বেরোবিতে পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
jugantor
বেরোবিতে পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

  বেরোবি প্রতিনিধি  

২৪ নভেম্বর ২০২০, ২১:৪৯:৩৭  |  অনলাইন সংস্করণ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা আয়োজনের দাবিতে রংপুর-ঢাকা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

এর আগে ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা, বরখাস্ত প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধ, ক্যাম্পাসে ভিসির সার্বক্ষণিক অবস্থান ও ঢাকার লিঁয়াজো অফিস বন্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ক্যাম্পাসে সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বিরোধী হিসাবে পরিচিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠন ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন বিভাগের অনার্স চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনার্স চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা আয়োজনের দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সংহতি প্রকাশ করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধের ফলে ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।

এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষক নেতাদের উপস্থিতিতে দাবি পূরণের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।

অবরোধ প্রত্যাহারের পর শিক্ষার্থী মারুফ ভুঁইয়া, মাহমুদ মিলন, রিপন, জাকিরসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও এখনও পর্যন্ত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

তারা আরও বলেন, আমরা চার বছরের অনার্স কোর্স সাত বছর হলেও এখন পর্যন্ত আমরা অনার্স সম্পন্ন করতে পারিনি।

অবরোধকালে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনের বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান শিক্ষার্থীদের এমন দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, আগামী দুই এক দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করে দ্রুত পরীক্ষা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আগামী পরশুর মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হলে বড় ধরণের আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের ব্যানারে সমাবেশ করেন ভিসি বিরোধীরা। সমাবেশ শেষে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মতিউর রহমান ভিসির বিরুদ্ধে চ্যান্সেলর কর্তৃক নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করে মাসকে মাস ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি, আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতাসহ অর্ধশতাধিক অভিযোগ করেন।

তিনি ভিসির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে ঢাকার লিয়াজো অফিসে সিন্ডিকেট সভা, নিয়োগবোর্ডসহ সব সভা করে প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকা অপচয়ের অভিযোগ করেন। অন্যদিকে মঞ্জুরি কমিশনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সদ্য নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বুনিয়াদী কোর্সের নামে ঢাকায় রেখে ভিসি ব্যক্তিগত কাজ করান বলে দাবি এই শিক্ষক নেতার।

তিনি বলেন, ভিসি ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থেকে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে। একাই একাধিক পদ আঁকড়ে রাখা ছাড়াও রেজিস্টার এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ দাবি করে রেজিস্টার এবং প্রকৌশলী ক্যাম্পাসে না থেকে বেতন ঢাকায় বসে তোলার অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৪ জুন চার বছরের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ১৫ জুন।

বেরোবিতে পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

 বেরোবি প্রতিনিধি 
২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা আয়োজনের দাবিতে রংপুর-ঢাকা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

এর আগে ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা, বরখাস্ত প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধ, ক্যাম্পাসে ভিসির সার্বক্ষণিক অবস্থান ও ঢাকার লিঁয়াজো অফিস বন্ধ করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ক্যাম্পাসে সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বিরোধী হিসাবে পরিচিত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠন ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্কের মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন বিভাগের অনার্স চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনার্স চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা আয়োজনের দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সংহতি প্রকাশ করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধের ফলে ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সড়ক বন্ধ হয়ে যায়।

এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষক নেতাদের উপস্থিতিতে দাবি পূরণের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।

অবরোধ প্রত্যাহারের পর শিক্ষার্থী মারুফ ভুঁইয়া, মাহমুদ মিলন, রিপন, জাকিরসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও এখনও পর্যন্ত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

তারা আরও বলেন, আমরা চার বছরের অনার্স কোর্স সাত বছর হলেও এখন পর্যন্ত আমরা অনার্স সম্পন্ন করতে পারিনি।

অবরোধকালে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনের বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান শিক্ষার্থীদের এমন দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, আগামী দুই এক দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করে দ্রুত পরীক্ষা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আগামী পরশুর মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় না হলে বড় ধরণের আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ক্যাম্পাসের ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের ব্যানারে সমাবেশ করেন ভিসি বিরোধীরা। সমাবেশ শেষে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মতিউর রহমান ভিসির বিরুদ্ধে চ্যান্সেলর কর্তৃক নিয়োগের শর্ত ভঙ্গ করে মাসকে মাস ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি, আর্থিক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতাসহ অর্ধশতাধিক অভিযোগ করেন।

তিনি ভিসির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে ঢাকার লিয়াজো অফিসে সিন্ডিকেট সভা, নিয়োগবোর্ডসহ সব সভা করে প্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকা অপচয়ের অভিযোগ করেন। অন্যদিকে মঞ্জুরি কমিশনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সদ্য নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বুনিয়াদী কোর্সের নামে ঢাকায় রেখে ভিসি ব্যক্তিগত কাজ করান বলে দাবি এই শিক্ষক নেতার।
 
তিনি বলেন, ভিসি ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থেকে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে। একাই একাধিক পদ আঁকড়ে রাখা ছাড়াও রেজিস্টার এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ দাবি করে রেজিস্টার এবং প্রকৌশলী ক্যাম্পাসে না থেকে বেতন ঢাকায় বসে তোলার অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৪ জুন চার বছরের জন্য বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। যার মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের ১৫ জুন।