কোটা সংস্কার দাবিতে চবিতে ক্লাস বর্জন, শাটল ট্রেন অবরোধ

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০১৮, ২২:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  চবি প্রতিনিধি

কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন অবরোধ, ক্লাশ বর্জন ও প্রধান ফটক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ষোলশহর স্টেশনে শাটল ট্রেনটি আটকে রাখেন তারা। এ সময় আন্দোলনকারীরা ষোলশহর স্টেশনে রেললাইনে শুয়ে পড়লে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গামী প্রথম তিনটি ট্রেন ছেড়ে গেলেও সাড়ে ১০টার শাটলটি আর ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রধান ফটক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা।

এদিকে কোটা সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করারও ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি নগরীর ষোলশহরে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করছে আন্দোলনকারীরা।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে রাস্তায় নেমে পড়েন। এ সময় তাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে আন্দোলনে নেমে পড়ে। এ সময় পরীক্ষারত রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা না দিয়ে আন্দোলনে এসে জড়ো হয়ে।

একসময় হাজার হাজার শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয় বাণিজ্য অনুষদ, কলা অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ এবং জিরো পয়েন্ট ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের ছাত্র তাওসিফ মেহেদী বলেন, সকাল ১০টায় স্যারেরা ক্লাস নিতে এলে আমরা না করে বের হয়ে যাই। পুরো বিভাগের সবাই এক্ত্র হয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে যাই। পরে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস বর্জন করে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. আরজু বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছি। সকাল থেকে প্রত্যেক বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে। আমাদের সঙ্গে অনেক শিক্ষকও যোগ দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মহসিন মজুমদার বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক খালেদ মেছবাহুল রবিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগেই ক্লাশ পরীক্ষা হয়নি। তবে কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ষোলশহর স্টেশনে শাটল ট্রেনটি আটকে রাখেন তারা। এ সময় আন্দোলনকারীরা ষোলশহর স্টেশনে রেললাইনে শুয়ে পড়লে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে সকাল ৮টা, সাড়ে ৯টার শাটল ছেড়ে গেলেও সাড়ে ১০টার শাটলটি আর ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি।

ষোলশহর স্টেশনের মাস্টার বলেন, সকাল থেকে দুটি ট্রেন ছেড়ে গেলেও সাড়ে ১০টার ট্রেনটি শিক্ষার্থীরা আটকে দিয়েছে। ফলে পরবর্তীতে ষোলশহর স্টেশন থেকে আর কোনো ট্রেন ছেড়ে যায়নি।