বিএম কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফ্রন্টের নেতা-নেত্রী, অতঃপর...

  বরিশাল ব্যুরো ২১ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষকের কাছে বিচার
অভিযোগ উত্থাপন। ছবি: যুগান্তর

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে আহত হয়েছেন বিএম কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আরিফুর রহমান লিওন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সয়েল অ্যান্ড এনভায়রণমেন্ট সাইন্সের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সুজয় শুভ ও সদস্য সচিব একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী আলিসা মুনতাজ।

সংঘর্ষের সূত্রপাতের বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম আকাশ অভিযোগ করে বলেন, গত ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগ কর্মী লিওন ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য কলেজে প্রবেশ করেন।

এ সময় অন্ধকারাচ্ছন্ন সন্ধানী ব্লাড ডোনার ক্লাবের সামনে সুজয় শুভ ও আলিসা মুনতাজকে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে কলেজ থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু তারা তাদের কাজ শেষ হলে বেরিয়ে যাবে বলে জানায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সুজয় শুভ নামের ওই ছেলে তার হাতে থাকা মোবাইল লিওনের মুখে ছুড়ে মারে। এতে লিওনের চোখের উপর কেটে যায়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আলিসা নামের মেয়েটিও লিওনকে মারধর করে। পরে আমরা গিয়ে লিওনকে উদ্ধার করি এবং কলেজ প্রশাসনকে বিষয়টি জানাই।

পরে জানতে পারি এরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এরা এখানে প্রায়ই এসেই অশ্লীল কর্মকাণ্ড করে থাকে। কিছুক্ষণ পরে এদের সিনিয়ররা আমাদের ফোন দিয়ে মীমাংসার কথা বলে।

এ দিকে মঙ্গলবার সকালে সুজয় শুভ ও আলিসা মুনতাজের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিএম কলেজে মানববন্ধন করতে চাইলে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতারা তা করতে পারেনি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে দুপুর দেড়টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।

বিএম কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি কিশোর কুমার বালা’র সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন বরিশাল জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি একে আজাদ, বাসদের সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী, জেলা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সন্তু মিত্র প্রমুখ। এ সময় তারা হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক সুজয় শুভ জানান, সেদিন বিএম কলেজে বসে কমরেড মুনের সঙ্গে সাংগঠনিক আলাপ-আলোচনা করছিলাম। সে সময় লিওন নামের ছাত্রলীগ নেতা দাবিদার আমাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। আমি বলেছি আলোচনা শেষে চলে যাব।

একপর্যায়ে লিওন আমাদের উদ্দেশে গালাগাল শুরু করেন। এর প্রতিবাদ করলে লিওনের নেতৃত্বে আমাদের ওপর ২৫-৩০ জন হামলা চালিয়ে আহত করে। আমি শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। বিষয়টি কলেজ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, তাছাড়া পুলিশও জানে। আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে কলেজ প্রশাসন নেবে। ছাত্রলীগকে তো দায়িত্ব দেয়া হয়নি এই কাজ করার জন্য। আমাদের ওপর হামলাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

বিএম কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আলামিন সরোয়ার বলেন, বিএম কলেজে বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেখানে রাতে বহিরাগতদের কলেজ ক্যাম্পাসে কাজটা কি জানি না। ১৫ তারিখ ঘটনার পরপরই পুলিশকে জানানো হয় কিন্তু তারা ঘটনাস্থলে এসেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

মঙ্গলবার যে কর্মসূচি করা হয়েছে তাতে ছাত্রলীগের গ্রুপটি আমাদের অনুমতি নিয়েছে কিন্তু ছাত্রফ্রন্টের কেউ অনুমতি নেয়নি। সেখানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি করার প্রস্তুতিও চলছিল বলে শুনেছি। ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরা আমাদের কাছে সোমবার এসে বিষয়টি বলেছে কিন্তু লিখিতভাবে কিছু জানায়নি।

তাছাড়া বহিরাগতরা যাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য নোটিশ টানানো হবে এবং যারা বহিরাগত প্রবেশে সহযোগিতা করবে সেই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
-

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×