ভিসির ‘দুর্নীতির’ তথ্য দেয়া জাবির সেই ছাত্রলীগ নেতাকে হুমকি

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

সংবাদ সম্মেলনে জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (মাঝে)। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য দেয়া ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগির তথ্য বের হওয়ার পর থেকে তাকে হল ও ক্যাম্পাস ছাড়ার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ কারণে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে দাবি করেছেন সাদ্দাম।

নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানাতে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অতিথি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

কারা হুমকি দিচ্ছে— এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাদ্দাম বলেন, বেনামে ফোন দিয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ নেতা ও প্রশাসনের বরাত দিয়ে আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

ফোন সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে সাদ্দাম বলেন, মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে আমার ফোন ডিজেবল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সহসভাপতি তাজ ও শামীমের নম্বর থেকেও কোনো ফোন যাচ্ছে না, আসছে না। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

কী ধরনের হুমকি দেয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নে সাদ্দাম বলেন, দুটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে আমাকে বলেছে, আপনি ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন। ছাত্রলীগ ও প্রশাসন আপনার ওপর ক্ষিপ্ত। আপনার হল ছেড়ে দেয়া উচিত, ক্যাম্পাস ছেড়ে দিলে ভালো হবে।

তিনি বলেন, আমি শুনেছি- রাতে হলে তল্লাশি অভিযান চালানো হতে পারে। আর তল্লাশি হলে আমাকে যেকোনোভাবে বিপদে ফেলা হবে। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।

প্রসঙ্গত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে ছাত্রলীগকে জড়িয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর জেরে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অপসারণ করা হয়। এ ঘটনায় জাবির ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের নামও উঠে আসে।

জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দামের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ঈদ সালামি বাবদ ১ কোটি টাকা দিয়েছেন। এর মধ্যে জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা নিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা, সাধারণ সম্পাদক এসএম আবু সুফিয়ান চঞ্চল নিয়েছেন ২৫ লাখ, আর তিনি (সাদ্দাম) নিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা।

এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অপসারিত হওয়া গোলাম রাব্বানী অভিযোগ করেন, জাবির উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা হয়ে না দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ভিসি ফারজানা ইসলাম ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন। অন্যদিকে উপাচার্য অভিযোগ করেন, তিনি কোনো টাকা দেননি। বরং রাব্বানী ও ছাত্রলীগের বরখাস্ত হওয়া সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন তার কাছে কয়েক দফায় উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট থেকে ৪ থেকে ৬ শতাংশ টাকা ঈদ সালামি দাবি করেন।

এ বিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, উপাচার্য ম্যাম আমাদের এক কোটি টাকা দিয়েছেন ঈদ সালামি বাবদ। সভাপতি জুয়েল ভাই ৫০ লাখ, সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল ভাই ২৫ লাখ, আর আমি নিছি ২৫ লাখ টাকা। কে কয় টাকা নেব এটিও ভিসি ম্যাডাম ঠিক করে দিয়েছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাবি ভিসি ফারজানা ইসলাম।