ফেসবুকে র‌্যাব কর্মকর্তার স্ট্যাটাস ভাইরাল

  যুগান্তর ডেস্ক ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ১১:১২ | অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুকে র‌্যাব কর্মকর্তার স্ট্যাটাস ভাইরাল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে শামীম আনোয়ার নামে এক র‌্যাব কর্মকর্তার স্ট্যাটাস।

সেই স্ট্যাটাসের সুবাদে তার ভূয়সী প্রশংসায় মেতেছেন নেটিজেনরা।

যে কারণে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন তা হলো- নির্ধারিত সময়ের আগেই র্যা বের গাড়িতে চড়িয়ে এক অসহায় পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে পৌঁছে দেন ওই র‌্যাব কর্মকর্তা। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ছিল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। তার ওপর পরীক্ষা ঘিরে শহরে ভিড়ও জমে যায়। সেদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে সিলেট শহরে জ্যাম পড়ে যায়।

যে কারণে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্র পৌঁছতে পারছিলেন না হাজারও শিক্ষার্থী। শহরে তারা যানবাহন খুঁজতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন।

শহরের সড়কে আটকে পড়েন এক পরীক্ষার্থী। তার হাতে সময় ছিল মাত্র ১০ মিনিট। এ সময় সাহায্যের হাত বাড়ান শামীম আনোয়ার নামে ওই র‌্যাব কর্মকর্তা।

অসহায় এক পরীক্ষার্থীকে ১০ মিনিটের মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছে দেন তিনি।

আর পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়ার ওই ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। র‌্যাব কর্মকর্তা শামীম আনোয়ারের এমন সাহায্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন নেটজেনতা।

এ নিয়ে শুক্রবার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন শামীম আনোয়ার নামের ওই র‌্যাব কর্মকর্তা।

তিনি লিখেছেন, ‘নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তার ভর্তি পরীক্ষার্থী মেয়েকে নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ৭০ হাজার আগন্তুকের ভিড়ে ভারাক্রান্ত ছোট বিভাগীয় শহরটি ছিল যানজট। ঘড়ির কাঁটা জানান দিচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কেন্দ্রে প্রবেশের সময় বাকি আর মাত্র ১০ মিনিট। যে গাড়িতেই চড়ুন, এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রে পৌঁছার চেষ্টা করা অসম্ভবের পেছনে ছোটারই নামান্তর। বাবার মনে হয়তো বিষাদমাখা শঙ্কার কালো মেঘ, এতদূর থেকে এসেও শেষ পর্যন্ত মেয়েটির আর ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া হলো না।’

‘স্যার, তাড়াতাড়ি উঠাই, না হলে আমরা টাইম কাভার করতে পারব না’- আমার বডিগার্ড হাসান এই কয়েক দিনে সম্ভবত আমার ভাবনার জগতের নাড়িনক্ষত্রের খোঁজ পেয়ে গেছে। আমি কী চিন্তা করছি- মুখ খুলে বলার আগেই সে কীভাবে কীভাবে যেন সব বুঝে যায়। নেমে ইশারা দিতেই বাবা-মেয়ে গাড়ির পেছনে উঠে বসল।’

শামীম আনোয়ার আরও লিখেছেন, ‘ড্রাইভারকে ইমার্জেন্সি সাইরেন বাজিয়ে দিতে বলে প্রায় লাফিয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম আমিও। র্যা বের সাইরেন আর ড্রাইভার ইউসুফের প্রাণপণ চেষ্টায় যখন কেন্দ্রে পৌঁছেছি, গেট বন্ধের ঘণ্টা পড়তে তখন আর বাকি মাত্র আধা মিনিটেরও কম। গাড়ি থেকে নেমেই গেটের দিকে দৌড়াতে দৌড়াতেই বাবা একবার পেছন ফিরে আমার দিকে তাকিয়েছিলেন। কে জানে, ধন্যবাদ দেয়ার জন্যই কিনা। আমি তাকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে পাল্টা ইশারায় দ্রুত গেটের দিকে যাওয়ার তাগাদা দিলাম। হাতে সময় যে খুবই কম।’

প্রসঙ্গত সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ছিল শুক্রবার। এ বছর ৭০ হাজার ৫৪৩ শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×