রাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

  রাজশাহী ব্যুরো ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ সব অভিযোগ করেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগের কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি সুলতান-উল-ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুস সোবহান দ্বিতীয়বার দায়িত্ব গ্রহণের পরে ৪৭৫তম সিন্ডিকেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন করে নিজের মেয়ে ও জামাইকে ট্যুরিজম হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ও আইবিএতে নিয়োগ দিয়েছেন। তাছাড়া আটটি বিভাগের ২৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন যাদের অনেকের আগের নীতিমালায় আবেদন করার যোগ্যতা ছিল না। স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অনেক অ্যাডহক নিয়োগ দিয়েছেন যারা প্রকৃতঅর্থেই অযোগ্য ও নিকটাত্মীয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, উপাচার্য নিজের কন্যা সানজানা সোবহানকে ২০১৮ সালে নতুন ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ও জামাতা বগুড়ার বিএনপি-জামায়াত পরিবারের সন্তান এটিএম শাহেদ পারভেজকে ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্যে সর্বজন প্রশংসিত ও সরকার সমর্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালাকে চরমভাবে নিম্নপর্যায়ে টেনে এনেছেন।

নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, প্রার্থীকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মেধাতালিকায় প্রথম হতে সপ্তম স্থানের মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তার কন্যা ও জামাতার মেধাক্রম ছিল যথাক্রমে ২১তম ও ৬৭তম।

আইবিএতে দরখাস্তকারীদের ৬৬ জনের সিজিপিএ ৩.৫-এর ওপরে। পূর্বে নীতিমালা অনুসারে তার জামাতার দরখাস্ত করার যোগ্যতাও ছিল না। মেয়ে-জামাইয়ের জন্য বাণিজ্য অনুষদের যোগ্যতা সিজিপিএ ৩.৫ থেকে ৩.২৫ পর্যায়ে নামিয়ে আনেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, উপাচার্য ৪৮১তম সিন্ডিকেটে সেকশন অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা উঠিয়ে দিয়েছেন। ৪৮৭তম সিন্ডিকেটে সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারী নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আবেদনের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে ৩৫ বছর করেছেন।

এ ছাড়া লিখিত বক্তব্যে উপাচার্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির আদেশ অমান্যকরণ, উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়াকে নিয়োগ পাইয়ে দিতে রাষ্ট্রপতির কাছে অসত্য তথ্য প্রদানসহ বিভিন্ন নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুন্নবী সামাদী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এক্রাম উল্যাহ, আইন বিভাগের সভাপতি বিশ্বজিৎ চন্দ, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম সাউদ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×