কর্মচারীদের আন্দোলনে স্থবির বেরোবি

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৯, ১৪:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

  বেরোবি প্রতিনিধি

বেরোবিতে কর্মচারীদের আন্দোলন। ছবি: যুগান্তর

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বকেয়া বেতনভাতা প্রদান, চাকরি স্থায়ীকরণসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন কর্মচারীরা। 

বুধবার সকাল ১০টা থেকে হামলার বিচারের দাবিতে অনড় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শতাধিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মচারী। এদিকে আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কাজকর্ম।

এর আগে গত সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত কর্মচারীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীবান্ধব পদোন্নতি নীতিমালা বাস্তবায়ন, ৪৪ মাসের বকেয়া বেতনভাতা পরিশোধ, ২৫ কর্মকর্তার পদমর্যাদা প্রদানসহ মাস্টাররোল কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে আন্দোলনে নামে। কর্মচারীদের ডাকে চলমান তৃতীয় দিনের মতো মঙ্গলবার আন্দোলন মঞ্চ তৈরি করে প্রশাসন ভবন গেটে তালা দেন কর্মচারীরা। 

কর্মবিরতি পালনের মাঝপথে কর্মচারীদের ওপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে কমপক্ষে ১০ কর্মচারী আহত হন। 

হামলার সময় প্রশাসনিক ভবনে কর্মচারীদের লাগানো তালা ভেঙে ফেলে প্রশাসনের আস্থাভাজন কয়েকজন শিক্ষকের ‘পেটোয়া বাহিনী’ নামে পরিচিত কিছু শিক্ষার্থী হামলা চালায় বলে অভিযোগ তুলেছেন কর্মচারীরা। 

হামলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ আস্থাভাজন শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির তিন সহকারী প্রক্টরসহ বিভিন্ন বিভাগের অন্তত ৫০-৬০ শিক্ষক এবং সর্বোচ্চ পুলিশের উপস্থিতিতে কর্মচারীদের ওপর হামলা চালিয়ে তালা ভেঙে দেন ওই শিক্ষার্থীরা। 

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন ও তালা খুলে দেয়ার ব্যাপারে সাবেক প্রক্টর ড. ফরিদ কিছুই জানতেন না। প্রক্টরের অনুমতি না নিয়েই ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ও প্রশাসনের আস্থাভাজন কয়েকজন শিক্ষক তালা ভেঙে প্রশাসন ভবনে প্রবেশের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে যান।  

এদিকে হামলার ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রদান ও আন্দোলনকারীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করায় প্রক্টর প্রফেসর ড. একেএম ফরিদ-উল ইসলামকে প্রত্যাহার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। 

বর্তমানে (চলতি দায়িত্ব হিসেবে) প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমান প্রক্টরিয়াল বডির সহকারী প্রক্টর আতিউর রহমান। 

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে জনসংযোগ দফতর থেকে এ তথ্য জানানো হয়। 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. গাজী মাযহারুল আনোয়ার জানান, কোনো কারণ ছাড়াই একজন প্রক্টরকে এভাবে সরিয়ে দেয়া শিক্ষকদের প্রতি চরম অসম্মান। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

এদিকে নতুন প্রক্টরের দায়িত্ব পাওয়ার পর ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনসমূহে সব প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, মাইকিংসহ নিষিদ্ধ করে প্রক্টর অফিস থেকে এক আদেশ দেয়া হয়েছে, যা আরও সমালোচিত করেছে প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে।

সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকারের পর সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. একেএম ফরিদ-উল ইসলামকে জানান কর্মচারীরা। 

পরে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রদান এবং আন্দোলনকারীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করেন প্রক্টর। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষকে সমর্থন না দিয়ে বরং হামলার শিকার ও যৌক্তিক দাবি দাওয়ার বিষয়কে সমর্থন দেয়ার কারণে সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. একেএম ফরিদ-উল ইসলামকে প্রত্যাহার করেন ভিসি।

এ বিষয়ে কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মাহবুবার রহমান বাবু বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব দাবি নিয়ে ভিসিকে বলে আসছি; কিন্তু তিনি তা এড়িয়ে আসছেন। আমাদের ওপর হামলা করানো হলো। হামলার বিচার চাইতে ভিসির কাছে গেলে কোনো পাত্তা দেয়নি। সাবেক প্রক্টর আশ্বাস দিলে তাকেও অপসারণ করেছেন, যা শোভনীয় নয়।

তিনি আরও বলেন, হামলার বিচারের দাবিসহ আমাদের চার দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব।

এদিকে টানা চতুর্থ দিনের মতো সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও হামলার বিচারের দাবিতে আন্দোলন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রক্টরিয়াল বডির কেউ আসেননি।

এ বিষয়ে প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) আতিউর রহমান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি।