অকৃতকার্য হয়েও রাবিতে ভর্তি!
jugantor
অকৃতকার্য হয়েও রাবিতে ভর্তি!

  রাজশাহী ব্যুরো  

১০ মার্চ ২০২০, ২২:০৫:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের মানববন্ধন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছেন ৪৩ জন শিক্ষার্থী।

তাদের ভর্তি বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

এ সময় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।

তাদের দাবিগুলো হল- ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে অকৃতকার্য ৪৩ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করতে হবে এবং সেই সঙ্গে এ ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে, ভর্তি পরীক্ষায় প্রশাসন শুধু মনিটরিংয়ের ভূমিকা পালন করবে এবং শিক্ষার্থী ভর্তিতে প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, ভর্তি পরীক্ষায় বিদ্যমান কোটা সংস্কার করতে হবে, কোটায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে মেধাক্রম অনুযায়ী শূন্য আসন পূরণ করতে হবে এবং উল্লিখিত দাবিসমূহ সম্পূর্ণভাবে মানা হয়েছে এই মর্মে দ্রুত লিখিত আকারে জানাতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা দৈনিক ১২-১৩ ঘণ্টা পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পোষ্য কোটায় তাদের সন্তানদের ভর্তির সুযোগ করে দিচ্ছেন।

তারা বলেন, ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে কোটায় ভর্তি হতে হলে ন্যূনতম পাস নম্বর পেতে হবে। কিন্তু ন্যূনতম এ পাস নম্বর না পেয়েও ৪৩ জন শিক্ষার্থীকে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তির সুযোগ দিয়েছে? এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। হয়তো ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে হবে। নতুবা এ সব দুর্নীতি পরিহার করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে রাবি কর্তৃপক্ষ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে নতুন করে বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের এমন দুর্নীতি আমরা মানব না।

এ সময় তাদের হাতে ‘অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’, স্বচ্ছ হোক শিক্ষানীতি, বন্ধ কর স্বজনপ্রীতি’, ‘পোষ্য কোটা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘ভর্তি নয় পোষ্যতায়, ভর্তি হোক যোগ্যতায়’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মাহমুদ সাকি, আমান উল্লাহ খান, হেলাল উদ্দিন, মহিউদ্দিন মানিক, নাইমুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত বছর ২১ ও ২২ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায় ৪৩ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ১০০ নম্বরের এ পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ছিল ৪০, কিন্তু ন্যূনতম পাস নম্বর না পেলেও ভর্তি হয়েছেন এ সব শিক্ষার্থী।

অকৃতকার্য হয়েও রাবিতে ভর্তি!

 রাজশাহী ব্যুরো 
১০ মার্চ ২০২০, ১০:০৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের মানববন্ধন
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের মানববন্ধন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েও পোষ্য কোটায় ভর্তি হয়েছেন ৪৩ জন শিক্ষার্থী।

তাদের ভর্তি বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

এ সময় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিল না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন।

তাদের দাবিগুলো হল- ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে অকৃতকার্য ৪৩ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করতে হবে এবং সেই সঙ্গে এ ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে, ভর্তি পরীক্ষায় প্রশাসন শুধু মনিটরিংয়ের ভূমিকা পালন করবে এবং শিক্ষার্থী ভর্তিতে প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, ভর্তি পরীক্ষায় বিদ্যমান কোটা সংস্কার করতে হবে, কোটায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে মেধাক্রম অনুযায়ী শূন্য আসন পূরণ করতে হবে এবং উল্লিখিত দাবিসমূহ সম্পূর্ণভাবে মানা হয়েছে এই মর্মে দ্রুত লিখিত আকারে জানাতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা দৈনিক ১২-১৩ ঘণ্টা পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পোষ্য কোটায় তাদের সন্তানদের ভর্তির সুযোগ করে দিচ্ছেন।

তারা বলেন, ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে কোটায় ভর্তি হতে হলে ন্যূনতম পাস নম্বর পেতে হবে। কিন্তু ন্যূনতম এ পাস নম্বর না পেয়েও ৪৩ জন শিক্ষার্থীকে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তির সুযোগ দিয়েছে? এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। হয়তো ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে হবে। নতুবা এ সব দুর্নীতি পরিহার করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে রাবি কর্তৃপক্ষ।  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়েকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে নতুন করে বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের এমন দুর্নীতি আমরা মানব না।

এ সময় তাদের হাতে ‘অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’, স্বচ্ছ হোক শিক্ষানীতি, বন্ধ কর স্বজনপ্রীতি’, ‘পোষ্য কোটা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘ভর্তি নয় পোষ্যতায়, ভর্তি হোক যোগ্যতায়’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মাহমুদ সাকি, আমান উল্লাহ খান, হেলাল উদ্দিন, মহিউদ্দিন মানিক, নাইমুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত বছর ২১ ও  ২২ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায় ৪৩ জন অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পোষ্য কোটায় বিভিন্ন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ১০০ নম্বরের এ পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ছিল ৪০, কিন্তু ন্যূনতম পাস নম্বর না পেলেও ভর্তি হয়েছেন এ সব শিক্ষার্থী।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন