ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথেষ্ঠ হোমওয়ার্ক করতে হবে
jugantor
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা
ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথেষ্ঠ হোমওয়ার্ক করতে হবে

  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি  

২৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩১:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটোপাস বলে বিদ্রুপ করার কোনো সুযোগ নেই। তারা কিন্তু পরীক্ষা দেয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাই তাদের কোনোভাবেই দোষ নেই। বুধবার সন্ধ্যায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কলা অনুষদ আয়োজিত 'এইচএসসি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা: সমস্যা ও সম্ভাবনা' বিষয়ে এক অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক তাহমিনা আহমেদের সভাপতিত্বে এই গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির পরিচালক ড. ফকরুল আলম। তিনি বলেন, আমি ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে। কিন্তু প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এজন্য যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করতে হবে। কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই পরীক্ষা যেন গতানুগতিক না হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে ৭১ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা মোটেই ঠিক হবে না।

গোলটেবিল আলোচনায় অতিথি হিসেবে অংশ নেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন,প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ এবং ভাসানটেক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন।

অধ্যাপক ড সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, সরকার একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জীবনের চেয়ে পরীক্ষা বড় নয়। যেহেতু এই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের একটি বিষয় আছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হওয়াটা প্রয়োজন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল মনুষ্যসৃষ্ট সংকট। আর এটি প্রাকৃতিক। প্রকৃতি সৃষ্ট করোনা নামের এই মহামারীর সংক্রমণ ঠেকাতেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। সেই জীবন রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, সরকার দুটি সিদ্ধান্ত খুব ভালো নিয়েছে। একটি হল- যথাসময়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে দেয়া। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি খুব জটিল ছিল। আরেকটি হল- উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা না নেয়ার ঘোষণা।

তিনি বলেন, আমি বরাবর সব পরীক্ষায় ভালো করেছি। আমি পরীক্ষার পক্ষেরই মানুষ। এবার এইচএসসির ক্ষেত্রে একটু অন্যরকম হল। তবে পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিল। মানে তাদের পড়াশোনা যা করার, তা কিন্তু করেছিল। এই পরীক্ষা লাগে পরবর্তী পর্যায়ে ভর্তির জন্য। কিন্তু আমরা জানি সব বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা আলাদা পরীক্ষা নেয়। কাজেই এইচএসসির ফলাফলটা শুধু প্রাথমিক একটা বাছাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে ভর্তির প্রক্রিয়া কিছুটা শিথিল করে দিতে পারে।

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ নেহাল আহমেদ বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমি আমার সন্তানকে কোনোভাবেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠাব না। শুধুমাত্র সিলেবাস মানার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের জীবনকে আমি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারি না।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আকন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ পরিচালক সাজেদ ফাতেমী।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথেষ্ঠ হোমওয়ার্ক করতে হবে

 সংবাদ বিজ্ঞপ্তি 
২৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটোপাস বলে বিদ্রুপ করার কোনো সুযোগ নেই। তারা কিন্তু পরীক্ষা দেয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাই তাদের কোনোভাবেই দোষ নেই। বুধবার সন্ধ্যায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কলা অনুষদ আয়োজিত 'এইচএসসি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা: সমস্যা ও সম্ভাবনা' বিষয়ে এক অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক তাহমিনা আহমেদের সভাপতিত্বে এই গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির পরিচালক ড. ফকরুল আলম। তিনি বলেন, আমি ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে। কিন্তু প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এজন্য যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করতে হবে। কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই পরীক্ষা যেন গতানুগতিক না হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে ৭১ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা মোটেই  ঠিক হবে না।

গোলটেবিল আলোচনায় অতিথি হিসেবে অংশ নেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ এবং ভাসানটেক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন।

অধ্যাপক ড সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, সরকার একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জীবনের চেয়ে পরীক্ষা বড় নয়। যেহেতু এই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের একটি বিষয় আছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হওয়াটা প্রয়োজন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল মনুষ্যসৃষ্ট সংকট। আর এটি প্রাকৃতিক। প্রকৃতি সৃষ্ট করোনা নামের এই মহামারীর সংক্রমণ ঠেকাতেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। সেই জীবন রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, সরকার দুটি সিদ্ধান্ত খুব ভালো নিয়েছে। একটি হল- যথাসময়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে দেয়া। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি খুব জটিল ছিল। আরেকটি হল- উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা না নেয়ার ঘোষণা।

তিনি বলেন, আমি বরাবর সব পরীক্ষায় ভালো করেছি। আমি পরীক্ষার পক্ষেরই মানুষ। এবার এইচএসসির ক্ষেত্রে একটু অন্যরকম হল। তবে পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিল। মানে তাদের পড়াশোনা যা করার, তা কিন্তু করেছিল। এই পরীক্ষা লাগে পরবর্তী পর্যায়ে ভর্তির জন্য। কিন্তু আমরা জানি সব বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা আলাদা পরীক্ষা নেয়। কাজেই এইচএসসির ফলাফলটা শুধু প্রাথমিক একটা বাছাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে ভর্তির প্রক্রিয়া কিছুটা শিথিল করে দিতে পারে।

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ নেহাল আহমেদ বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমি আমার সন্তানকে কোনোভাবেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠাব না। শুধুমাত্র সিলেবাস মানার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের জীবনকে আমি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারি না।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আকন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ পরিচালক সাজেদ ফাতেমী।