মুধুদার ভাস্কর্যের কান ভেঙে দেয়ার অভিযোগ
jugantor
মুধুদার ভাস্কর্যের কান ভেঙে দেয়ার অভিযোগ

  ঢাবি প্রতিনিধি  

০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৪:৫০:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

মুধুদার ভাস্কর্যের কান ভেঙে দেয়ার অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহ্যবাহী মধুর ক্যান্টিনের সামনে অবস্থিত মধু দা'র ভাস্কর্যের কান রাতের অন্ধকারে ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তবে আদৌ কেউ পরিকল্পিতভাবে বা খামখেয়ালিপনার বসে ভেঙেছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ বিষয়ে ক্যান্টিনের বর্তমান পরিচালক অরুণ চন্দ্র দে বলেন, গত বুধবার সকালে আমি ভাস্কর্যটির একটি কান ভাঙা দেখি। এটি কেউ ভেঙেছে বলে আমার মনে হয়। কারণ এর আগের দিন (মঙ্গলবার) রাতেও ভাস্কর্যটি অক্ষত অবস্থায় দেখেছি। পরে বিষয়টি নজরে এলে প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানীকে জানানো হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্য এসে ভাস্কর্যে বুধবার রাতে নতুন কান স্থাপন করেন।

মধুর ক্যান্টিনের কর্মচারী মো. রুবেল (মাইকেল) জানান, পরশু ভাস্কর্যের কান ভাঙা দেখতে পাওয়া যায়। কখন ভেঙেছে এটি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। অনুমান করা হচ্ছে রাতের অন্ধকারে হয়েছে।

মধু দা'র ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ভাঙচুর শব্দটা ঠিক বলা যাবে না। রাতে এটা সম্পর্কে আমি অবহিত হয়েছি যে, মধুর ক্যান্টিনের সামনে মধু দা’র যে দুটি ভাস্কর্য রয়েছে; তার একটির বাম পাশের কান কেউ পরিকল্পিতভাবেও হতে পারে বা খামখেয়ালিপনার বসে ভেঙেছে কিনা; সেটির দেখার জন্য প্রক্টর টিমকে অবহিত করা হয়। এ দুটি বিষয়কেই আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য বলেছি। তবে এ ধরনের বিষয় কোনোভাবেই আমাদের কাছে কাম্য নয়।

মধুর রেস্তোরাঁ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট ভবনের সামনে অবস্থিত। এটি ‘মধুর ক্যান্টিন’ নামে অধিক পরিচিত।

১৩৭৯ বঙ্গাব্দের ২০ বৈশাখ ক্যান্টিনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালে মধুর ক্যান্টিন পাক বাহিনীর রোষানলে পড়ে। এরই সূত্র ধরে ’৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন মধুর ক্যান্টিনের তৎকালীন কর্ণধার মধু দা, তার স্ত্রী, বড় ছেলে ও তার নববিবাহিত স্ত্রী।

তার স্মরণে ক্যান্টিন প্রাঙ্গণেই নির্মিত হয় শহীদ মধু দা'র স্মৃতি ভাস্কর্য। ভাস্কর্যটির গায়ে লেখা রয়েছে– ‘আমাদের প্রিয় মধু দা’ বাক্যটি।

এর ভাস্কর হলেন তৌফিক হোসেন খান। ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল তৎকালীন উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন।

তবে পরে এটি পুনঃনির্মাণ করা হয় এবং ২০০১ সালের ১৭ মার্চ পুনঃনির্মিত ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন উপাচার্য একে আজাদ চৌধুরী।

মুধুদার ভাস্কর্যের কান ভেঙে দেয়ার অভিযোগ

 ঢাবি প্রতিনিধি 
০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মুধুদার ভাস্কর্যের কান ভেঙে দেয়ার অভিযোগ
ছবি: যুগান্তর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহ্যবাহী মধুর ক্যান্টিনের সামনে অবস্থিত মধু দা'র ভাস্কর্যের কান রাতের অন্ধকারে ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

তবে আদৌ কেউ পরিকল্পিতভাবে বা খামখেয়ালিপনার বসে ভেঙেছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

এ বিষয়ে ক্যান্টিনের বর্তমান পরিচালক অরুণ চন্দ্র দে বলেন, গত বুধবার সকালে আমি ভাস্কর্যটির একটি কান ভাঙা দেখি। এটি কেউ ভেঙেছে বলে আমার মনে হয়। কারণ এর আগের দিন (মঙ্গলবার) রাতেও ভাস্কর্যটি অক্ষত অবস্থায় দেখেছি। পরে বিষয়টি নজরে এলে প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানীকে জানানো হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্য এসে ভাস্কর্যে বুধবার রাতে নতুন কান স্থাপন করেন।

মধুর ক্যান্টিনের কর্মচারী মো. রুবেল (মাইকেল) জানান, পরশু ভাস্কর্যের কান ভাঙা দেখতে পাওয়া যায়। কখন ভেঙেছে এটি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। অনুমান করা হচ্ছে রাতের অন্ধকারে হয়েছে।

মধু দা'র ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ভাঙচুর শব্দটা ঠিক বলা যাবে না। রাতে এটা সম্পর্কে আমি অবহিত হয়েছি যে, মধুর ক্যান্টিনের সামনে মধু দা’র যে দুটি ভাস্কর্য রয়েছে; তার একটির বাম পাশের কান কেউ পরিকল্পিতভাবেও হতে পারে বা খামখেয়ালিপনার বসে ভেঙেছে কিনা; সেটির দেখার জন্য প্রক্টর টিমকে অবহিত করা হয়। এ দুটি বিষয়কেই আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য বলেছি। তবে এ ধরনের বিষয় কোনোভাবেই আমাদের কাছে কাম্য নয়।

মধুর রেস্তোরাঁ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট ভবনের সামনে অবস্থিত। এটি ‘মধুর ক্যান্টিন’ নামে অধিক পরিচিত। 

১৩৭৯ বঙ্গাব্দের ২০ বৈশাখ ক্যান্টিনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালে মধুর ক্যান্টিন পাক বাহিনীর রোষানলে পড়ে। এরই সূত্র ধরে ’৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন মধুর ক্যান্টিনের তৎকালীন কর্ণধার মধু দা, তার স্ত্রী, বড় ছেলে ও তার নববিবাহিত স্ত্রী।

তার স্মরণে ক্যান্টিন প্রাঙ্গণেই নির্মিত হয় শহীদ মধু দা'র স্মৃতি ভাস্কর্য। ভাস্কর্যটির গায়ে লেখা রয়েছে– ‘আমাদের প্রিয় মধু দা’ বাক্যটি। 

এর ভাস্কর হলেন তৌফিক হোসেন খান। ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল তৎকালীন উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন। 

তবে পরে এটি পুনঃনির্মাণ করা হয় এবং ২০০১ সালের ১৭ মার্চ পুনঃনির্মিত ভাস্কর্যের উদ্বোধন করেন উপাচার্য একে আজাদ চৌধুরী।