ছাত্রলীগ নেতাদের ঔদ্ধত্য আচরণে বিব্রত জাবি উপাচার্য

  জাবি প্রতিনিধি ১৭ জুলাই ২০১৯, ২৩:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

ছাত্রলীগ নেতাদের ঔদ্ধত্য আচরণে বিব্রত জাবি উপাচার্য
ছাত্রলীগ নেতাদের ঔদ্ধত্য আচরণে বিব্রত জাবি উপাচার্য। ছবি-যুগান্তর

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় শাখা ছাত্রলীগের কয়েক নেতার ঔদ্ধত্য ও অসংলগ্ন আচরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিব্রত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ছাত্রলীগ নেতাদের এমন ঔদ্ধত্য আচরণে খোদ উপাচার্যই উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

বুধবার বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সিনেট হলে এ সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভাটি পরিচালনা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে মুক্ত আলোচনা হয়। এতে অংশ নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।

সভার এক পর্যায়ে কথা বলতে শুরু করেন নগর অঞ্চল ও পরিকল্পনা বিভাগের ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সদস্য রাকিবুল রনি।

রনির বক্তব্য (মন্তব্য) চলাকালে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হট্টগোল করতে থাকেন শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফ্ফান হোসেন আপন ও সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক কানন সরকারসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।

তারা রনিকে ‘জুনিয়র, এই ছেলে এত কথা বলে কেন?’ ইত্যাদি বলে উচ্চবাচ্য ও কটূক্তি করতে থাকেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এই নেতারা সবাই জুয়েল রানার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত (অনুসারী)।

এ সময় উপাচার্য নিজেই বিব্রত হয়েছেন উল্লেখ করে উপস্থিত সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। উপাচার্য পরিস্থিতি শান্ত করে বলেন, ‘আমি এখানে উপস্থিত থাকতে তোমরা (ছাত্রলীগ নেতারা) কাউকে কথা বলা থামিয়ে দিতে পারো না। যদি তার ভুল হয় বা সীমাছাড়া কিছু করে তবে আমি নিজেই তাকে বসিয়ে দেব। তাদেরকে তো আমি কথা বলার জন্যই এখানে ডেকেছি।’

অন্যদিকে সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমানের বক্তব্য চলাকালেও ছাত্রলীগ নেতারা তাকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।

এর আগে ৭ জুলাই মওলানা ভাসানী হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ব্যাপী সংঘর্ষে চলাকালে মিজানুর রহমান, আফ্ফান ও তারেক হাসানের বিতর্কিত ভূমিকায় দেখা যায়। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি এই নেতাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা যুগান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের আচরণে উপাচার্য বিব্রত হয়েছেন এটা ঢালাওভাবে বলা ঠিক হবে না। কারণ উপাচার্যের বক্তব্যের সময় সব সংগঠনের নেতাকর্মীরাই কটূক্তি করেছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান যুগান্তরকে ‘কোনো অনুষ্ঠানে বক্তার কথা চলাকালে কটূক্তি করা ঠিক নয়। এটা শুধু ছাত্র সংগঠনের ক্ষেত্রে নয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও প্রজোয্য। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে শান্ত করেছি।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×