জাবি শিক্ষককে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৩ মার্চ ২০১৮, ২২:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

জাবি

গত ১১ মার্চ ২০১৮ তারিখে যুগান্তর অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ‘ছাত্রীকে প্রথম বানাতে জাবি শিক্ষকের অনৈতিকতা’ শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি ওই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, উক্ত প্রতিবেদনে বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে সে বিষয়ে লোক প্রশাস বিভাগের জরুরি সভায় নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়। উক্ত ভিত্তিহীন, বানোয়াট প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে লোক প্রশাসন বিভাগ তীব্র প্রতিবাদ জ্ঞাপন করছে।

প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করা হয়, থিসিস করার যোগ্যতা হিসেবে ৩.৫০ এর বিষয়ে যে কথা বলা হয়েছে তা বিভাগের একাডেমিক কমিটি সভায় সর্বসম্মতক্রমে সিদ্ধান্ত হয়। কোনো শিক্ষার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার প্রশ্নই আসে না, বিষয়টি ভিত্তিহীন।

প্রতিবাদ লিপিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষা কমিটির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আমিন, সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য ড. ফারজানা ইসলামের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই তাদের মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদকের বক্তব্য: গত ১১ মার্চ, ২০১৮ তারিখে জনপ্রিয় ‘দৈনিক যুগান্তরে’ পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত ‘ছাত্রীকে প্রথম বানাতে জাবি শিক্ষকের অনৈতিকতা’ শির্ষক সংবাদটি ভিত্তিহীন কিংবা বানোয়াট নয়। বরং উক্ত সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকতার সমস্ত নিয়ম-কানুন তথা এথিক্স রক্ষিত হয়েছে। উক্ত সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার তথ্য-প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। প্রতিবাদলিপিতে শিক্ষকদের সম্মতিতে বিভাগে থিসিসের জন্য শর্ত ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৬৫ থেকে ৩.৫০ তে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু তিনি বিভাগীয় সভাপতি ছিলেন তার এই শর্ত শিথিল করতে তার ভূমিকা বেশি ছিল। কিন্তু প্রকাশিত সংবাদে এ বিষয়ে শিক্ষককে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়নি। বরং এর আগে ৩৯ ও ৪০ ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী ‘তাদের অনুরোধেও শর্ত শিথিল করা হয়নি’ বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত সহযোগী অধ্যাপক নুরুল আমিনের একাধিক বক্তব্য পূর্বে প্রকাশিত হওয়ায় একই ঘটনায় নতুন করে তার বক্তব্য দেয়া হয়নি। ঘটনার বিষয়ে অধ্যাপক ড. ছয়েদুর রহমানকে ফোন করলে তিনি ‘পরীক্ষার হলে আছি। এখন কথা বলা যাবে না। পরে এসে দেখা করো’ এমন কথা বলেছেন। যে বক্তব্যটি সংক্ষপ্তি করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ওই সংবাদে ‘উপাচার্য বরাবর খাতা পূর্ণ মূল্যায়নের দাবি করেছেন তিন শিক্ষার্থী’ বলে উল্লেখ্য করা হয়েছে। সে বিষয়ে প্রতিবাদে কোন ব্ক্তব্য নেই। এছাড়া অন্যদের নাম্বার কমিয়ে দিয়ে এক ছাত্রীকে বেশি নাম্বার দেওয়া উল্লেখ করা হয়। সে বিষয়েও প্রতিবাদে কোন তথ্য বা বক্তব্য নেই। যেহেতু বক্তব্য নেই তাই অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়।

যুগান্তরে প্রেরিত প্রতিবাদে ওই অভিযুক্ত শিক্ষকরা নিজে প্রতিবাদ করেননি। বরং বিভাগ থেকে করা হয়েছে যেখানে বিভাগীয় সভাপতির স্বাক্ষর কয়েছে। কিন্তু ওই বিভাগীয় সভাপতি ড. জেবউননেছার কাছে স্বাক্ষরে বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত দুই শিক্ষক আমাকে জোর জবরদস্তির মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে স্বাক্ষর করিয়েছেন। (এ বিষয়ে বিভাগের সভাপতির বক্তব্য সংরক্ষণ রয়েছে।)

এছাড়া বিভাগের ফলাফল সংশ্লিষ্ট অনৈতিকতার ঘটনায় বিভাগের সভাপতি ‘উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি’ গঠনের জন্য ভিসি বরাবর আবেদন করেছেন। মঙ্গলবার বিভাগের সভাপতি ড. জেবউননেছা আবেদনপত্রটি জমা দিয়েছেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter