জাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রক্টরসহ আহত অর্ধশতাধিক

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

  জাবি প্রতিনিধি

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে সোমবার ক্লাস বর্জন করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে আনতে পুলিশ অ্যাকশনে গেলে সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইনসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

গুরুতর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল আউয়ালসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

সোমবার শিক্ষার্থীদের পূর্বনির্ধারিত সময় সকাল ১০টা থেকে অবরোধ শুরু হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচশতাধিক শিক্ষার্থী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তাদের একাধিকবার সরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যায়। টানা প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

এদিকে দুপুর পৌনে ১টার দিকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরবর্তীতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। কয়েক দফা সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

দুপুর ২টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সরে আসতে বলেন। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে সরে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়।

বিকাল সাড়ে ৩টায় ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা রাখা লজ্জার বিষয়। এই কোটা পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন।’ এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও সহিংস আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

এছাড়া আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয়বহন ও পরবর্তীতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা হলে ফিরে যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নুরুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শিক্ষক সমিতির মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করব।’