বেরোবি ভিসির আর্থিক দুর্নীতির অর্ধশতাধিক অভিযোগ
jugantor
বেরোবি ভিসির আর্থিক দুর্নীতির অর্ধশতাধিক অভিযোগ

  বেরোবি প্রতিনিধি  

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:১২:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বেরোবি শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অন্যায়, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক দুর্নীতির অর্ধশতাধিক অভিযোগ করেছেন ভিসিবিরোধী শিক্ষকরা।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’-এর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।

শিক্ষকরা মুজিববর্ষে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা আনয়নের কাজে নিবেদিত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে কোনো ধরনের কর্মসূচি না দিলেও ভিসি এ সব কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন ভিসিবিরোধী শিক্ষকরা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ভিসিকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দেয়া নিয়োগের শর্ত লঙ্ঘন করে ক্যাম্পাসে ৯০ শতাংশ অনুপস্থিত থেকে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে সব কাজে স্থবিরতা সৃষ্টি করে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও নিজেই অবৈধভাবে তিনটি অনুষদের ডিন, এক বিভাগের প্রধান, ট্রেজারার, ড. ওয়াজেদ ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালকের পদ আঁকড়ে রেখেছেন।

এ ছাড়াও ভিসিপন্থী শিক্ষকদের অবৈধভাবে পদোন্নতি দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ৭ বিভাগের প্লানিং কমিটির সদস্য হয়েছেন।

এ দিকে অনুপস্থিতির পাহাড় গড়লেও তিনি একাই অর্ধশতাধিক কোর্স পড়ানোর জন্য দায়িত্ব নিয়ে কর্মচারীদের মাধ্যমে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের পরীক্ষা গ্রহণ করিয়ে লাখ লাখ টাকা হরিলুট করেছেন।

রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মনোয়ারুল ইসলামের নিয়োগের প্রক্রিয়াও যথাযথ হয়নি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভিসির নির্দেশনায় রেজিস্ট্রার এবং প্রকৌশলী ক্যাম্পাসে থাকেন না কিন্তু লক্ষাধিক টাকা বেতন তুলছেন ঢাকায় বসে।

এ ছাড়া নিয়োগেও সীমাহীন দুর্নীতি-অনিয়ম করে ভিসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনালসের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আবুল কাশেম মজুমদারকে প্রায় ৯টি নিয়োগ বোর্ডে এবং ভিসির মাকে একাধিক নিয়োগ বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে মিটিং করার কক্ষ থাকলেও ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা, নিয়োগ বোর্ড, আপগ্রেডেশন বোর্ডসহ বিভিন্ন সভা করেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ টাকা শুধু যাতায়াত বাবদ ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

ভিসির প্রাধিকারভুক্ত একটি গাড়ি পাওয়ার কথা থাকলেও ঢাকায় কয়েকটি গাড়ি ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত সংস্থা জানিপপের কাজে।

ইউজিসির অনুমোদন না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বুনিয়াদী কোর্সের নাম করে ঢাকায় নিয়ে ভিসির ব্যক্তিগত কাজ করান।

এই কোর্সকে অবৈধ কোর্স ঘোষণা করে বন্ধ করার কথা বললেও ভিসির ঘনিষ্ঠ দু-চারজন ব্যক্তি নিয়মিত সেই বুনিয়াদী কোর্সে ক্লাস নেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এ ছাড়াও ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে বি ইউনিটের পরীক্ষার ভিসির এক ঘনিষ্ঠ নারী শিক্ষকের বোনকে ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতি করে পরীক্ষায় প্রথম স্থান বানিয়ে ভর্তি বাণিজ্য করেছেন।

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর স্বামীর নামে প্রতিষ্ঠিত প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের পরিচালক হিসেবে সিটি কর্পোরেশন থেকে তিনি নিজের নামে দুটি ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মতিউর রহমান।

এ সময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি প্রফেসর ড. একেএম ফরিদ-উল ইসলাম, সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ড. তুহিন ওয়াদুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও অধিকার সুরক্ষা পরিষদের সদস্য সচিব খায়রুল কবির সুমন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম হুমায়দা, প্রভাষক মাহমুদুল হক প্রমুখ।

