রং তুলিতে ব্যঙ্গচিত্রে জাবি উপাচার্যের অপসারণ দাবি

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

  জাবি প্রতিনিধি

রং তুলিতে ব্যঙ্গচিত্রে জাবি উপাচার্যের অপসারণ দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদী ব্যঙ্গচিত্র ‘পটচিত্র’ অঙ্কন করেন।

পরে বিকাল ৪টার দিকে পটচিত্র নিয়ে একটি মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের সমনে গিয়ে শেষ হয়।

সরেজমিনে পটচিত্রে দেখা যায়, বিভিন্ন প্রতিবাদী শ্লোগান খচিত চিত্রে উপাচার্যের অপসারণ দাবি, দুর্নীতির চিত্র, হল বন্ধসহ নানা অসঙ্গতি তুলে ধরা হয় রং তুলির ক্যানভাসে।

আন্দোলনকারী শাখা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, আমরা আগে একটি ৩০ গজ পটচিত্র এঁকেছিলাম। কিন্তু সেটা ছিঁড়ে ফেলার প্রতিবাদের এবার আমরা ৬০ গজ পটচিত্র এঁকেছি। এই পটচিত্রে আমাদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা, উপাচার্যের দুর্নীতি সহ নানা অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে।

ব্যঙ্গচিত্র অংঙ্কনে অংশ নেয়া শিল্পীরা জানান, চিত্রাঙ্কন হলো তাদের প্রতিবাদের অন্যতম ভাষা। যা মুখে এতো দিন বলে আসছিলেন তা রঙ -তুলির মাধ্যমে প্রকাশ ঘটবে।

চিত্রশিল্পী ও জাবি চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত জানান, ‘রঙের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠবে আমাদের অব্যক্ত কথাগুলো। আমাদের চলমান আন্দোলনের ঘটনাগুলো চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে। এটা অনাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শৈল্পিক প্রতিবাদ।’

আরেক চিত্রশিল্পী ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিদা শহিদ উপাচার্যের দুর্নীতিকে চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক উপাচার্যের চরিত্রকে চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেছি। তার দুর্নীতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নারী নিপীড়কদের প্রশ্রয়, শিক্ষাকে ব্যবসায় রূপান্তর করা ইত্যাদি অঙ্কিত হচ্ছে।’

আন্দোলনের সংগঠক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিকে উপাচার্যের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত শুক্রবার রাতে দেয়া হবে। আমরা সকাল থেকেই অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন চলছে। দুর্নীতিবাজ উপাচার্য অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রাকিবুল রনি বলেন, ‘হামলা-মামলা ও হুমকি অগ্রাহ্য করে নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণ এবং দুর্নীতিতে জড়িত সবার রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।’

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কলা ও মানবিকী অনুষদে আলোচনায় বসেছেন। এরপর তাদের আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানা যায়।