সভাপতি সম্পাদক ছাড়াই উজ্জীবিত জাবি ছাত্রলীগ!
jugantor
সভাপতি সম্পাদক ছাড়াই উজ্জীবিত জাবি ছাত্রলীগ!

  জাবি প্রতিনিধি  

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৩৩:২৭  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএনপির ডাকা হরতালকে অযৌক্তিক দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

বিএনপির ডাকা হরতালকে অযৌক্তিক দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। তবে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জাবি শাখার সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

অপরদিকে বিক্ষোভ শেষে শহীদ মিনারের পাদদেশে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এক নেতা দাবি করেন, সাধারণ সম্পাদক লাপাত্তা এবং সভাপতি অবাঞ্ছিত, তবুও আজ উজ্জীবিত শাখা ছাত্রলীগ। জাবি ছাত্রলীগ আজ নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলেও দাবি এসব নেতাদের।

এই বিক্ষোভে বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

গত ১০ দিনের শাখা ছাত্রীগের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই বছর মেয়াদোত্তীর্ণ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে গৃহবিবাদে জড়িয়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে কমিটি গঠিত হয় । বর্তমানে কমিটির সিনিয়র শীর্ষ নেতারা অধিকাংশ চাকুরি অথবা বিবাহ করে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন।

গত বছরের আগস্টে ক্যাম্পাস থেকে লাপাত্তা হন সাধারণ সম্পাদক এস এম সুফিয়ান চঞ্চল। সর্বশেষ নভেম্বরের ৪ তারিখে কেন্দ্রীয় দফতর সেলে পদত্যাগ পত্র জমা দেন তিনি।

সিনিয়র নেতারা বলছেন, জাবি ছাত্রলীগের এমন ভঙ্গুর অবস্থা থাকলেও নতুন কমিটির চিন্তা না করে সভাপতি পদ আকড়ে রয়েছেন। এজন্য সভাপতিকে বাদ দিয়ে ৪১ (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) ও ৪২ ব্যাচের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনায় কর্মসূচি পালন করছেন।

এর আগে, গত সপ্তাহে এক বাইক শোডাইন দিয়ে সভাপতি মো. জুয়েল রানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ছেলেদের ৭টি হলের নেতাকর্মীরা। এদের মধ্যে সভাপতির ঘনিষ্ঠ সব নেতারাও রয়েছেন। আর সভাপতি ও বিদ্রোহীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে সভাপতির নিজের হলের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা বলেন, বাইক শোডাইন দেয়া নেতারা প্রক্টর ও উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে সভাপতি জুয়েল রানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এ সময় জুয়েল রানাকে হল থেকে বের করে দিতেও প্রশাসনের কাছে দাবি জানান নেতারা।

হরতাল বিরোধী বিক্ষোভের পর শাখা ছাত্রলীগের উপ-দফতর সম্পাদক এম মাইনুল হোসাইন রাজন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে দুই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরেও বিএনপি অযৌক্তিকভাবে হরতাল ডেকেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এরপর শাখা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘সভাপতি ছাড়া আমরা একটি নতুন প্লাটফর্মে তথা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ব্যানারে মিলিত হয়েছি। এই উপস্থিতি জানান দেয়, জাবি ছাত্রলীগ আজ নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছে। মনে হচ্ছে, ছাত্রলীগ আজ প্রাণ ফিরে পেয়েছে।’

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতির হল ছাড়া বাকি ৭টি ছেলেদের হলের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা মিছিল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন শাখা সভাপতি মো. জুয়েল রানা।

তিনি বলেন, ‘আমি কর্মসূচি পালন করার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কেন্দ্রীয় নেতারা এমন কর্মসূচির দরকার নেই বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তারা (বিক্ষোভকারীরা) নিষেধ অমান্য করেই কর্মসূচি পালন করেছে।’

তবে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তারেক হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি নিয়েই কর্মসূচি পালন করেছি।’

সভাপতি সম্পাদক ছাড়াই উজ্জীবিত জাবি ছাত্রলীগ!