বেরোবি ভিসির আর্থিক দুর্নীতির অর্ধশতাধিক অভিযোগ

 বেরোবি প্রতিনিধি 
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:১২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বেরোবি শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন
বেরোবি শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: যুগান্তর

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অন্যায়, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক দুর্নীতির অর্ধশতাধিক অভিযোগ করেছেন ভিসিবিরোধী শিক্ষকরা।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’-এর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা। 

শিক্ষকরা মুজিববর্ষে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও স্বচ্ছতা আনয়নের কাজে নিবেদিত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে কোনো ধরনের কর্মসূচি না দিলেও ভিসি এ সব কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন ভিসিবিরোধী শিক্ষকরা। 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ভিসিকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক দেয়া নিয়োগের শর্ত লঙ্ঘন করে ক্যাম্পাসে ৯০ শতাংশ অনুপস্থিত থেকে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে সব কাজে স্থবিরতা সৃষ্টি করে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও নিজেই অবৈধভাবে তিনটি অনুষদের ডিন, এক বিভাগের প্রধান, ট্রেজারার, ড. ওয়াজেদ ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালকের পদ আঁকড়ে রেখেছেন। 

এ ছাড়াও ভিসিপন্থী শিক্ষকদের অবৈধভাবে পদোন্নতি দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ৭ বিভাগের প্লানিং কমিটির সদস্য হয়েছেন। 

এ দিকে অনুপস্থিতির পাহাড় গড়লেও তিনি একাই অর্ধশতাধিক কোর্স পড়ানোর জন্য দায়িত্ব নিয়ে কর্মচারীদের মাধ্যমে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের পরীক্ষা গ্রহণ করিয়ে লাখ লাখ টাকা হরিলুট করেছেন। 

রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মনোয়ারুল ইসলামের নিয়োগের প্রক্রিয়াও যথাযথ হয়নি উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভিসির নির্দেশনায় রেজিস্ট্রার এবং প্রকৌশলী ক্যাম্পাসে থাকেন না কিন্তু লক্ষাধিক টাকা বেতন তুলছেন ঢাকায় বসে। 

এ ছাড়া নিয়োগেও সীমাহীন দুর্নীতি-অনিয়ম করে ভিসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনালসের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আবুল কাশেম মজুমদারকে প্রায় ৯টি নিয়োগ বোর্ডে এবং ভিসির মাকে একাধিক নিয়োগ বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে মিটিং করার কক্ষ থাকলেও ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা, নিয়োগ বোর্ড, আপগ্রেডেশন বোর্ডসহ বিভিন্ন সভা করেন। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ টাকা শুধু যাতায়াত বাবদ ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। 

ভিসির প্রাধিকারভুক্ত একটি গাড়ি পাওয়ার কথা থাকলেও ঢাকায় কয়েকটি গাড়ি ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত সংস্থা জানিপপের কাজে। 

ইউজিসির অনুমোদন না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বুনিয়াদী কোর্সের নাম করে ঢাকায় নিয়ে ভিসির ব্যক্তিগত কাজ করান। 

এই কোর্সকে অবৈধ কোর্স ঘোষণা করে বন্ধ করার কথা বললেও ভিসির ঘনিষ্ঠ দু-চারজন ব্যক্তি নিয়মিত সেই বুনিয়াদী কোর্সে ক্লাস নেয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। 

এ ছাড়াও ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে বি ইউনিটের পরীক্ষার ভিসির এক ঘনিষ্ঠ নারী শিক্ষকের বোনকে ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতি করে পরীক্ষায় প্রথম স্থান বানিয়ে ভর্তি বাণিজ্য করেছেন। 

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর স্বামীর নামে প্রতিষ্ঠিত প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের পরিচালক হিসেবে সিটি কর্পোরেশন থেকে তিনি নিজের নামে দুটি ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মতিউর রহমান। 

এ সময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি প্রফেসর ড. একেএম ফরিদ-উল ইসলাম, সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ড. তুহিন ওয়াদুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও অধিকার সুরক্ষা পরিষদের সদস্য সচিব খায়রুল কবির সুমন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম হুমায়দা, প্রভাষক মাহমুদুল হক প্রমুখ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন