স্থগিতের সাড়ে ৪ ঘণ্টা পরেই ফের আন্দোলনে রাবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৮, ২২:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের একাংশ কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণার সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যেই আবার আন্দোলনে নেমেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চারটি ইস্যুতে সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে আবারো আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলা, সরকারের আশ্বাসের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সাংঘর্ষিক বক্তব্য, ঢাকায় আটককৃত আন্দোলনকারীদের ছেড়ে না দেয়া ও অসুস্থদের চিকিৎসার দায়িত্ব না নেয়ায় ফের আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়।

সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের রাবি শাখার সমন্বয়ক যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে চার ইস্যুতে আবারো আন্দোলনে নেমেছি। এর অংশ হিসেবে বুধবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।’
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, সরকারের আশ্বাসে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে আগামী ৭ মে পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।

অপরদিকে, বামপন্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের একাংশ দুপুর ২টায় পরিবহন মার্কেটের সামনে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে। তারা দাবি করে- শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা কোটা সংস্কারের আন্দোলন করছে। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রেখে বুধবার বেলা ১১টায় বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি পূরণে স্পষ্ট বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত রাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তারা।

দু’গ্রুপের রেষারেষির মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে আন্দোলন চললেও দুপুরে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেল মহড়া দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে গোটা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসসহ আশেপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হয়। পরে সেখানে বিভিন্ন বিভাগের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্যারিস রোড হয়ে প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে যাওয়ার চেষ্টা করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে তারা পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এ সময় প্রধান ফটকে যাওয়ার দুটি রাস্তায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান নেয়। ফলে আন্দোলনকারীরা সিনেট ভবনের সামনে জোহা চত্বর এলাকায় অবস্থান নিয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

দুপুর ১২টার দিকে পুলিশি বেষ্টনী ভেঙে প্রধান ফটকে যাওয়ার পক্ষে মত দেয় বাম ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন নেতা। তবে মূল আন্দোলনকারীরা তা করতে রাজি না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়।

একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এরপরই কর্মসূচি স্থগিত করে শিক্ষার্থীদের ফিরে যেতে বলে ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র রাবি শাখার সমন্বয়ক মাসুদ মোন্নাফ। তারা মাইক নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে সেখানে আরেকটি মাইক নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের ১০-১২ জন নেতাকর্মী। এসময় সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মহড়া দেয়া শুরু করে। এতে আন্দোলনকারীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়।

দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনকারীদের সাড়া না পেয়ে বামপন্থী গ্রুপটিও কর্মসূচি শেষ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া বের করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তারা বাম ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন কটূক্তিমূলক কথাবার্তা বলতে থাকে। তাদেরকে ‘দুর্বৃত্ত’আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়া করার হুমকি দেয় ছাত্রলীগ।