানার ওসি রতন শেখ যুগান্তরকে বলেন, ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদর কুষ্টিয়া পুলিশলাইনে জিজ্ঞাবাদ করা হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে আমরা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদ দুই জেলার প্রশাসন এবং গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলছি।

প্রসঙ্গত মঙ্গলবার থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনের সামনে আমরণ গণঅনশনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত পাঁচ বিভাগের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×