বেরোবিতে ভিসির একক সিদ্ধান্তে রাতারাতি পদোন্নতি পেলেন শিক্ষিকা

  বেরোবি প্রতিনিধি ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:১৯ | অনলাইন সংস্করণ

জনি পারভীন
জনি পারভীন। ছবি: সংগৃহীত

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনি পারভীনকে অনিয়মের মাধ্যমে ভিসির একক সিদ্ধান্তে পদোন্নতি দিতে অবৈধভাবে প্লানিং কমিটি গঠন করে পদোন্নতি বোর্ড সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিভাগের এক তৃতীয়াংশ শিক্ষক প্লানিং কমিটির সদস্য হবেন কিন্তু তিনি নিয়ম না মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে প্লানিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং অপর একজন জ্যৈষ্ঠ শিক্ষককে না জানিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে প্লানিং করে পদোন্নতি বোর্ড সম্পন্ন করেন।

আবার প্লানিং কমিটিতে যে শিক্ষককে সদস্য বানানো হয়েছে সে শিক্ষক জানেনই না পদোন্নতি বোর্ডের বিষয়ে। এ অনিয়মের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিজেই দায়ী বলে মনে করছেন শিক্ষকরা।

এ দিকে জনি পারভিনের সহকারী অধ্যাপক পদে স্থায়ীকরণ না করেই ভিসি নিজের মতো করে তৈরি করা প্ল্যানিং করে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে নিজের একক সিদ্ধান্তে তার সুপারিশের মাধ্যমে মাত্র একদিনের নোটিশে ওই শিক্ষককে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সাক্ষাৎকার বোর্ড সম্পন্ন করেন। এতে ক্ষুব্ধ সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ অন্য শিক্ষকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোরশেদ হোসেনের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই তড়িঘড়ি করে ছুটিতে থাকা জনি পারভীনকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেন।

নিয়ম অনুযায়ী ছুটি থেকে ফিরে বিভাগে যোগদান করানোর ক্ষেত্রে সুপারভাইজার কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমতি প্রয়োজন হলেও ভিসির একক সিদ্ধান্তে বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

এ দিকে বিভাগের শিক্ষকের পদোন্নতির ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী শিক্ষকদের মধ্যে থেকে জ্যেষ্ঠতা অনুসারে তিনজন শিক্ষকের সমন্বয়ে প্ল্যানিং কমিটি গঠনের কথা থাকলেও জনি পারভীন সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর নিয়ম ভঙ্গ করে প্ল্যানিং কমিটি তৈরি করেন। যেখানে সদস্য বানানোর কথা জ্যৈষ্ঠতা অনুযায়ী বিভাগের একমাত্র প্রফেসর ড. মোরশেদ ও সহকারী অধ্যাপক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলমকে।

কিন্তু তিনি তা না করে তিনি ড. মোরশেদ এবং খন্দকার জাহাঙ্গীর আলমের জায়গায় তিনি ভিসিকে সদস্য করেছেন। এ দিকে প্ল্যানিং কমিটির পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদন লাগে, সেটিও মানা হয়নি।

তবে ২০২০ সালে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে জনি পারভিন ভিসিকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করার পুরস্কার হিসেবে এই পদোন্নতি পেয়েছেন বলে শিক্ষকদের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

এই প্লানিংয়ের বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না জানিয়ে বিভাগের সদ্য সাবেক সভাপতি ও জ্যৈষ্ঠ প্রফেসর ড. মোরশেদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ভিসি তার একক সিদ্ধান্তে তাকে পদোন্নতি দিয়েছেন যা আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ জালিয়াতি এবং প্রতারণা।

এই পদোন্নতিকে নিয়মবহির্ভূত উল্লেখ করে অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম নিরব যুগান্তরকে বলেন, গত ৬ বছর ধরে আমার বিভাগের একজন শিক্ষকের সমন্বয়ে প্ল্যানিং বোর্ড গঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু জনি পারভিন বিভাগীয় প্রধান হওয়ার পর তিনি বিভাগের শিক্ষকদের ডিঙিয়ে ভিসিকে সদস্য বানিয়ে নিজে অনিয়ম করে পদোন্নতি নিয়েছেন।

এ দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক জনি পারভিনের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তার বিভাগীয় অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইলে কল করা হলে প্রতিবেদককে এক হাত নেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি এ সব বিষয় কোনো স্টুডেন্টদের মুখে শুনতে চাই না। কিসের রিপোর্টার, অমুকের রিপোর্টার আর তমুকের রিপোর্টার? না, এ বিষয়ে আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না। এ সব বিষয়ে জানার ইচ্ছা হলে আপনি প্রশাসনকে ফোন করেন, আমাকে ফোন করেছেন কেন? আপনি আমার মোবাইল নাম্বার পেয়েছেন কোথায়? এটা আমার পার্সোনাল মোবাইল নাম্বার; কোনো অফিসিয়াল মোবাইল নাম্বার না। পার্সোনাল মোবাইল নাম্বারে আপনি কখনও অফিসিয়াল ইনফরমেশন নিতে পারেন না।