 জাবি প্রতিনিধি 
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৬:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বিএনপির ডাকা হরতালকে অযৌক্তিক দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ
বিএনপির ডাকা হরতালকে অযৌক্তিক দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

বিএনপির ডাকা হরতালকে অযৌক্তিক দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। তবে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জাবি শাখার সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

অপরদিকে বিক্ষোভ শেষে শহীদ মিনারের পাদদেশে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এক নেতা দাবি করেন, সাধারণ সম্পাদক লাপাত্তা এবং সভাপতি অবাঞ্ছিত, তবুও আজ উজ্জীবিত শাখা ছাত্রলীগ। জাবি ছাত্রলীগ আজ নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলেও দাবি এসব নেতাদের।

এই বিক্ষোভে বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

গত ১০ দিনের শাখা ছাত্রীগের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  দুই বছর মেয়াদোত্তীর্ণ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে গৃহবিবাদে জড়িয়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে কমিটি গঠিত হয় । বর্তমানে কমিটির সিনিয়র শীর্ষ নেতারা অধিকাংশ চাকুরি অথবা বিবাহ করে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন।

গত বছরের আগস্টে ক্যাম্পাস থেকে লাপাত্তা হন সাধারণ সম্পাদক এস এম সুফিয়ান চঞ্চল। সর্বশেষ নভেম্বরের ৪ তারিখে কেন্দ্রীয় দফতর সেলে পদত্যাগ পত্র জমা দেন তিনি।

সিনিয়র নেতারা বলছেন, জাবি ছাত্রলীগের এমন ভঙ্গুর অবস্থা থাকলেও নতুন কমিটির চিন্তা না করে সভাপতি পদ আকড়ে রয়েছেন। এজন্য সভাপতিকে বাদ দিয়ে ৪১ (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) ও ৪২ ব্যাচের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনায় কর্মসূচি পালন করছেন।

এর আগে, গত সপ্তাহে এক বাইক শোডাইন দিয়ে সভাপতি মো. জুয়েল রানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ছেলেদের ৭টি হলের নেতাকর্মীরা। এদের মধ্যে সভাপতির ঘনিষ্ঠ সব নেতারাও রয়েছেন। আর সভাপতি ও বিদ্রোহীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে সভাপতির নিজের হলের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা বলেন, বাইক শোডাইন দেয়া নেতারা প্রক্টর ও উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে সভাপতি জুয়েল রানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এ সময় জুয়েল রানাকে হল থেকে বের করে দিতেও প্রশাসনের কাছে দাবি জানান নেতারা।

হরতাল বিরোধী বিক্ষোভের পর শাখা ছাত্রলীগের উপ-দফতর সম্পাদক এম মাইনুল হোসাইন রাজন বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে দুই সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরেও বিএনপি অযৌক্তিকভাবে হরতাল ডেকেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এরপর শাখা ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘সভাপতি ছাড়া আমরা একটি নতুন প্লাটফর্মে তথা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ব্যানারে মিলিত হয়েছি। এই উপস্থিতি জানান দেয়, জাবি ছাত্রলীগ আজ নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছে। মনে হচ্ছে, ছাত্রলীগ আজ প্রাণ ফিরে পেয়েছে।’ 

বিক্ষোভ মিছিলে সভাপতির হল ছাড়া বাকি ৭টি ছেলেদের হলের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। 

এদিকে কেন্দ্রীয় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা মিছিল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন শাখা সভাপতি মো. জুয়েল রানা।

তিনি বলেন, ‘আমি কর্মসূচি পালন করার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কেন্দ্রীয় নেতারা এমন কর্মসূচির দরকার নেই বলে জানিয়েছেন। কিন্তু তারা (বিক্ষোভকারীরা)  নিষেধ অমান্য করেই কর্মসূচি পালন করেছে।’

তবে শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তারেক হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি নিয়েই কর্মসূচি পালন করেছি।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন