বেরোবিতে ভাষা দিবস উদযাপনের অফিস আদেশে ভুলের ছড়াছড়ি
jugantor
বেরোবিতে ভাষা দিবস উদযাপনের অফিস আদেশে ভুলের ছড়াছড়ি

  বেরোবি প্রতিনিধি  

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৩০:০৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে রেজিস্ট্রার দফতর থেকে দেয়া এক অফিস আদেশের চিঠিতে ভাষা, বানান ও শব্দগত একাধিক ভুল পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল স্বাক্ষরিত (২০.০২.২০২০) এক চিঠিতে এসব ভুল দেখা গেছে; যার স্মারক নং- বেরোবি:/রেজি:/দিবস উদযাপন-৭৬ (৬)/২০২০/৩২৩। অফিস আদেশটি যুগান্তরের হাতে এসেছে।

অফিস আদেশে দেখা গেছে, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রত্যেক অনুষদ, বিভাগ, হল প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।

এর নিচে অনুষ্ঠানে সময়সূচিতে ‘২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, তারিখ শুক্রবার’ সন্ধ্যা ৬টায় প্রদীপ ‘প্রজ্জ্বালন’ ও উদ্বোধন এবং ‘২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, তারিখ শনিবার’ রাতে ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরের পুষ্পাস্তবক অর্পনসহ অন্যান্য কর্মসূচি।

কিন্তু অনুষ্ঠানসূচির এখানে ভয়াবহ ভুল দেখা গেছে। ২০ ফেব্রুয়ারিতে শুক্রবারের জায়গায় বৃহস্পতিবার এবং ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবারের জায়গায় হবে শুক্রবার।

আবার দুই জায়গায় ‘তারিখ’ কথাটি অতিরিক্ত ব্যবহার করায় এটি ভাষাগত ভুল। এদিকে প্রদীপ ‘প্রজ্জ্বালন’ শব্দটি বানানগত ভুল। এখানে বাংলা একাডেমির অভিধান অনুসারে প্রজ্বলন বানানটি শুদ্ধ।

ভাষার মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা জায়গায় এমন ভুল মানতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে রেজিস্ট্রার অফিস আদেশ দিয়েছে কিন্তু সেখানেও বাংলা ভাষাকে অসম্মান করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাহাত আসরার বলেন, অফিস আদেশে এমন শব্দ ও বানান ভুল আসলে মেনে নেয়া যায় না। শুরু হয়েছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভাষার মর্যাদা অর্জিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গায় অফিস আদেশে বাংলা ভুল শব্দ, বানানের ছড়াছড়ি। ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পার করেও বাংলার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

এমন ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষার্থীরা। আরেক শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, রেজিস্ট্রার বাংলা বলতেই পারেন না, কথায় কথায় ইংরেজি কথা বলেন। তাকে দেখলেই বোঝা যায় তার বাংলা ভাষার প্রতি কতটা অবহেলা।

তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মুখতার ইলাহীর নামের বানান ভুলসহ ডায়েরি-ক্যালেন্ডারে বানান শব্দ গঠনের ভুল দেখা গেছে।

উল্লেখ্য এর আগে ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তি এবং প্রকৌশল দফতরের এক চিঠিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বানান ভুল হওয়ায় সেই অফিসে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতর থেকে প্রকাশিত বার্ষিক ডায়েরিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামের বানান ভুল করে। এ ঘটনায় ডায়েরি বিতরণ বন্ধ রাখে জনসংযোগ দফতর।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামালকে মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি ফোন কেটে দেন। ম্যাসেজের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করে বক্তব্য চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দেশের বাইরে থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বেরোবিতে ভাষা দিবস উদযাপনের অফিস আদেশে ভুলের ছড়াছড়ি

 বেরোবি প্রতিনিধি 
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৩০ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে রেজিস্ট্রার দফতর থেকে দেয়া এক অফিস আদেশের চিঠিতে ভাষা, বানান ও শব্দগত একাধিক ভুল পাওয়া গেছে। 

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামাল স্বাক্ষরিত (২০.০২.২০২০) এক চিঠিতে এসব ভুল দেখা গেছে; যার স্মারক নং- বেরোবি:/রেজি:/দিবস উদযাপন-৭৬ (৬)/২০২০/৩২৩। অফিস আদেশটি যুগান্তরের হাতে এসেছে।  

অফিস আদেশে দেখা গেছে, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রত্যেক অনুষদ, বিভাগ, হল প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। 

এর নিচে অনুষ্ঠানে সময়সূচিতে ‘২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, তারিখ শুক্রবার’ সন্ধ্যা ৬টায় প্রদীপ ‘প্রজ্জ্বালন’ ও উদ্বোধন এবং ‘২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, তারিখ শনিবার’ রাতে ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরের পুষ্পাস্তবক অর্পনসহ অন্যান্য কর্মসূচি।

কিন্তু অনুষ্ঠানসূচির এখানে ভয়াবহ ভুল দেখা গেছে। ২০ ফেব্রুয়ারিতে শুক্রবারের জায়গায় বৃহস্পতিবার এবং ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবারের জায়গায় হবে শুক্রবার। 

আবার দুই জায়গায় ‘তারিখ’ কথাটি অতিরিক্ত ব্যবহার করায় এটি ভাষাগত ভুল। এদিকে প্রদীপ ‘প্রজ্জ্বালন’ শব্দটি বানানগত ভুল। এখানে বাংলা একাডেমির অভিধান অনুসারে প্রজ্বলন বানানটি শুদ্ধ।   

ভাষার মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা জায়গায় এমন ভুল মানতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে রেজিস্ট্রার অফিস আদেশ দিয়েছে কিন্তু সেখানেও বাংলা ভাষাকে অসম্মান করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাহাত আসরার বলেন, অফিস আদেশে এমন শব্দ ও বানান ভুল আসলে মেনে নেয়া যায় না। শুরু হয়েছে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভাষার মর্যাদা অর্জিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গায় অফিস আদেশে বাংলা ভুল শব্দ, বানানের ছড়াছড়ি। ভাষা আন্দোলনের ৬৮ বছর পার করেও বাংলার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

এমন ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষার্থীরা। আরেক শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, রেজিস্ট্রার বাংলা বলতেই পারেন না, কথায় কথায় ইংরেজি কথা বলেন। তাকে দেখলেই বোঝা যায় তার বাংলা ভাষার প্রতি কতটা অবহেলা। 

তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মুখতার ইলাহীর নামের বানান ভুলসহ ডায়েরি-ক্যালেন্ডারে বানান শব্দ গঠনের ভুল দেখা গেছে।

উল্লেখ্য এর আগে ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তি এবং প্রকৌশল দফতরের এক চিঠিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বানান ভুল  হওয়ায় সেই অফিসে তালা দেয় শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতর থেকে প্রকাশিত বার্ষিক ডায়েরিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামের বানান ভুল করে। এ ঘটনায় ডায়েরি বিতরণ বন্ধ রাখে জনসংযোগ দফতর।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মুস্তাফা কামালকে মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি ফোন কেটে দেন। ম্যাসেজের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করে বক্তব্য চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দেশের বাইরে থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন