বশেমুরবিপ্রবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের নেপথ্যে...
jugantor
বশেমুরবিপ্রবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের নেপথ্যে...

  গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি  

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০৯:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে শিক্ষকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন আইন বিভাগের সিফাত (তৃতীয়), মেহেদী হাসান (চতুর্থ), মন্টু বিশ্বাস (তৃতীয়), সানি (প্রথম), বাদশা (তৃতীয়), হৃদয় (তৃতীয়) এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ফরহাত হোসেন (তৃতীয়)।

রোববার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয় এবং থেমে থেমে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের লাঠিসোটা নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে দেখা যায়। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইন বিভাগের ক্লাসরুমে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের অন্তিক নামের এক ছাত্র কথা বলার জন্য কল করে। রোববার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ওই ছাত্রী তার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক বড় ভাইকে বিষয়টি বলে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভারে ওই ছাত্র আইন বিভাগের অন্তিককে ডেকে নিয়ে মারধর করে। অন্তিক তাকে মারপিট করার ঘটনা আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রিয়াদ ও শান্তকে বলে। তারা গিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ওই ছাত্রকে মারপিট করে। পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে আইন বিভাগের রিয়াদ ও শান্তকে মারপিট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিপুস ক্যান্টিনে গিয়ে বসে।

এ ঘটনা আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী লিপুস ক্যান্টিনে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য যায়। লিপুস ক্যান্টিনে অবস্থানরত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে মারপিট শুরু করে। এরপর উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইন বিভাগের ক্লাস রুমের দরজা, জানালা ব্যাপক ভাঙচুর করে। আমাদের ক্লাস রুমের মধ্যে আটক রেখে হামলা ও ভাংচুর চালায় তারা।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হাসিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনার পেছনে অনেক বড় কাহিনী রয়েছে। মোবাইল ফোনে বলা যাবে না তবে ভাংচুরের যে ঘটনা এটা শুধু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর এক তরফা করেনি উভয়পক্ষই করেছে।

গোপালগঞ্জে বশেমুরবিপ্রবির প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ এই মুহূর্তে শান্ত রয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করি একটা সমাধান আসবে।

গোপালগঞ্জে বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য বলেন, একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। এই মুহূর্তে দুই গ্রুপকে শান্ত করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বশেমুরবিপ্রবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের নেপথ্যে...

 গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে শিক্ষকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন আইন বিভাগের সিফাত (তৃতীয়), মেহেদী হাসান (চতুর্থ), মন্টু বিশ্বাস (তৃতীয়), সানি (প্রথম), বাদশা (তৃতীয়), হৃদয় (তৃতীয়) এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ফরহাত হোসেন (তৃতীয়)। 

রোববার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয় এবং থেমে থেমে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। 

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের লাঠিসোটা নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে দেখা যায়। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইন বিভাগের ক্লাসরুমে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের অন্তিক নামের এক ছাত্র কথা বলার জন্য কল করে। রোববার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ওই ছাত্রী তার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক বড় ভাইকে বিষয়টি বলে।
 
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভারে ওই ছাত্র আইন বিভাগের অন্তিককে ডেকে নিয়ে মারধর করে। অন্তিক তাকে মারপিট করার ঘটনা আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রিয়াদ ও শান্তকে বলে। তারা গিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ওই ছাত্রকে মারপিট করে। পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে আইন বিভাগের রিয়াদ ও শান্তকে মারপিট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিপুস ক্যান্টিনে গিয়ে বসে।

এ ঘটনা আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী লিপুস ক্যান্টিনে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য যায়। লিপুস ক্যান্টিনে অবস্থানরত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়ে মারপিট শুরু করে। এরপর উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইন বিভাগের ক্লাস রুমের দরজা, জানালা ব্যাপক ভাঙচুর করে। আমাদের ক্লাস রুমের মধ্যে আটক রেখে হামলা ও ভাংচুর চালায় তারা।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান হাসিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনার পেছনে অনেক বড় কাহিনী রয়েছে। মোবাইল ফোনে বলা যাবে না তবে ভাংচুরের যে ঘটনা এটা শুধু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীর এক তরফা করেনি উভয়পক্ষই করেছে।

গোপালগঞ্জে বশেমুরবিপ্রবির প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ এই মুহূর্তে শান্ত রয়েছে। প্রক্টরিয়াল বডি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করি একটা সমাধান আসবে।

গোপালগঞ্জে বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য বলেন, একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। এই মুহূর্তে দুই গ্রুপকে শান্ত করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন