আবরারের স্মরণে পলাশীতে স্মৃতিস্তম্ভ (ভিডিও)
jugantor
আবরারের স্মরণে পলাশীতে স্মৃতিস্তম্ভ (ভিডিও)

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৭ অক্টোবর ২০২০, ১৪:১৪:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীর স্মরণে রাজধানীর পলাশীর মোড়ে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ‘আবার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ’ ব্যানারে এই স্তম্ভ তৈরি করেন।

আখতার নিজেকে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করছেন।

স্মৃতিস্তম্ভের ফলকে লেখা হয়েছে ‘অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা, অসীম মহাকাশের অন্তে’। আবরার ফাহাদ তার ফেসবুক প্রোফাইলেও ওই উক্তি ব্যবহার করেছিলেন।

ওই ফলকে আরও লেখা হয়েছে, ‘আগ্রাসনবিরোধী ‘আট স্তম্ভ’। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরোধিতা করায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত শহীদ আবরার ফাহাদের স্মৃতি ও চেতনা সমুন্নত রাখতে স্থাপিত।’

আখতার গণমাধ্যমকে জানান, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, গণপ্রতিরক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, দেশীয় শিল্প-কৃষি ও নদী-বন-বন্দর রক্ষা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদা এই আটটি বিষয়ের প্রতীক হিসেবে তারা আটটি স্তম্ভ বানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার আজ থেকে এক বছর আগে ঠিক এই রাতেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন। তাই আমরা এই স্থাপনাটির নাম দিয়েছি আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ।

‘আমরা মনে করছি, আটটি স্তম্ভ আটটি বিষয়কে নির্দেশ করবে। এই আটটি বিষয় যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমরা একটি আগ্রাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারব।’

গত বছরের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ-ভারতে হওয়া চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।

এর জের ধরে ৬ অক্টোবর দিনগত রাতে আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে গিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

পাঁচ সপ্তাহ তদন্ত করে পুলিশ মোট ২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়, যাদের সবাই বুয়েটের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির সবার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।

আবরার হত্যার এক বছর হয়ে গেলেও বিচার শেষ না হওয়ায় বুধবার বিকালে পলাশী মোড়ে আট স্তম্ভের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা আখতার হোসেন।

আবরারের স্মরণে পলাশীতে স্মৃতিস্তম্ভ (ভিডিও)

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৭ অক্টোবর ২০২০, ০২:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীর স্মরণে রাজধানীর পলাশীর মোড়ে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ‘আবার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ’ ব্যানারে এই স্তম্ভ তৈরি করেন। 

আখতার নিজেকে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করছেন।

স্মৃতিস্তম্ভের ফলকে লেখা হয়েছে ‘অনন্ত মহাকালে মোর যাত্রা, অসীম মহাকাশের অন্তে’। আবরার ফাহাদ তার ফেসবুক প্রোফাইলেও ওই উক্তি ব্যবহার করেছিলেন।

ওই ফলকে আরও লেখা হয়েছে, ‘আগ্রাসনবিরোধী ‘আট স্তম্ভ’। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরোধিতা করায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত শহীদ আবরার ফাহাদের স্মৃতি ও চেতনা সমুন্নত রাখতে স্থাপিত।’

আখতার গণমাধ্যমকে জানান, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, গণপ্রতিরক্ষা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, দেশীয় শিল্প-কৃষি ও নদী-বন-বন্দর রক্ষা, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদা এই আটটি বিষয়ের প্রতীক হিসেবে তারা আটটি স্তম্ভ বানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার আজ থেকে এক বছর আগে ঠিক এই রাতেই ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন। তাই আমরা এই স্থাপনাটির নাম দিয়েছি আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ।

‘আমরা মনে করছি, আটটি স্তম্ভ আটটি বিষয়কে নির্দেশ করবে। এই আটটি বিষয় যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমরা একটি আগ্রাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারব।’

গত বছরের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ-ভারতে হওয়া চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।

এর জের ধরে ৬ অক্টোবর দিনগত রাতে আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে গিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।