প্রতিবেদক নাম্বারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া ডায়রিতে পেয়েছেন জানালে তিনি বলেন, ডায়রিতে যেটা দেয়া আছে সেটা সবারই পার্সোনাল নম্বর। বিশ্ববিদ্যালয় এখনও ওই পর্যায়ে যায়নি যে, ইন্সটিটিউশনের কোনো নাম্বার থাকবে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিম নেব তারপর আপনি আমাকে ফোন দেবেন, এর আগে আমাকে ফোন দেবেন না। আপনাকে তথ্য দেয়াটা আমার এখতিয়ারের মধ্যেও পড়ে না, আপনার জানারও এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।

একদিনের মধ্যে স্থায়ীকরণের বোর্ড এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদন ছাড়াই জনি পারভীনকে কিভাবে আবেদনের অনুমতি দেয়া হল- এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ এবং রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালের সঙ্গে পরপর দুইদিন কথা বলতে তার দফতরে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি। কর্মচারীরা জানান, তারা দু'জনেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। একাধিকবার ফোন দিলেও তারা ফোন কেটে দেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদন বিষয়ে জনি পারভীনের প্রতিক্রিয়া

গত ২৯ জানুয়ারি যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে ‘‘বেরোবিতে ভিসির একক সিদ্ধান্তে রাতারাতি পদোন্নতি পেলেন শিক্ষিকা’’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটির একাংশ আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত সংবাদে আমাকে জড়িয়ে যে সকল কিচ্ছা-কাহিনী রটানো হয়েছে আমি সেই মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

আমি জনাব জনি পারভীন, সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার আলোকে অনুষ্ঠিত পদোন্নতি বোর্ডের সভায় সাক্ষাৎকার প্রদানে অংশগ্রহণ করি এবং সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী উপস্থিত থেকে সাক্ষাৎকার প্রদান করি।

আমার জানামতে আমার পদোন্নতি বোর্ডটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মে গঠিত হয়েছে। অথচ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘‘ভিসির একক সিদ্ধান্তেই আমার পদোন্নতি প্রাপ্তি’’ এ বিষয়টি আমার বধোগম্য নয়। এখানে উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি বোর্ডে একজন শিক্ষকের পদোন্নতি সুপারিশ উত্তর সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতির বিষয়টিকে অনুমোদন করা হয়।

আমার পদোন্নতি বোর্ডের সাক্ষাৎকার গ্রহণ হয়েছে মাত্র কিন্তু এখনও আমার পদোন্নতি হয়নি। তাই আমি মনে করি এমন একটি অসত্য বিষয় কোনভাবেই একটি সংবাদের শিরোনামে উঠে আসতে পারে না। আমি মনেকরি এই সংবাদটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মণ্ডলীর সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছে।

আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতি নীতিমালার সকল শর্ত এবং স্থায়ীকরণ (যদিও আমার নিয়োগপত্রের শর্ত অনুযায়ী তা প্রযোজ্য নয়) পূরণসহ গত ২৮/০১/২০২০ তারিখ পদোন্নতির সাক্ষাৎকার বোর্ডে অংশগ্রহণ করি। আমি মনে করি পদোন্নতি বোর্ডটি কোথায়, কখন এবং কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে এটা প্রশাসনের এখতিয়ারভূক্ত। একজন সাধারণ শিক্ষক হিসেবে উল্লেখিত পদোন্নতি বোর্ডটি অনুষ্ঠিত করতে কোন ধরনের তড়িঘড়ি করা হয়েছে বলে আমি মনে করি না।

বিভাগীয় প্লানিং কমিটি গঠন ও একজন শিক্ষকের পদোন্নতির জন্য প্লানিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত গ্রহণ দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। প্রথমত, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্লানিং কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী গঠিত হয়েছে কোন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বাদ দিয়ে নয়।

দ্বিতীয়ত, উল্লেখিত বিভাগের যে কোন শিক্ষক পদোন্নতির সুপারিশের জন্য প্লানিং কমিটির নিকট আবেদন করতে পারে। সে শর্ত অনুযায়ী বিভাগীয় প্রধানও তার পদোন্নতির জন্য উক্ত কমিটির নিকট আবেদন করবেন। তাই আমি মনে করি এখানে নিয়মের কোন ব্যত্যয় হয়নি।

গত ১৭/১২/২০১৯ তারিখে আমি শিক্ষা ছুটি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষণা কর্মের সকল শর্ত পূরণ করে এবং আমার সুপারভাইজারের সুপারিশ (অগ্রগতিনামা) গ্রহণপূর্বক বর্তমান কর্মস্থলে যোগদান করি।

বর্তমানে সদ্য সাবেক বিভাগীয় প্রধানের পর আমি অর্থনীতি বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ায় গত ১৮/১২/২০১৯ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট হতে প্রাপ্ত চিঠি স্মারক নং-বেরোবি/রেজিঃ/বিঃপ্রঃনিযুক্তি/১৯/২০১৯/১৫৫৯ এর মাধ্যমে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রাপ্ত হই এবং বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করি।

বর্তমানে অর্থনীতি বিভাগের প্লানিং কমিটির পুনর্গঠন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি হিসেবেই গঠিত হয়। গত ০১/০১/২০২০ তারিখ বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় উপস্থিত শিক্ষকগণের মতামতের ভিত্তিতে প্লানিং কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী বিভাগে উপস্থিত এক তৃতীয়াংশ শিক্ষক প্লানিং কমিটির সদস্য হবেন কিন্তু অর্থনীতি বিভাগে বর্তমানে শিক্ষকের সংখ্যা কম হওয়ায় সদস্য হিসেবে ডীন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, সদস্য মনোনীত হন।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে অর্থনীতি বিভাগের প্লানিং কমিটিতে বিভাগীয় শিক্ষক ছাড়াও সদস্য হিসেবে বহিঃস্থ শিক্ষক কমিটির সদস্য ছিলেন এবং এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগেই এই রীতি প্রচলিত রয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি ২০২০ইং যুগান্তর অনলাইন সংস্করণে এই বিষয়ে যে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য। এই বিষয়ে অমি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করছি।

গত ০১/০১/২০২০ তারিখে আমর সভাপতিত্বে¡ বিভাগের প্রথম একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং উক্ত সভায় বিভাগের দুই জন শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই শিক্ষকদ্বয়ের একজনের সাথে বার বার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হওয়ায় লোকমারফত যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার কারণে সভায় উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে তার অপারগতা বিভাগকে অবগত করেন।

শিক্ষকদ্বয়ের অপরজন সভা অনুষ্ঠিত হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় (সংগত করেন) উচ্চস্বরে উষ্মা প্রকাশ করেন এবং বিভাগীয় প্রধানের (আমি) অনুরোধ উপেক্ষা করে বিভাগ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে আমি ও আমার সহকর্মীরা মুঠোফোনে তার সঙ্গে বারংবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হই।

প্লানিং কমিটি পুনর্গঠন এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একাডেমিক কমিটির সভায় উপস্থিত থাকা ও মত প্রকাশ করা একজন শিক্ষক এর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই আমি মনে করি, ইচ্ছাকৃত অনুপস্থিত থেকে উল্লেখিত শিক্ষকগণের প্লানিং কমিটির সদস্য মনোনয়ন নিয়ে কোন মন্তব্য করা কতোটা যৌক্তিক?

বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ম অনুসারে অর্থনীতি বিভাগের প্লানিং কমিটির সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পদাধিকারবলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন মনোনীত হয়েছেন। উল্লেখ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী উপাচার্য মহোদয়গনও বিভিন্ন বিভাগের প্লানিং কমিটিতে পদাধিকারবলে (অনুষদের ডীন) সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন।

এছাড়াও আমি জানতে চাই যে, শুধুমাত্র তার (অধ্যাপক ডঃ মোঃ মোরশেদ হোসেন) জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নয় বরং একজন নারী শিক্ষক হিসেবে বিভাগীয় চেয়ারম্যান পদে আমার অধিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিকে তিনি কখনই মেনে নিতে পারেননি। আসলেই তিনি নারী ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী নন।

সেই কারণেই আমি পূর্বে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে (গত ১৮/১২/২০১৩ হতে ১৭/১২/২০১৬) দায়িত্ব পালনকালে অধ্যাপক ডঃ মোঃ মোরশেদ হোসেন অর্থনীতি বিভাগের একাডেমিক ও প্লানিং কমিটির সকল সভা হতে কোন যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

একটি বিভাগের প্লানিং কমিটি শুধুমাত্র শিক্ষকবৃন্দের পদোন্নতি সুপারিশের জন্য গঠিত হয় না বরং একই সঙ্গে এটি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য গঠিত হয়। আমি জনাব জনি পারভীন, সহকারী অধ্যাপক, বেরোবি, গত ১৮/১২/২০২০ তারিখ যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য আবেদন করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পদাধিকারবলে আমি বিভাগীয় প্রধান ও প্লানিং কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ায় উল্লেখিত পদোন্নতি সুপারিশের জন্য সভা অনুষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সংগত কারণেই আমাকে সেই সভার সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে হয়।

উল্লেখ্য, আমি (জনাব জনি পারভীন সহকারী অধ্যাপক) প্লানিং কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ায় নিজ পদোন্নতি সুপারিশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় নিয়ম অনুযায়ী অনুপস্থিত থাকি এবং আমার অবর্তমানে আমার ব্যাপারে সুপারিশ গৃহীত হয়। এই বিষয়ে যুগান্তর অনলাইন রিপোর্টে প্রকাশ, ‘‘নিজেই নিজের পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেছেন’’- এই তথ্যটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন এবং নিতান্তই এক বা একাধিক ব্যক্তির অপপ্রচার।

কোন নিরীক্ষণ ছাড়াই অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত এই বিষয়টি একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে তেমনি অন্যদিকে এই মিথ্যা অভিযোগটি একজন শিক্ষকের জন্য অত্যন্ত মানহানিকর। এই বিষয়ে আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করছি।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার শিক্ষকতার মোট মেয়াদকাল প্রায় ১১ বছর এবং সহকারী অধ্যাপক পদে মেয়াদকাল ৯ বছরের অধিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতির নীতিমালা অনুযায়ী আমার সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রাপ্তির সময় প্রায় ৪ বছর অতিবাহিত হয়েছে। আমি ২৮/০১/২০১১ তারিখ থেকে অদ্য পর্যন্ত সহকারী অধ্যাপক পদেই রয়েছি।

এই পত্রিকায় মতামত প্রকাশকারী জনৈক শিক্ষক ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন ‘‘আমি বিভাগীয় প্রধান থাকাকালীন আপনার পদোন্নতির বোর্ড হবে না’’ কার্যক্ষেত্রেও তিনি তার সময়কালীন আমার পদোন্নতি কার্যকরী করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

বর্তমানে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত পদোন্নতি নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করি এবং প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এখানে নিয়মের কোন ব্যত্যয় ঘটেছে বলে আমার জানা নেই।

আমার জানা মতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিপূর্বেও এর চেয়ে স্বল্পসময়ে পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসন চাইলে কোন নিয়ম ব্যত্যয় ছাড়াই যে কোন শিক্ষকের পদোন্নতি প্রক্রিয়াটি স্বল্পসময়ে সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু উল্লেখিত পত্রিকায় বলা হয়েছে- ‘‘আমার রাতারাতি বোর্ড হয়েছে’’- এই তথ্যটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া। বরং আমার পদোন্নতির বোর্ডটি আরও চার বছর পূর্বে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু কেন এতদিনও তা হয়নি সেটি বরং খতিয়ে দেখা দরকার।

তাই এই মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদনের আমি জোর আপত্তিসহ প্রতিবাদ জানাচ্ছি। স্বাভাবিক ভাবে একজন শিক্ষক, শিক্ষক সমিতির সাধারণ নির্বাচন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারেন এর সঙ্গে পদোন্নতি কার্যক্রমের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

পদোন্নতির জন্য বোর্ড গঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রশাসনিক কার্যক্রম, এখানে পুরস্কার হিসাবে পদোন্নতি প্রদানের কোন সুযোগ নেই। নির্বাচনে আমি কার পক্ষে কাজ করছি এ প্রসঙ্গ নিতান্তই অর্থহীন ও আপত্তিকর। এ বিষয়ে প্রকাশিত বক্তব্য ‘‘২০২০ সালে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে জনি পারভীন ভিসিকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করার পুরস্কার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন’’-যুক্তিহীন, মনগড়া ও অত্যন্ত আপত্তিকর।

গত ২৯/০১/২০২০ তারিখ আমি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিভাগীয় কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম। পত্রিকায় প্রকাশিত বিভাগীয় কার্যালয়ে আমাকে না পাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। যেখানে আমি উপস্থিত ছিলাম সেহেতু অপরিচিত মোবাইল ফোনের থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রথমেই আমার পদোন্নতির বোর্ড সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জানতে চাইলে আমি উত্তর দিতে আপত্তি করি।

এই সম্পূর্ণ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ যেখানে আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি এবং সেই সঙ্গে আবারও এই মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রচারণার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ১৬৪ ৩৩ ১৭
বিশ্ব ১৪,৩১,৭০৬ ৩,০২,১৫০ ৮২,০৮০
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর
-

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত