শিক্ষক হওয়া হলো না মোনায়েমের!

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  বাকৃবি প্রতিনিধি

মাহমুদুল হাসান মোনায়েম। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের ২০১৩-১৪ সেশন স্নাতকের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মোনায়েম।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক  হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। স্নাতক শেষে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন বায়োটেকনোলজি বিভাগে। নানা প্রতিকূলতায় শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন যখন ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছিল চরম হতাশার মাঝেই চিরবিদায় নেয় মোনায়েম।

বুধবার ময়মনসিংহের ত্রিশালের বৈলরে নিজের বাসায় রাত ২টার দিকে হার্ট অ্যাটাকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাদ জোহর তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোনায়েম ছিলেন সবার বড় তার ছোট এক ভাই ও এক বোন রয়েছে। বাকৃবিতে ভর্তি হওয়ার পর নাজমুল আহসান হলে ওঠেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নে প্রচুর পড়ালেখা করেন এবং মেধাতালিকায় পজিশনে থাকেন।

পরবর্তীতে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন বায়োটেকনোলজি বিভাগে। সেখানেও ভালো ফলাফল করেন তিনি। বর্তমানে তিনি থিসিস সেমিস্টারে অধ্যায়নরত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কারনে কয়েকবার সার্কুলার হলেও তার বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ হয় নাই। দিন যত যাচ্ছিল তার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ক্ষীণ হচ্ছিল আর প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিল।

এ বিষয়ে তার কয়েকজন ঘনিষ্ট বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি মোনায়েম প্রচণ্ড হতাশায় ভুগছিলেন। সবসময় শিক্ষক হওয়ার অনিশ্চয়তার কথা বলতো আর কাঁদতো। ও কথার মাঝে মাঝে হঠাৎ অন্যমনস্ক হয়ে যেতো।

এক বন্ধু বলেন, ওইদিন বিকালে ওর সঙ্গে কথা হয় তখন বলছিলেন আমার অনেক খারাপ লাগতেছে কেন জানি।

আরেকজন বলেন, আমরা পড়া না বুঝলে ও আমাদের সুন্দর করে বুঝায়ে দিত। সত্যিকার অর্থে যারা পজশিনে ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম যোগ্য ছিল।

এদিকে মোনায়েমের মৃত্যুতে শিক্ষকদের অবহেলা ও জানাজায় তাদের উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তীতে শুক্রবার দুপুরে মোনায়েমের পরিবারকে সান্তনা দিতে কয়েকজন সহপাঠীসহ ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ছোলাইমান আলী ফকির তার বাসায় যান।